Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সরকার এখন অধিক আত্মবিশ্বাসী


সায়েম সাবু, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫:০৩ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৭:৪৪ এএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার
সরকার এখন অধিক আত্মবিশ্বাসী

গহীন পদ্মার বুক চিরে প্রতিদিন স্বপ্ন বুনন হচ্ছে। রাজধানীতে মেট্রোরেলের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। খাদ্যনিরাপত্তায় প্রশংসা মিলছে বিশ্ব সংস্থার। জঙ্গি-সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স। কৌশলী পররাষ্ট্রনীতিতে বিরোধী শিবিরকেও বাগে আনতে সক্ষম হচ্ছে সরকার। সরকারের সফলতা আর এগিয়ে যাওয়ার কথা মিলছে জনমুখেও।

বর্তমান সরকারের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ (১২ জানুয়ারি)। বিতর্কিত এক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ২০১৪ সালের এই দিনে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বিরোধী শিবিরকে অবরুদ্ধ করে রাজনীতির মাঠে এখন শুধুই আওয়ামী লীগ। সরকারের মারমুখী অবস্থানে বিরোধী জট পরাস্ত হয়ে অনেকটাই ঘরমুখো। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও অধিক আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সরকার। সরকারি দল আওয়ামী লীগ আর কাউকেই প্রতিপক্ষ ভাবছে না।

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এমনটি ছিল না। হালে পানি ছিল বটে, তবে পর্যাপ্ত নয়। শঙ্কা ছিল, ছিল উদ্বেগও। কী হতে যাচ্ছে? কলহের রাজনীতিতে দেশ কি ফের তিমিরে-এমন সব প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছিল দেশের রাজনীতি। শুরু ২০১৩ সালে। সর্বত্রই অনিশ্চয়তা। রাজনীতির মারমুখী অবস্থানে জনজীবন যেন ওষ্ঠাগত।

একদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির জোটগতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন, অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী এবং তার ছাত্র সংগঠন শিবিরের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে বন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন।

রাজনীতিতে চলতি শতকের বড় সংযোজন হেফাজতে ইসলাম আর গণজাগরণ। এসব মিলে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অস্থির সময় পার করে আওয়ামী লীগ সরকার।

অমন অস্থির ঘোরেই বিএনপিকে আটকে রেখে ফের মসনদে বসে মহাজোট সরকার। ওই নির্বাচন নিয়ে আগে-পরে দেশ-বিদেশে তখন তুমুল বিতর্ক। তবে নির্বাচন বিতর্ক থোরাই করেনি সরকার। পাশের দেশ ভারতকে সঙ্গে পেয়ে মহাজোট সরকার পায়ের মাটি শক্ত করতে থাকে।

ক্ষমতায় এসে হালে পানি নিয়ে সরকার উড়িয়ে দেয় আগাম নির্বাচনের দাবি। চাপা দেয় নিজেদের দেয়া প্রতিজ্ঞাও। নিয়ম রক্ষার নির্বাচনই হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার নির্বাচন। জাতীয় ওই নির্বাচনের পরপরই উপজেলা নির্বাচন দিয়ে সরকার স্থানীয় শক্তিকেও ভাগে আনতে থাকে। এরপরও সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু সরকারের দমনপীড়নের কাছে তা ধোপে টেকেনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, যেন এক অদম্য গতিতে। শঙ্কা, আতঙ্ক কাটিয়ে ফি মেয়াদের সরকার আজ অনেক আত্মবিশ্বাসী। যেন সমস্যাকে উপভোগ করার নীতি অবলম্বন করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র উভয়ে বিশ্বাসী। স্বাধীনতার পর এতো উন্নয়ন আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি। আমাদের আত্মবিশ্বাস আমাদের উন্নয়ন।

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন, রাজনীতি আর গণতন্ত্রের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের দায় আছে। এ দায়ের কারণেই আওয়ামী লীগ জনআস্থা তৈরিতে সক্ষম হচ্ছে। উন্নয়ন প্রশ্নেও আমরা যেমন আর কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না, তেমনি রাজনীতির মাঠেও না।

এএসএস/এএইচ/বিএ

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs