‘যারা অন্যায়ভাবে ট্রেন দখল করে তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ, আফসোস’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২

মাহবুব কবীর মিলন

অনেক বছর আগের কথা। সম্ভবত ’৭৮/৭৯ সালের দিকে হবে। বাহাদুরাবাদ এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে রংপুর যাচ্ছি। এই ট্রেন বিকাল ৩/৩.৩০ (মনে নেই) চট্টগ্রাম ছেড়ে জামালপুর বাহাদুরাবাদ ঘাট যেত। এরপর ফেরি পার হয়ে তিস্তামুখ ঘাট দিয়ে রংপুর যেতাম।

সেবার চট্টগ্রাম থেকে রংপুর টিকিট পেলাম না। টিকিট পাওয়া গেলো চট্টগ্রাম হতে বোনারপাড়া পর্যন্ত। পথে ট্রেনের অনেকেই সান্ত্বনা এবং নির্ভয় দিলো, বোনারপাড়া থেকে রংপুর সামান্য পথ, তাই আর টিকিট কাটা লাগবে না। কেউ চেক করবে না। কাজেই বোনারপাড়া পর্যন্ত কাটা টিকিট দিয়েই রংপুর চলে যেতে পারবো।

সারাপথ আশঙ্কায় বাড়ি যাচ্ছি, এ আনন্দ মাটি হয়ে গেলো। আমি সিদ্ধান্তে অটল। টিকিট কাটবই। বোনারপাড়া গিয়ে ইঞ্জিন চেঞ্জ হয়। ট্রেনে এক অংশ নিয়ে ইঞ্জিন চলে যায় বগুড়ার দিকে। রংপুরের অংশে আর একটি ইঞ্জিন লাগানো হয়। সামান্য সময় পাওয়া যায় তাতে।

নেমেই দৌড়ে গেলাম বোনারপাড়া টিকিট কাউন্টারে। কয়েকজনের ভিড় দেখে পিছন থেকে কাউন্টার ক্লার্ককে চিৎকার করে বিষয়টি বলে দ্রুত আমাকে বোনারপাড়া-রংপুর টিকিট দিতে বললাম। কাউন্টারে লাইনে থাকা দুইজন বললো, লাগবে না, আগের টিকিট দিয়েই চলে যান। আমি দাঁড়িয়ে আছি। কাউন্টার সহকারী হেসে ওনাদের বাদ দিয়ে আমাকে টিকিট করে দিলো।

বাবা-মা থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি, তা এখনো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছি। আমাকে যদি হেঁটে যেতে হয়, তাই যাবো। যদি অন্য রাস্তা থাকে তাই করবো, দরকার হলে পরীক্ষা দেবো না, তবুও বিনা টিকিটে বা অন্যায়ভাবে ট্রেন থামিয়ে বিনা টিকিটে বা দাঁড়িয়ে যাবো না।

এখন যা দেখছি, খুব আতঙ্ক এবং হতাশা লাগে বিনা টিকিটে বা অন্যায়ভাবে যাওয়া আমাদের নেক্সট জেনারেশনকে দেখে। যারা অন্যায়ভাবে গোটা ট্রেন দখল করে ফেলে, তাদের হাতে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ, এদের হাতে আমাদের হাল। আফসোস!!

বিনা টিকিটে যাত্রাকে এরা জাস্টিফাই করে রেলের অনিয়মের উদাহরণ দিয়ে। এক অনিয়ম দিয়ে অন্য অনিয়মকে কখনোই জাস্টিফাই করা যায় না।

রেলের সীমিত সম্পদ ও ক্ষমতা দিয়ে নিয়মের মধ্য থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে, এটাই নিয়ম। আমাদের সংবিধানেও নেই, কোনো আইনেও নেই যে, রেল বাধ্য, সবাইকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে। রেল এমন দস্তখত কাউকেই দেয়নি।

রেলের টিকিট পাবেন না, আপনি কীভাবে গন্তব্যে যাবেন, হেঁটে না দৌড়ে, নাকি হামাগুঁড়ি দিয়ে, না বাসে অথবা প্লেনে, সেটা আপনার বিষয়। আপনি তো ট্রেন দখলে নিতে পারেন না। যাত্রীর ঘাড়ে, সিটের ওপর দাঁড়িয়ে, মাল রাখার হ্যাঙ্গারে শুয়ে বসে যেতে পারেন না।

আর দশজনে অন্যায় করলো বলে আমি অন্যায় করতে বা আমার অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গাইতে পারি না। এই ভয়াবহ অনিয়মে অভ্যস্ত প্রজন্মকে কঠিনভাবে দমন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করাতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত অন্ধকার। আর এর দায় আমাদেরই নিতে হবে।

(অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলনের ফেসবুক স্ট্যাটাস)।

বিএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।