‘জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব মেলানো যাচ্ছে না’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ছবি-সংগৃহীত

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী

সকালে ছেলের টিফিনের জন্য ৩০ টাকা দিচ্ছিলাম। ছেলে বললো, তাদের ক্যান্টিনে এখন ৫০ টাকার নিচে কিছু পাওয়া যায় না। ছেলেমেয়ের দুজনকে টিফিন বাবদ দিনে ১০০ লাগলে ছুটির দিন বাদে ২২ দিনে অন্তত ২২০০ টাকা। গৃহপরিচালিকা সাফ জানিয়ে দিলেন সবকিছুর খরচ বেড়েছে তাকে আগামী মাস থেকে বেতন আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে।

বাজারে ঢুকলে মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। কাঁচামরিচের দাম ৩০০ টাকা। যেকোনো ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। মাছের দামও আকাশচুম্বী। ইলিশ মাছ কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ডিম ডজনে বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি আড়াইশ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে অন্তত ৬০ টাকা। গণপরিবহনে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছেমতো। সিএনজিচালিত বাস-অটোরিকশাও পাল্লা দিয়ে বাড়িয়েছে ভাড়া। আলোচনার বাইরে নীরবে বেড়েছে জীবন রক্ষাকারী সব ধরনের ওষুধের দাম।

সবাই যেহেতু বাড়াচ্ছে করপোরেট কারবারিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন কেন? সুযোগ বুঝে তারাও ট্রুথপেস্ট, সাবান, শ্যাম্পুসহ সব ধরনের গ্রোসারি ও টয়লেট্রিজের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন পিস প্রতি ১৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। অজুহাত পরিবহন খরচ ও ডলারের দাম বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের সব হিসাবে গরমিল করে দেওয়া হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, সরকার তেলের ব্যবসা করতে গিয়ে মানুষের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে। সংসার খরচের নানা দিক কাটছাঁট করেও হিসাব মিলছে না মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তদের। দরিদ্র মানুষের অবস্থা আরও করুণ। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ও উৎপাদন খরচ মিলিয়ে পণ্যমূল্য যতটুকু বাড়ার কথা, বেড়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। বাজারের এই নৈরাজ্য ঠেকাতে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ব্যর্থ।

আবার আছে বৈপরীত্য। আগারগাঁও কাঁচাবাজারের পাশেই চোখ আটকে গেল ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড লাগানো প্রাডো মডেলের গাড়িতে। এক স্কুলছাত্রীকে নামিয়ে খালি গাড়ি নিয়ে সাঁই সাঁই করে চললেন চালক। হয়তো পদস্থ কোনো সরকারি কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ গাড়িটি নিয়ম ভেঙে তেল পুড়িয়ে তার মেয়েকে নামালেন। এরাই জনগণের টাকায় বিলাসীজীবন ভোগ করছেন। এদের গাড়ি, বাড়ি, অফিস সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এরা বাজারের তাপ টের পায় না। তাই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতেও এদের গায়ে লাগে না।

তেলের ব্যবসা করতে গিয়ে যাপিতজীবনে আগুন লাগাচ্ছেন! এই আগুন ছড়িয়ে গেলে শুধু ক্ষমতার মসনদ নয়, অনেকের শরীরও হয়তো পুড়তে পারে। এসব চিন্তা করছেন না বলেই কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের মানুষ বেহেস্তে আছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলছেন, দ্রব্যমূল্য বাড়ায় এখনও কেউ না খেয়ে মারা যায়নি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, মানুষের গায়ে এখনও জামাকাপড় আছে। হ্যাঁ, তা হয়তো ঠিক। মানুষ খেয়ে-পরে বেঁচে আছে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে কতদিন এ পরিবেশ বজায় থাকবে তা বলা মুশকিল। আর মানুষের গায়ে জামা ওঠার পরিস্থিতি না থাকলে অনেকের স্যুট-টাইও খসে পড়বে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। শ্রীলঙ্কায় তেমনই দেখা গেছে। তাই দেশের সংকটময় পরিস্থিতেতে মানুষকে নিয়ে তামাশা না করে মন্ত্রীদের মুখে লাগাম দেওয়াই মঙ্গল।

তেলের দাম বাড়ানোর কারণ হিসাবে সবচেয়ে হাস্যকর যুক্তি তুলে ধরেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ভারতে পাচার ঠেকাতে তেলের দাম পশ্চিমবঙ্গের সমান করেছেন মাত্র। এরপর থেকেই তার এ বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হচ্ছে।

নেটিজেনরা বলছেন, তেল কি ব্যাগে ভরে পাচার করার জিনিস। আর আপনারা যদি জানেনই তেল পাচার হচ্ছে তাহলে তা ঠেকাচ্ছেন না কেন? বিজিবির কাজ কী? জানার পরও পাচার না ঠেকিয়ে দাম বাড়িয়ে দেশের মানুষকে কোন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। আর পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু এখনও দুশো টাকা হলে ব্যাগভর্তি কাঁচাবাজার করা যায়। আগে এটা নিশ্চিত করে পরে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা দিন।

ফেসবুক লিংক- www.facebook.com

(লেখা- বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

জেএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।