Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৭ মে ২০১৭ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ফুটপাতে সবুজের ছোঁয়া


শাহেদ শফিক, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ১৭ মে ২০১৭, বুধবার | আপডেট: ০৫:১৬ এএম, ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
ফুটপাতে সবুজের ছোঁয়া

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মশিউর রহমান। বাসা সেগুনবাগিচায়, অফিস গুলিস্তানে। আগে বাসা থেকে রিকশায় অফিসে আসতেন। সময় লাগতো ৩০ থেকে ৫০ মিনিট। এখন মাত্র ২০ মিনিটে হেঁটে অফিসে পৌঁছাতে পারেন। একদিকে খরচ বাঁচল অন্যদিকে হেঁটে আসা-যাওয়ায় নিয়মিত ব্যায়ামও হলো।

ফুটপাতগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের উপযোগী করায় তিনি সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান। জাগো নিউজকে এ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, খুবই ভালো লাগছে। এখন গুলিস্তানে এলে শহরের মতো লাগে। মনে হয় স্মার্ট কোনো শহরে আছি। সচেতন ব্যবসায়ীদের উদ্যোগও ভালো লাগছে। তারা ইট-বালু-কংক্রিটের এ শহরে একটু সবুজের ছোঁয়া এনে দিয়েছেন। এভাবে ব্যবসায়ীরা যদি নিজ উদ্যোগে ফুটপাতে বাহারি গাছের সমারোহ ঘটান তাহলে শিগগিরই সবুজ ঢাকায় পরিণত হবে আমাদের প্রিয় এ রাজধানী।

রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে হকারদের অবৈধ ব্যবসার কারণে হাঁটা যেত না। স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিস্তান, মতিঝিল ও নিউমার্কেট হকারমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

বেশ কয়েকবার উচ্ছেদের পর পুরোপুরি হকারমুক্ত করা হয় ফুটপাত। এ অবস্থায় উন্মুক্ত ফুটপাতের দু’পাশে ফুলের টবসহ বাহারি গাছগাছালির সমারোহ ঘটিয়েছেন শৌখিন দোকান মালিকরা। নগরবাসী এখন স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগের মধ্য দিয়ে ফুটপাত পার হচ্ছেন।

Footpat

গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট থেকে হোটেল ইম্পেরিয়াল হয়ে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার পর্যন্ত ফুটপাতের এক পাশে দোকানিরা নিজ উদ্যোগে সিমেন্টে বাঁধাই ফুলদানিতে বাহারি গাছ ও বনসাই স্থাপন করেছেন। পায়ে হাঁটা সাধারণ যাত্রীরা এতে ভীষণ খুশি।

ইট-কংক্রিটের এ রাজপথে সবুজের ছোঁয়া কে না ভালোবাসবে? এ কারণে আমাদের ছোট এ উদ্যোগ। পল্টন মোড়ে ‘কে ফ্যাশন’ ও ‘খাদেম সুজ’র দুটি শোরুম। দোকান দুটির তত্ত্বাবধায়করা জাগো নিউজকে জানান, এতদিন হকারদের ঝুপড়ির কারণে সামনে কিছুই দেখা যেত না। সাধারণ পথচারীরা ফুটপাতও ব্যবহার করতে পারতেন না। কিন্তু এখন হকারদের উৎপাত নেই। নগরবাসীকে একটু সবুজের পরশ দিতে আমাদের দোকান দুটির সামনে সিমেন্টের তৈরি ফুলের টব বসিয়ে তাতে নানা জাতের গাছ লাগানো হয়েছে। পথচারীরা এ ফুটপাত ব্যবহার করে যাতে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।

অনেকে আবার গাছগুলো দেখার পাশাপাশি ঢুঁ মারছেন শোরুম দুটিতে। ফলে বেচাবিক্রি আগের চেয়ে ভালো।

রাজধানীর কোথাও কোথাও আবার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বর্জ্যে ভরা খোলা ডাস্টবিন আর স্যুয়ারেজের (পয়োনিষ্কাশন) দুর্গন্ধে যেখানে পথচারীরা নাস্তানাবুদ হতো, সেখানেও সুগন্ধি ফুলের গাছ টবে বসাতে দেখা গেছে।

সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, রাজধানীর হকারদের দখলে থাকা স্থানগুলোর মধ্যে গুলিস্তান, বাইতুল মোকাররম, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, নিউমার্কেটসহ বেশ কয়েকটি স্থান অন্যতম। এসব এলাকা হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতেন না। চুরি-ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হতো। বাধ্য হয়ে ফুটপাত হকারমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় কর্পোরেশন।

Footpat

সংস্থাটি জানায়, হকারমুক্ত করার পর ফুটপাতগুলো পাহারায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাতে কেউ ফুটপাত ফের দখল করতে না পারে। পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসায়ীদেরও সচেতন করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ফুটপাতে ফুলের বাগানসহ আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য বসাতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আব্দুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেছে তথাকথিত রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও লাইনম্যানরা। হাজার হাজার টাকা দোকান ভাড়া দিয়ে কোনো ব্যবসা করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত দখলমুক্ত করে। এখন ভালো ব্যবসা হচ্ছে। মানুষও দোকানে আসছে।

তিনি জানান, দোকানের সামনে আর কোনো হকারকে বসতে দেয়া হবে না। এজন্য ফুটপাতে বাহারি গাছের টব বসিয়েছি। এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষও অভিনন্দন জানায়। অনেকেই দোকানে এসে বলছেন, খুব সুন্দর হয়েছে, খুবই ভালো উদ্যোগ।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকাকে সবুজে রূপান্তরিত করতে আমাদের ‘জল সবুজে ঢাকা’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। এ কাজে নগরবাসীকে উৎসাহিত করতে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সবকটি সড়ক, সড়ক বিভাজনকারী আইল্যান্ডসহ পুরো ফুটপাতে ফুলবাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি শেষ হলে ঢাকার দৃশ্য পাল্টে যাবে।

সবুজ ও দূষণমুক্ত নগর গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন সাঈদ খোকন।

এমএসএস/এমএআর/এআরএস/পিআর

আপনার মন্তব্য লিখুন...