কর্মমুখর ডিএনএ ল্যাব এখন কর্মহীন


প্রকাশিত: ০৯:১৬ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৭
কর্মমুখর ডিএনএ ল্যাব এখন কর্মহীন

ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) স্থাপিত সদা কর্মচঞ্চল ন্যাশনাল ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এখন কর্মহীন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগেও ল্যাবটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুন, ধর্ষণ, পিতৃত্ব নির্ণয় ও অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে।

সোমবার সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ল্যাবটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ সবাই কর্মহীন অলস সময় কাটাচ্ছেন। গত ছয়দিন ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ছয়দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্ষণ, পিতৃত্ব  নির্ণয় ও কিডনি ম্যাচিংয়ের জন্য পুলিশ ও সাধারণ মানুষ মোট ২৩টি নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে আসলেও ল্যাব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করায় তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়েছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় ল্যাব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। জানুয়ারি থেকে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অথচ প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হবেন এমন আশায় গত সাত-আট বছর ধরে চাকরি করছেন তারা। বিডিআর বিদ্রোহ, তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিসহ বিভিন্ন ঘটনায় অসংখ্য ভিকটিমের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতার সঙ্গে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ল্যাবটি। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল দেশের বিচারপ্রার্থীদের সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তারা দাবি করেন।

আশীষ কুমার মজুমদার নামের এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, ইতোপূর্বে ২০১৩ সালে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরসহ কয়েক দফা দাবিতে তারা কর্মবিরতিতে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ডিএনএ আইন ২০১৪ কার্যকর হয়।

তিনি জানান, ডিএনএ আইনের তৃতীয় অধ্যায়ের ১৪নং অনুচ্ছেদের ৩নং উপধারায় বলা হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং চতুর্থ অধ্যায়ের ২০নং অনুচ্ছেদের ১নং উপধারায় ‘ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদফতর’ গঠনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া ২০১৩ সালের ১১ জুলাই ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির এক্সিকিউটিভ বোর্ডের নিয়মে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের তৃতীয় পর্বের মেয়াদ শেষ হয়। প্রকল্প পরিচালকের অনুরোধে তারা একই বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করেন। তাদের শতকরা ২৫ ভাগ বেতন কম দেয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরের  জানুয়ারি থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ। এ কারণে তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নমুনা না রেখে ফিরিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত ওসিসি থেকে অধিকাংশ নমুনা আসছে। পুলিশকে কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা যাবে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের ২৩ জানুয়ারি ল্যাবের যাত্রা শুরু। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালক বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।

এমইউ/ওআর/এমএস