ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফের পর্যালোচনা করবে সরকার

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে শোকের মাতম বইছে। প্রতিবাদে সরব বিভিন্ন মহল। একইসঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলেরও দাবি উঠছে।

এ প্রসঙ্গ নিয়েই জাগো নিউজের মুখোমুখি হয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি জানিয়েছেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফের পর্যালোচনা করবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ: লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারেই মারা গেলেন। যিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার ছিলেন...

আনিসুল হক: লেখক মুশতাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। খুবই দুঃখজনক। প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার। কারাগারে আটক থাকাবস্থায় মৃত্যু আরও বেদনার। আমি মর্মাহত।

জাগো নিউজ: ফের প্রশ্ন উঠছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে। এই আইন বাতিলের দাবিও জোরদার হচ্ছে...

আনিসুল হক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সঙ্গে লেখক মুশতাকের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে ডিজিটাল আইনের দোষটা কী?

jagonews24

শোনেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে সাইবার ক্রাইম বন্ধ করার জন্য। এই আইনে যেসব অপরাধকে নির্ধারণ করা হয়েছে, তার প্রায় সবই আমাদের পেনাল কোডেও আছে। দুই-একটি বাদে। এই কারণে একটি অ্যাক্টকে আমি খারাপ বলতে পারি না।

তার মৃত্যু তো ডিজিটাল আইনের কারণে হয়নি। তিনি জেলখানায় মারা গেছেন, এটি সত্য। যে কারণে আমিও মর্মাহত বলে শোক প্রকাশ করছি। অপরাধ করে থাকলে তার বিচার হবে। তাই না? এটুকুই তো বলতে পারি আমি।

জাগো নিউজ: মৃত্যু মানুষের অবধারিত বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, লেখক মুশতাক আহমেদ বারবার জামিন আবেদন করলেও আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। আর খারিজ হয়েছে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’র ক্ষমতাবলেই।

আনিসুল হক: এটিও তো আদালতের ব্যাপার। এখানে আমি আর কী বলব আপনাকে?

জাগো নিউজ: ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বিশেষ আইন বলেই আটককৃতদের জামিন মিলছে না। আর এ কারণেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘কালা কানুন’ বলছেন কেউ কেউ।

আনিসুল হক: মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘কালা কানুন’ বলছে না। আপনাদের মতো কিছু কিছু মানুষ বলছে। এটি আপনার ব্যক্তিগত অভিমত। ঠিক আছে। যার যার জায়গা থেকে মতামত ব্যক্ত করতেই পারেন।

jagonews24

সাংবাদিকরা কি সবাই দায়িত্বশীল? কোনো কোনো দায়িত্বহীন সাংবাদিকের কারণে তো আপনাদেরও বিপদে পড়তে হয়। আপনাদেরও তো সোচ্চার হওয়া দরকার।

জাগো নিউজ: এরপরও জানতে চাইছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের কোনো ভাবনা আছে কি-না?

আনিসুল হক: আপনাকে একটা খবর দিই। তা হচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকার ফের পর্যালোচনা করবে। আমি ইতোমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আবারও শিগগিরই আলোচনায় বসব।

শুধু সাইবার ক্রাইম কিভাবে বন্ধ করা যায়, তার ওপর জোর দিয়ে আইনের সংশোধন হতে পারে। আমি নিজেও তো সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়েছি। আপনি নিজেও হতে পারেন। তখন আমি আপনার সুরক্ষা দেব কোথা থেকে? আমি আবারও বলছি, এই আইনের যেন অপব্যবহার না করা হয়।

জাগো নিউজ: আপনি মনে করছেন, এই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে?

আনিসুল হক: সব আইনেরই কিছু না কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহার হয়। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। এমন অসঙ্গতি তো সর্বত্রই দেখি। একজন খুন না করেও খুনের আসামি হন। এখানেও তো আইনের অপব্যবহার। এই অপব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। আমরা একদিন সফল হবো।

এএসএস/এইচএ/জেআইএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে সাইবার ক্রাইম বন্ধ করার জন্য

শুধু সাইবার ক্রাইম কিভাবে বন্ধ করা যায়, তার ওপর জোর দিয়ে আইনের সংশোধন হতে পারে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]