Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, রোববার, ৩০ এপ্রিল ২০১৭ | ১৭ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাজানের কথায় ১৪ হাজার টাকায় ছাগল কিনে মাজারে এলেন রনি


মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১:২১ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৭, সোমবার | আপডেট: ১২:৫৯ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৭, মঙ্গলবার
বাজানের কথায় ১৪ হাজার টাকায় ছাগল কিনে মাজারে এলেন রনি

সোমবার মধ্য দুপুরে হাইকোর্টে প্রবেশপথের অদূরে কালো রংয়ের একটি ছাগলের গলায় বাঁধা রশি হাতে এদিক সেদিক উঁকি মারছিলেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মো. রনি। অদূরে একটি কাঠের পাটাতনের ওপর বসে আছেন এক বৃদ্ধাসহ জনা চারেক মধ্যবয়সী নারী, দুই তরুণী ও দুই শিশু। তারা সবাই হাইকোর্টের জনৈক  আলমগীর ওরফে আলম সাঁইজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

কিছুক্ষণ পর আলম সাঁইজিকে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। তালগাছের মতো লম্বা। ফতুয়া ও লুঙ্গি পরিহিত মধ্যবয়সী আলম সাঁইজিকে সবাই এগিয়ে এসে একে একে সালাম করলেন। রনি ভক্তিভরে ছাগলের রশি তুলে দিলেন তার হাতে। সাঁইজি হাইকোর্ট গেটের পাশে আগে থেকেই রাখা দুটি গরু ও একটি ছাগলের পাশে হাতের ছাগলটি বেঁধে শিষ্যদের মাঝে ফিরে এলেন।

এ প্রতিবেদক রনি নামের ওই যুবকের কাছে ছাগল নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, বাজানের কথায় ১৪ হাজার টাকায় ছাগলটা মাজারে উপহার দেয়ার জন্য কিনে এনেছেন। সে হাইকোর্টসহ বিভিন্ন মাজারে নিয়মিত যায়।
hcপারিবারিক একটা ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে সাঁইজির মাধ্যমে হাইকোর্টে খাজা শরফুদ্দিন চিশতির দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছিলেন। বিপদ থেকে মুক্তি পেলে এক দামে একটা ছাগল কিনে দরগায় উপহার দিতে তখন সাঁইজি বলেছিলেন। এ কারণে মা, খালা, নানি, বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নিদের সঙ্গে নিয়ে সাঁইজির সঙ্গে দেখা করতে  এসেছেন।

আলমগীর ওরফে আলম সাঁইজি। দীর্ঘকায় আলম সাঁইজির উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। ফতুয়া ও লুঙ্গি পরিহিত মধ্যবয়সী এই ব্যক্তি তার শিষ্যদের কাছে আলম সাঁইজি ও মাজারের সেবক হিসেবে পরিচিত।

আলমগীর ওরফে আলম সাঁইজির সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তিনি মূলত ১৯৮৩ সাল থেকে হাইকোর্টে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করছেন। চাকরির পাশাপাশি মাজারের সেবক হিসেবে বহু বছর যাবত রয়েছেন।
hcআলম সাঁইজি জানান, আজ ও আগামীকাল (সোমবার ও মঙ্গলবার) খাজা শরফুদ্দিন চিশতির বার্ষিক ওরস মাহফিল। এ উপলক্ষে খাজার ভক্তরা বিভিন্ন মানতে নানা উপহার-উপঢৌকন নগদ টাকা, গরু, ছাগল, চাল ও ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসেন।

অদূরে বেঁধে রাখা দুটি গরু ও দুটি ছাগল দেখিয়ে বলেন, দু’দিন রাতে এগুলো জবাই করে খিচুড়ি রান্না হবে। রাতে জিকির, কাউয়ালি মিলাদ, লালন ও বাউল  গানের আসর বসবে।

আলম সাঁইজি যখন কথা বলছিলেন তখন মাজারের পশ্চিম পার্শ্বে বটতলার অদূরে কয়েকজন নারী-পুরুষকে হারমোনিয়াম, তবলা, দোতরা হাতে গানের পাশাপাশি নাচতে দেখা যায়।
hcএগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, যারা গান গাইছেন তাদের মধ্যে ছয়জন মানিকগঞ্জের, কেউ কুষ্টিয়া আবার কেউবা যশোর থেকে ওরস মাহফিলে অংশগ্রহণ করতে এসেছেন।

অনেকেই তাদের গান শুনে খুশি হয়ে টাকা দেন। সেই টাকাতেই তারা খাওয়া-দাওয়ার খরচ মেটান বলে জানান মানিকগঞ্জ থেকে আগত গায়ক বশির আলী।
আলম সাঁইজি জানান, দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে কাউকে তিনি দাওয়াত দিয়ে আনেন কেউবা আবার নিজেরাই চলে আসেন। তারা সবাই খাজার ভক্ত বলে মন্তব্য করেন সাঁইজি।
এমইউ/বিএ

আপনার মন্তব্য লিখুন...