Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৪ জুন ২০১৭ | ১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার নির্বাচন নিয়ে আশায় আ.লীগ শঙ্কায় বিএনপি


সিরাজুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, কুমিল্লা থেকে ফিরে

প্রকাশিত: ০২:৪৯ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৭, শনিবার | আপডেট: ০৬:৩০ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৭, শনিবার
কুমিল্লার নির্বাচন নিয়ে আশায় আ.লীগ শঙ্কায় বিএনপি

আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু। তবে কোনো অঘটন ছাড়াই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা।

শুক্রবার কুসিক নির্বাচনী এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে জাগো নিউজের কাছে নিজেদের এ সংশয় ও আশার কথা জানান নির্বাচনের প্রধান এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।

এদিকে প্রচারণা শুরুর তিনদিনের মাথায় উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে কুসিক নির্বাচন। এরই মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ও পরে দিনভর নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন তারা।

এদিন সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করতে দেখা যায়। কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বেলা ২টার পর থেকে প্রচারণা চালানো যায় না।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু দাবি করেছেন, সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তাকে প্রত্যাহারের দাবি করে সাক্কু বলেন, ‘এখনই তাকে প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘ইসি ও রিটার্নিং অফিসার কঠোর অবস্থান না নিলে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত সুন্দর হবে না। আমরা চাই ভোটাররা প্রত্যেকে নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাক।

নির্বাচনী এলাকার বিএনপির প্রার্থীর একাধিক কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দিচ্ছেন কিছু ব্যক্তি। এমনকি কুমিল্লা দক্ষিণের ওসি নজরুল ইসলাম তাদের মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচনী অফিস করতেও বাধা দিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায়ও বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তারা জানান, আওয়ামী লীগ সমাবেশ করলেও তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু বিএনপিকে পথসভা করতেও দেয়া হচ্ছে না।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কুর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক মো. কাইমুল হক রিংকু জাগো নিউজকে বলেন, ‘সদর থানা দক্ষিণের ওসি নজরুল ইসলামের আচরণ দলীয় কর্মীদের থেকেও ভয়ঙ্কর। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে তিনি প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ডিবি পরিচয়ে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সন্ধ্যা হয়ে গেছে; যার যার মতো বাসায় ফিরে যান।’

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির প্রার্থীর এমন অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিবউদ্দিন মণ্ডল জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে তিনি যথাযথা ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া এ বিষয়ে ওসি নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহ আবিদ হোসাইন টেলিফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু আছে। কোনো রকম হানাহানি, রেষারেষি নেই। আশা করি এখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার কাছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সুষ্ঠু পরিবেশে হয়েছে। এ নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে হবে। আমি এখন যেখানে যাচ্ছি, সেখানে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালোই। কেউ আমাকে এখন পর্যন্ত নিরাশ করেননি।’

সকাল থেকে মাইকে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি প্রোগ্রাম আছে। এখন কেউ যদি আমাকে দাওয়াত করে, তাহলে তো আমি যেতেই পারি।’

সীমার নির্বাচনী সমন্বয়ক নূর-উর-রহমান মাহমুদ তানিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মডেলে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন করতে চায়। দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে আমাদের এমন বার্তাই দেয়া হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তৃণমূল পর্যন্ত অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। নেতৃত্ব পর্যায়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও তৃণমূলে এর প্রভাব পড়বে না।’

নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিবউদ্দিন মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কর্মকর্তারা কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরেছেন।

সেখানে তারা বড় ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গ দেখতে পায়নি। টিমের সঙ্গে পুলিশের তিনটি গাড়িও ছিল। কোথাও কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, আমরা সেই বিষয়ে সচেষ্ট আছি। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এইচএস/এসআর/এনএফ/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs