Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাদামতলী ঘাট : ৬ মাসে ওয়াটার বাস চলেছে মাত্র ১০ দিন


জসীম উদ্দীন, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:০৫ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
বাদামতলী ঘাট : ৬ মাসে ওয়াটার বাস চলেছে মাত্র ১০ দিন

যান্ত্রিক নগরীতে পরিবহন সমস্যা ক্রমেই প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। জীবন জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষকে কর্মস্থলে ছুটে বেড়াতে হয়। তীব্র যানজটের কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পাড়ার বেদনা নিত্যদিন নগরবাসীকে পীড়া দেয়। ২০১২ সালের কথা। ঘটা করে উদ্বোধন করা হয় রাজধানী ঘিরে থাকা নদীগুলোতে ওয়াটার বাস। লক্ষ্য ছিল রাজধানীবাসীর যাতায়াতে দুঃখ লাঘব করা। গাবতলী থেকে বাবুবাজার, বাদামতলী ও সদরঘাট পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার পথ যানজটমুক্ত, আরামদায়ক ও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। বিআইডব্লিউটিসির এ উদ্যোগে এক বুক স্বপ্নও বেঁধেছিল রাজধানীবাসী। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আশা যেন দুরাশায় রূপ নেয়। বর্তমানে প্রায় ব্যর্থ এ প্রকল্প। অপরদিকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাতিরঝিলে এফডিসি থেকে মেরুল বাড্ডা ও গুলশান গুদারাঘাটে সম্প্রতি চালু হওয়া ওয়াটার বাস সার্ভিস স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগণের মাঝে আশা জাগিয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতা থাকলে যে একটি প্রকল্প সফল হতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হাতিরঝিলের ওয়াটার সার্ভিস। জাগো নিউজের একঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মী সরেজমিন দুটি প্রকল্প ঘুরে এসে একাধিক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

গাবতলী থেকে কেরানীগঞ্জ কিংবা বাদামতলী পৌঁছাতে যাত্রীদের পোহাতে হয় অসহনীয় যানজট। যানজটমুক্ত ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ওয়াটার বাস। কিন্তু সে জনপ্রিয়তা ধোপে টিকেনি বেশি দিন। যাত্রায় ধীরগতি, অনিয়মিত সময়সূচি, সময়মতো বাস না পাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া ও সুবিধাজনক স্ট্যান্ডের অভাবে যাত্রী হারাতে থাকে এ নৌ সেবাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মব্যস্ত মানুষ নৌপথে গাবতলী থেকে সদরঘাট যেতে-আসতে বেছে নিয়েছিল নৌ-যানটি। প্রথমদিকে আরামদায়ক ভ্রমণে গন্তব্যে পৌঁছার নিশ্চয়তাও ছিল। তবে ক্রমাগতই তা অসহনীয় হয়ে ওঠে কর্তৃপক্ষের অবহেলায়।

Badamtoli1

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিসি (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন) ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করে দুটি ওয়াটার বাসের মাধ্যমে সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নৌ-পথে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করে।

ওয়াটার বাস সার্ভিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বাদামতলী। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, বাদামতলী থেকে মাত্র গাবতলী রুটে যাতায়াত করে ওয়াটার বাস।

সোমবার দুপুর থেকে বিকেল অবধি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে ছাড়েনি কোনো ওয়াটার বাস। যাত্রী থাকলেও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অলসভাবে ফেলে রাখা হয়েছে ওয়াটার বাস।

Badamtoli

বাদামতলীর ওয়াটার বাসচালক ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৬ জুন বিআইডব্লিউটিসি নতুন করে ইজারা দেয়। এরপর গত ছয় মাসে ওয়াটার বাস চলেছে মাত্র ১০ দিন। এর মধ্যে গত দুই ঈদে তিনদিন করে মোট ছয়দিন। ছোটগুলো মাঝে মধ্যে চলাচল করলেও বিশেষ করে বড় ওয়াটার বাসের যাত্রী নেই বললেই চলে। ইজারা নেয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, লোকসান করে ওয়াটার বাস চালাতে পারবেন না তারা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাদামতলীতে প্রথমে ভালোই ছিল ওয়াটার বাস সার্ভিসটি। দৈনিক ১৪টি ট্রিপ দিতো গাবতলী রুটে। এরপর ধীরে ধীরে এর সংখ্যা কমতে থাকে। গত নভেম্বরে ছয়টি পর্যন্ত ট্রিপ চললেও এখন চলাচলই করছে না। হঠাৎ দু-একটি ট্রিপ চলে।

Badamtoli

সিরাজুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, বড় ওয়াটার বাসের গতি কমিয়ে করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। বাদামতলী থেকে গাবতলী পথ আধা ঘণ্টা থেকে পৌনে ১ ঘণ্টার। কিন্তু সময় লাগছে দেড়-দুই ঘণ্টা। ছোটগুলোর গতি আরো ধীর। বাধ্য হয়ে ওয়াটার বাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন যাত্রীরা।

কথা হয় বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে নিযুক্ত চালক রহমানের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মালিককে ছয় মাসে দেখেছি তিনবার। কে যে মালিক আর কে যে চালাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার দিন গেলে বেতন। তাই কিছু বলার নাই।’

তিনি বলেন, এখানে যাত্রী কিংবা ওয়াটার বাসের অভাব নেই। অভাব মানসিকতায়। নিয়মিত ও সর্বোচ্চ সেবার মানসিকতা নিয়ে যদি ওয়াটার বাস সার্ভিস দেয়া যেত তাহলে লোকসানের কোনো কারণ আমি দেখি না।

Badamtoli

এক বছর ধরে ওয়াটার বাসের চালকের দায়িত্বপালনকারী আরেক চালক জাগো নিউজকে বলেন, এখান থেকে গাবতলী ওয়াটার বাসের যাতায়াত বাবদ ভাড়া ৪০ টাকা। যাত্রী আসে কিন্তু ফিরিয়ে দেয়া হয়।

বাদামতলী টার্মিনালের মূল ইজারাদার আশরাফুল ইসলাম। তবে মালিকানায় ও ওয়াটার বাস চালায় ইমরান ট্রেডার্স। ইমরান ট্রেডার্সের মালিক ইমরান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক শোনা মাত্র বড় ভাই পিকলু নামে একজনকে ধরিয়ে দেন।

Badamtoli

তিনি ব্যস্ত! জাগো নিউজকে বলেন, তেলে পোষাচ্ছে না। যাত্রী সব সময় এক রকম থাকে না। তাই সিডিউল অনুযায়ী ওয়াটার বাসও চলে না। লোকসান করে তো আর বাস চালাতে পারি না।

কতো টাকায় বিআইডব্লিওটিসির কাছ থেকে ইজারা পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

জেইউ/এসএইচএস/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs