‘সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ র‌্যাব’


প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর আজ। এই পাঁচ বছরেও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। প্রতিবেদন দাখিল না করায় র‌্যাবকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ও মামলার বাদী।
                 
এ বিষয় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচ বছরেও সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় ব্যর্থ তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। তদন্ত করতে না পারলে তারা সরে যাক। সিআইডি, পিবিআইসহ অনেক তদন্ত সংস্থা আছে তারা তদন্ত করতে পারে। এভাবে একটি আলোচিত হত্যা মামলা ঝুলে রাখার কোনো প্রয়োজন হয় না।

মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, অল্পদিনে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের হত্যা মামলার রায়সহ অনেক আলোচিত মামলারই রায় ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সাগর-রুনি  আলোচিত হত্যা মামলাটির রহস্য কেন এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি র‌্যাব। তাই আলোচিত হত্যা মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় ব্যর্থ র‌্যাব।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জাগো নিউজকে বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যা মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করতে হচ্ছে। তাই সময় বেশি লাগছে।
 
সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাজাহারুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ২১ মার্চ অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তলব করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। খুন হওয়ার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত  কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৪৫টি ধার্য তারিখ পার হয়েছে।

মামলায় আটজনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এর মধ্যে মিন্টু, কামরুল হাসান, বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম আবু সাঈদ ও এনাম আহম্মেদ কারাগারে। তবে পলাশ রুদ্র পাল ও তানভীর রহমান হাইকোর্ট থেকে জামিন রয়েছেন।

জেএ/এআর/জেএইচ/পিআর