জেলে ঢোকানো হবে ট্রাম্পকে

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২১
অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান

অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান। কূটনৈতিক বিশ্লেষক। অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরবর্তী পার্লামেন্ট ভবন বা ক্যাপিটল হিলে পরাজিত প্রার্থী অর্থাৎ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা এবং নয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেক প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন জাগো নিউজের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রে নয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেক হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে যে নজিরবিহীন হামলা করল, অভিষেকের দিন এমন আশঙ্কা করছেন কি-না?

অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান: না। আপাতত আমি এমন হামলা বা সংঘাতের আশঙ্কাবোধ করছি না। জো বাইডেনের অভিষেক শান্তিপূর্ণ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সে প্রস্তুতি নিয়েছে বলেই দৃশ্যত প্রমাণ হচ্ছে।

ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকরা যে হামলা করেছে, তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং নজিরবিহীন ছিল। ট্রাম্প যা করলেন, তা অস্বাভাবিক এবং উন্মাদনার প্রকাশ। তার অনুসারীরা ট্রাম্পের নীতিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে মনে করি। কিন্তু তাই বলে বারবার একই উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে, তা মনে করি না।

জাগো নিউজ: ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এমন সংঘাত অন্যত্রও ঘটে। হামলার ঘটনা খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটেছে আগে। ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা আলাদা করে দেখছেন কেন?

এম শাহিদুজ্জামান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপট আর অন্য দেশের প্রেক্ষাপটকে আলাদা করে দেখতেই হয়। সেখানকার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনেক শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ভিত্তি এবং বৈধতাকে আলাদা করে দেখতেই হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তাদের সংবিধানের নৈতিকতা আর দশটি দেশের মতো নয়।jagonews24যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে পরাজিত প্রার্থী অর্থাৎ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের হামলাকে নজিরবিহীন বলছেন বিশ্লেষকরা

আমাদের সংবিধানও এমন ছিল। এখন কি তা বলতে পারবেন? একটি দলকে সুবিধা দেয়ার জন্য আমাদের সংবিধানকে ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। যে কারণে সংবিধান নিয়ে এ দেশে সমালোচনা হয় অনবরত। এমন সমালোচনা আর কোনো দেশেই পাবেন না। এমনকি ভারতেও না।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান জনগণের পক্ষে, আইনে প্রতিষ্ঠার পক্ষে। যে কারণে ট্রাম্প শয়তানি করলেও আইনের বিজয় হয়েছে। সেখানে সংবিধানের শক্তিকে কেউ অগ্রাহ্য করে না, বরং সবাই সহযোগিতা করে। পার্লামেন্ট, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সেনাবাহিনী এমনকি মিডিয়াও ন্যায়ের পক্ষে ছিল। এদেশের মতো মিডিয়াকে সেখানে বিক্রি হতে দেখবেন না। ওরা সততায় বিশ্বাস করে। ভোটে জনগণের রায়কে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করে। আমরা এবারও তাই দেখলাম। এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সে দেশের মানুষ সংবিধানে বিশ্বাস রাখে বলেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিপক্ষ যদি একই ধরনের আচরণ করতো, তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াতো!

জাগো নিউজ: আপনি সততায় বিশ্বাসের কথা বলছেন। কিন্তু ট্রাম্প সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রেরই নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চালিয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে এবং এসব নাগরিকদের সমর্থনকে পুঁজি করেই। তাহলে...jagonews24যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

এম শাহিদুজ্জামান: এমন উগ্র, বদমেজাজী মানুষ সব দেশেই আছে। ইউরোপেও গুণ্ডামি, হামলা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, উগ্রবাদীরা যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্বাচন বা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রভাব রাখতে পারছে কি-না? ট্রাম্পের বিচার হচ্ছে। এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশের কথা ভাবুন। ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের এভাবে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রেই সম্ভব এবং এটি সে দেশের জনগণের অর্জন।

জাগো নিউজ: অভিশংসনের লজ্জায় পড়েছেন ট্রাম্প। এবার কী হতে পারে?

এম শাহিদুজ্জামান: ট্রাম্পকে জেলে ঢোকানো হবে। ট্রায়াল হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রস্তাব সিনেটে ভোটে গেছে। জো বাইডেনের দায়িত্ব নেয়ার পর ফের সিনেটে ডাকা হবে ট্রাম্পকে। ট্রম্পের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছে। মামলার বিচারের মধ্য দিয়েও ট্রাম্প জেলে যাবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি।

এএসএস/এইচএ/জেআইএম

এদেশের মতো মিডিয়াকে সেখানে বিক্রি হতে দেখবেন না, ওরা সততায় বিশ্বাস করে, ভোটে জনগণের রায়কে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করে

মামলার বিচারের মধ্য দিয়েও ট্রাম্প জেলে যাবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]