নির্বিকার রেইন ট্রি কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত: ১০:১২ পিএম, ১৪ মে ২০১৭
নির্বিকার রেইন ট্রি কর্তৃপক্ষ

বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত নাম হোটেল ‘দ্য রেইন ট্রি’। ঘটনার পর থেকেই একের পর এক অভিযান চলছে হোটেলটিতে। রোববার হোটেলে আকস্মিক অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দারা। অভিযানে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ১০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া হোটেলটির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হচ্ছে। মামলাগুলো হলো- মানি লন্ডারিং, কালোবাজারি এবং শুল্ক ফাঁকি। এসব ঘটনায় বিপর্যস্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে হোটেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, হোটেলে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে নিজেদের মিথ্যাচার সাংবাদিকদের সামনেই প্রমাণিত হওয়ায় নির্বিকার তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বনানীর কে ব্লকের ২৭নং রোডস্থ ৪৯নং বাড়ির রেইন ট্রি হোটেলটির মালিকদের একজন সরকারদলীয় এমপি বজলুল হক হারুনের ছেলে মাহির। হোটেলটি অনানুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গত ফেব্রুয়ারিতে।আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ৯ এপ্রিল থেকে। তবে এর আগেই মাহিরের অনুমতিতে ২৮ মার্চ অভিযুক্তদের দুটি কক্ষ ভাড়া দেয় হোটেল স্টাফরা।তখন হোটেলটিতে নিরাপত্তাজনিত কোনো ডিভাইসের সংযোগ ছিল না। ম্যানুয়ালি চেকআপ করেই তাদের ঢুকতে দেয়া হয়। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পারছে না হোটেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজও তারা রাখেনি।

হোটেলের অন্যতম পরিচালক মাহিরের সঙ্গে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে ও মামলার ১নং আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধুত্ব রয়েছে। সাফাতের অনুরোধেই সব ব্যবস্থা করে মাহির। শনিবার রিমান্ডের প্রথম দিন সাফাত ও মামলার ৩নং আসামি সাদমান জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দেয়।

হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ফরগেইট জানান, তাদের হোটেলে বার নেই। বারের লাইসেন্সও নেই। তারা মাদকও বিক্রি করেন না। তবে হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, হোটেলে রয়েছে ফুল বার, পুল সাইট বার ও মিনি বার।

গত শনিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে অভিযানে নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। কিন্তু গুলশান জোনের পরিদর্শক ওবায়দুল কবিরের নেতৃত্বের দলটি কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেননি। তবে অভিযান শেষে পরিদর্শক জানান, মাদক মেলেনি। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে আমরা নজরদারি রাখব।

রোববার শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ ও র্যা ব-১ এর যৌথ অভিযানে ফেঁসে যায় হোটেলটি। অভিযানে এলসি ছাড়া শুল্কবিহীন বিকল্প উপায়ে আনা ১০ বোতল বিদেশি মদ পাওয়া যায়। এছাড়া এলসির ডকুমেন্ট মেলেনি। ফেব্রুয়ারিতে আট লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির কথাও জানান শুল্ক কর্মকর্তারা।

অভিযান শেষে শুল্ক গোয়েন্দার যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, হোটেলটির বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন তারা। তিন আইনে তিনটি মামলা করা হচ্ছে।

তিন মামলা দায়েরের ঘোষণা ও মদ উদ্ধারে নির্বিকার হোটেল কর্তৃপক্ষ। কোনো কথা বলতে রাজি হননি এক্সিকিউটিভ ইন্টারনাল অপারেশন্স ফারাজানা আরাফ রিমি। তবে হোটেলটির জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ফরগেইট বলেন, মালিকপক্ষের নির্দেশ মতো হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। শুল্ক পরিশোধ করা-না করা, মামলা মোকাবেলার কাজ মালিকপক্ষের।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে দ্য রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। ওই ঘটনায় গত ৬ মে বনানী থানায় অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা।

পরে গত ১১ মে রাতে সিলেটের পাঠানটুলার রশিদ মঞ্জিল থেকে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ সদরের বিশেষ টিম ও সিলেট পুলিশ। এরপর আবেদনের প্রেক্ষিতে সাফাতকে ৬ দিন ও সাদমানকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মুখ্য মহানগর হাকিম।

সাফাত আপন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দিলদার আহমেদের ছেলে। আর সাদমান সাকিফ রেগনাম গ্রুপের মালিকের ছেলে এবং ওই গ্রুপের পরিচালক। এর মধ্যে সাফাতের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের নগরগ্রামে।

নাঈম আশরাফ নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বন্ধু বলে পরিচয় দিলেও তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে বলে জানা গেছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

জেইউ/বিএ/এএইচ/জেআইএম