Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নে বাধা সমন্বয়হীনতা


রফিক মজুমদার, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ১৯ মার্চ ২০১৭, রোববার | আপডেট: ০২:২৩ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৭, রোববার
উন্নয়নে বাধা সমন্বয়হীনতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, গ্রাউন্ড সার্ভিস ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করার পরও উন্নতি হচ্ছে না বিমানবন্দরের মানের। ফলে এখনো আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) তালিকায় ‘বি’ ক্যাটাগরিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এতে করে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চলাচল পুনরায় চালু করতে পারছে না রাষ্ট্রয়াত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড সার্ভিস সেবার মান এখনো আন্তর্জাতিক মানের নয়। কনভেয়ার বেল্ট থেকে শুরু করে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই রয়েছে সংকট। গ্রাউন্ড সার্ভিস সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা ও উন্নয়নের বিষয়ে কর্ণপাত করছে না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোর মধ্যে এখন সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। তাছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর লোকবলও পর্যাপ্ত নয়। বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকারও করেছেন সমন্বয়হীনতা এবং লোকবল সংকটের কথা। তবে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।

বেবিচক নিরাপত্তা শাখা সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত দুই ধরনের। কোর সিকিউরিটি বা ফিজিক্যাল সিকিউরিটি এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি বা নন-কোর সিকিউরিটি।

ফিজিক্যাল সিকিউরিটির আওতায় রয়েছে বিমানবন্দরের বাইরের এলাকা, রানওয়ে, অপারেশন টাওয়ার, রাডার স্টেশন, মার্কার, ভিওআর, লোকালাইজার, গ্লাইডপাথসহ সব ধরনের স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো। অন্যদিকে এভিয়েশন সিকিউরিটির আওতায় টার্মিনাল ভবন বা বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের সময় যাত্রীর দেহ তল্লাশি ও লাগেজ চেক, কার্গো চেক, স্ক্রিনিং, ফ্লাইট সেফটি এবং আনুষঙ্গিক কাজ।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের ফিজিক্যাল সিকিউরিটির দায়িত্বে রয়েছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এএপিবিএন)। অন্যদিকে সিভিল এভিয়েশনের অধীনে এভিয়েশন সিকিউরিটির দায়িত্বে আছে এভিয়েশন সিকিউরিটি গার্ড, অ্যাভসেক এবং আনসার বাহিনী। দেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান বাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স- অ্যাভসেক। এছাড়া, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন শাহজালালে।

আর্মড পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একজন পুলিশ সুপারের অধীনে আর্মড পুলিশ নিজেদের মতো করে কাজ করছে। এভিয়েশন সিকিউরিটি গার্ড ও আনসার সদস্যরা বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার অধীনে কাজ করছেন।

এদিকে, বিমান বাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স। অ্যাভসেক কাজ করছে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালকের অধীনে। এক সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে অন্য সংস্থার সদস্যদের মধ্যে রয়েছে বৈরী মনোভাব। ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তারা অনেকেই অন্য বাহিনীর অনিয়ম ধরতে ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো। নিয়ম রক্ষার জন্য প্রতি মাসে একবার সমন্বয় মিটিং হয় প্রত্যেক বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয়ের জন্য।

জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা সিভিল এভিয়েশনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নন ক্যাডার সহকারী পরিচালক পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা। আর্মড পুলিশের নেতৃত্বে রয়েছেন বিসিএস ক্যাডারের পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। অন্যদিকে অ্যাভসেকে বিমান বাহিনী, পুলিশ এবং আনসারের বিসিএস ক্যাডার সহকারী পুলিশ সুপার সম পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। পদ মর্যাদার সমতা না থাকায় সিনিয়র কর্মকর্তারা সিভিল এভিয়েশনের নন-ক্যাডার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে এড়িয়ে চলেন।

আবার সিভিল এভিয়েশন ও এপিবিএন সদস্যরা আলাদা ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। ফলে কোথাও ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সর্তক হওয়ার সুযোগ থাকে না। এখানেও রয়েছে সমন্বয়হীনতা।

জানা গেছে, গত বছরের ১৮ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন নন-ক্যাডার রাশেদা সুলতানা। এর আগে তিনি সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সহকারী পরিচালকের (নিরাপত্তার) দায়িত্বে ছিলেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে তার নামে স্বর্ণ চোরাচালানসহ বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অ্যাডমিন শাখা থেকে তার ব্যক্তিগত ফাইলটি পর্যন্ত খুঁজে পায়নি তদন্ত দল।

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি বিমানবন্দরে কর্মরত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে। সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে এটি ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা এখনো থাকতে পারে। সেগুলো আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয় করে ফেলব।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এএপিবিএন) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১শ’ এএপিবিএন সদস্য শাহজালালে দায়িত্ব পালন করছেন। ৫০ জন অস্ত্রধারীসহ ৭০৩ জন সদস্য বিমানবন্দরে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছে তিনি।

তবে বিমানবন্দর এএপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার (সিও) রাশেদুল ইসলাম বিমান বন্দরে সমন্বয়হীনতা আছে বলে মনে করেন না। এ বিষয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এখন জোরদার। ক্যাডার এবং  নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে প্রত্যেকেই আলাদা সংস্থা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে।

অন্যদিকে, একই জায়গায় কাজ করলেও সমন্বয়হীনতা থাকায় যাত্রীরা যথার্থ সেবা পান না বলে অনেকেই মনে করেন।

এ বিষয়ে রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যদের বিষয়ে বলব না। তবে এএপিবিএন সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অনেকাংশে বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে যাত্রীসেবার মান।’

আরএম/এসআর/জেডএ/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs