‘আফা, ঠোটে লিপস্টিক দিবা না, চোখে একটু কাজলও দ্যাও’


প্রকাশিত: ১১:৫৯ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৭
‘আফা, ঠোটে লিপস্টিক দিবা না, চোখে একটু কাজলও দ্যাও’

‘আফা, ঠোটে লিপস্টিক দিবা না, চোখে একটু কাজলও দিয়া সাজাইয়া দ্যাও।’ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টা। আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রাস্তার আইল্যান্ডে ময়লা তেল-চিটচিটে তোশকের বিছানায় শুয়ে আছে দুটি শিশু। একজনের বয়স আনুমানিক পাঁচ বছর, অপরজনের বড় জোর সাত কিংবা আট বছর। ছোট মেয়েটি তাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে বড় মেয়েটির কাছে বায়না ধরলে এ কথাগুলো বলতে শোনা যায়।

আবদার মেটাতে বড় মেয়েটি মাথার কাছে রাখা একটি প্লাস্টিকের বয়ামের ঢাকনা খুলে লিপস্টিক, নেইলপলিশ আর কাজল বের করে। বেশ কিছুটা সময় নিয়ে আপনমনে ছোট মেয়েটির ঠোটে লিপস্টিক ও চোখে কাজল লাগিয়ে দেয়।
mmএ সময় তোশকের নিচ থেকে ভাঙা একটি আয়না বের করে তাতে নিজের চেহারা দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে ছোট শিশুটি দুষ্টুমি শুরু করে। তখন বড় মেয়েটিকে একটু রাগত স্বরে ছোট মেয়েটিকে দ্রুত ঘুমানোর নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে জোর করে বিছানায় শুইয়ে দেয়।

রাস্তার আইল্যান্ডে দু’পাশের রিকশা, মোটরসাইকেল, টেম্পো ও প্রাইভেটকারের হেডলাইট ও হর্নের শব্দে শিশু দুটিকে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে চেষ্টা করতে দেখা যায়।
mmকৌতূহলবশত এ প্রতিবেদক এগিয়ে গিয়ে আলাপকালে জানতে পারে ওরা সম্পর্কে দুই বোন। বড়বোন মীম ও ছোট বোন সুমি। বাবা নেই। মা রেজিয়া বেগম আজিমপুর কলোনিতে ঝিয়ের কাজ করেন।

ওরা জানায়, ওদের থাকার জায়গা নেই। ফুটপাতের আইল্যান্ডই ওদের ঘর। আইল্যান্ডে সিটি কর্পোরেশনের লাগানো গাছে রশি লাগিয়ে ওরা কাপড় চোপড় রাখে। আইল্যান্ডেই ওদের কাপড় চোপড়ের পোটলা ও পানির বোতল থাকে।
mmমেয়ে দুটি আরও জানায়, প্রতিদিন ওদের মায়ের ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা বেজে যায়। মা খাবার নিয়ে এলে তবেই খায়। মা ফিরে আসার আগে পর্যন্ত মীম সুমিকে সাজিয়ে গুজিয়ে দেয়। একটু খেয়াল করতেই দেখা যায় সুমির নাক বেয়ে পানি পড়ছে। এবড়ো থেবড়োভাবে চোখে কাজল ও ঠোটে লিপস্টিক লাগানো হয়েছে।
আইল্যান্ডে ঘুমাতে ভয় লাগে না? জিজ্ঞাসা করলে মাথা ঝাঁকিয়ে ‘না’ সূচক জবাব দেয় সুমি। এ সময় বড়বোন মিম বলে, আমাগো অভ্যাস হইয়া গেছে। সারারাত রাস্তায় রিকশা-গাড়ি চলায় হর্নের শব্দে বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
ওদের ছবি তুলতে দেখে ছবি দেখার আবদার করে। ছবি দেখে খুশি হয়ে দু’বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হাসতে থাকে। আলো-আধারিতে ওদের হাসি দেখে মনে হয় অভাব অনটনের মাঝে সামান্য কিছুতেই ওরা বেশ সুখী।

এমইউ/বিএ