বীমা-শেয়ার ব্যবসায় সফল ব্যক্তিদের ঈদ ভাবনা

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১০:১৫ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
বীমা-শেয়ার ব্যবসায় সফল ব্যক্তিদের ঈদ ভাবনা
ছবি : নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শরীফ আতাউর রহমান, রকিবুর রহমান, জামিরুল ইসলাম, এ কে এম শরিফুল

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই আনন্দ-খুশি ভাগাভাগি করতে একেকজনের থাকে একেক রকমের পরিকল্পনা। আনন্দের মুহূর্তগুলোকে আরও আনন্দময় করতে কত পরিকল্পনাই না করে থাকি আমরা। বয়স ভেদে রয়েছে সেই পরিকল্পনায় ভিন্নতা। শৈশবের উদযাপন এক রকম, কর্মজীবনে আরেক রকম।

জাগো নিউজ জানার চেষ্টা করেছে শেয়ার ব্যবসা ও বীমা পেশার কিছু সফল ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা। এবারের কোরবানির ঈদ নিয়ে কি পরিকল্পনা করেছেন তারা? কেমন ছিল তাদের শৈশবের ঈদ? তা পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ
মেঘনা লাইফ ও কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবারের ঈদ পরিকল্পনার বিষয়ে বলেন, প্রতিবছর আমার ইচ্ছা থাকে গ্রামের বাড়ি ভোলাতেই ঈদ করার। সেখানে আমার মা-বাবার কবর আছে। তবে কিছু কিছু সময় ছেলে-মেয়েদের চাপে যেতে পারি না। তবে এবারও ভোলায় ঈদ করব।

তিনি বলেন, ঢাকায় অনেক সময় ঈদের পরে যাদের সঙ্গে কোলাকুলি করি তাদের অনেককেই চিনি না। কিন্তু ভোলায় আমার হাজার হাজার লোক পরিচিত। তাদের খোঁজখবর নিই, কোলাকুলি করি। খুব ভালো লাগে।

ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় ভাইয়ের কাছে নতুন পোশাক চাইতাম। আমি একটা চাইতাম, দিত আর একটা। বড়দের সালাম করতাম, বকশিস পেতাম, এখন নিজে দেই। বন্ধু-বান্ধব মিলে ঘোরাঘুরি করতাম। এখন আর সেগুলো হয় না।

শরীফ আতাউর রহমান
সার সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান জানান, এবারের ঈদ নিয়ে নতুন কোন পরিকল্পনা নেই। ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করবেন। বরাবরের মতোই সামর্থ অনুযায়ী গরু কোরবানি দিবেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাজেটের মধ্যেই কোরবানি দেয়ার চেষ্টা করি। কোরবানি দেয়ার ‍উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ্ যেন আমাদের কোরবানি কবুল করেন। কোরবানির গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করব।

এই ব্যবসায়ী বলেন, আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন, তারা যাতে ভালোভাবে ঈদ করতে পারেন আমরা সেই চেষ্টাই করি। কিন্তু আমাদের মতো যারা শেয়ার ব্যবসা করেন, তারা অনেকদিন ধরে কষ্টে আছেন। কারণ আমাদের লেনদেন খুব কম। কর্মীরা প্রত্যাশা করে দুইটা ঈদে বোনাস পাওয়ার, আমরা ডিলার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার বিক্রি করে বোনাস দেই।

ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় আমরা দলবেঁধে চিড়িয়াখানায় যেতাম। বাঘ দেখতাম, ভাল্লুক দেখতাম, খুব ভালো লাগতো। এরপর যখন একটু বড় হলাম, তখন ঈদের দিন সিনেমা দেখতাম। এখন সিনেমায় সেই পরিবেশ নাই, তাই সিনেমাও দেখা হয় না।

ঈদ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের বন্যার প্রসঙ্গও তুলে আনেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এবারের বন্যায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ কষ্টে আছেন। আমাদের উচিত যার যার জায়গায় থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করা।

রকিবুর রহমান
মিডওয়ে সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, এবার বন্যায় প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। সেদিক থেকে একটা কষ্টের বিষয় আছে। এবারের ঈদ খুব বেশি জাঁকজমকভাবে পালন না করে ধর্মীয় রীতি মেনে পালন করব। ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবারের ঈদ করব। আমি মনে করি বন্যার্তদের জন্য যতটুকু পারা যায় সকলের সহায়তায় করা উচিত।

তিনি বলেন, এখন ঈদ অনেকটা একঘেয়েমি ও যান্ত্রিকতার মধ্যে পড়ে রয়েছে। আগে গ্রামে যখন ঈদ করতাম তখন অনেক ভালো লাগতো। কেন জানি ঈদের আনন্দটা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। আব্বা যখন হাটে গরু বা ছাগল কিনতে যেতেন, আমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন। যেটা আমরা কিনতাম, সেটা আমরা নিজেরাই হাতে ধরে বাড়িতে আনতাম এবং পরিচর্যা করতাম। এখন আর এটা নেই।

এ বি এম নূরুল হক
এ বি এম নূরুল হক দীর্ঘদিন মেঘনা ইন্স্যুরেন্সে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। এই বীমা নির্বাহীর শৈশবে ঈদের রয়েছে একটি মধুর স্মৃতি।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা ছোট চাকরি করতেন। আমরা দশ ভাই-বোন ছিলাম। একবার মার্কেটে গিয়ে একটি লাল চেক শার্ট খুব পছন্দ হয়। কিন্তু বাবার তেমন সামর্থ ছিল না। যে কারণে বাবা তা কিনে দিচ্ছিলেন না। তবে আমার আবদার ও কান্নাকাটির কারণে একপর্যায়ে বাবা ওই শার্টটি কিনে দিতে বাধ্য হন। এতে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বাবার যে কি কষ্ট হয়েছিল তা সে সময় বুঝতে পারিনি।

এবারের ঈদ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের ঈদ ঢাকাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উদযাপন করব। ঈদের আগের দিন বাজারে গিয়ে গরু কিনব। তারপর ঈদের দিন গরু জবাই করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাংস ভাগ করব। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠাব। ঈদ নিয়ে এর বাইরে বিশেষ কোন পরিকল্পনা নেই।

জামিরুল ইসলাম
ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম। ঈদ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন বাবা-মা নেই। তাই এবারের ঈদ হবে গতানুগতিক। বরাবরের মতো এবারও ঢাকায় ঈদ করব। শৈশবে বাবা-মার সঙ্গে ঈদ করতাম। সেই ঈদে অনেক আনন্দ হতো। এখন বাবা-মাকে ছেড়ে ঈদ করতে কষ্ট হয়। শৈশবে অনেক বন্ধু-বান্ধব ছিল। অনেকের সঙ্গে দেখা হতো, কথা হতো। সেই সময় মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ছিল অনেক। এখন সেই পরিবেশটা খুব একটা পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, শৈশবে বাবা-মা আমাদের আবদার পূরণ করতেন। এখন আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের আবদার পূরণ করি। ভবিষ্যতে আমার ছেলে-মেয়েরা তাদের ছেলে-মেয়েদের আবদার পূরণ করবে। এটি হলো আমাদের ঐতিহ্য।

এ কে এম শরিফুল
সানলাইফের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম শরিফুল ইসলাম। আত্মীয়-পরিজন নিয়ে ঢাকাতে ঈদ উদযাপনের পরিকল্পা করেছেন এই বীমা নির্বাহী। তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যেতাম। এখন ভাই-বোন সবাই ঢাকায় থাকেন যে কারণে ঢাকাতে‌ই ঈদ করা হয়।

শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করে শরিফুল বলেন, আগে কোরবানির ঈদ হতো শীতকালে। তখন গ্রামে যাওয়া হতো। সেই সময়ের পরিবেশ ছিল খুবই চমৎকার। শৈশবের ঈদ ছিল স্বাধীন। আর বর্তমানে ঈদ মানেই একটি চাপ। শৈশবে আবদার করতাম, ‌আর এখন অন্যের আবদার পূরণ করি। অবশ্য অন্যের আবদার পূরণেও অন্যরকম আনন্দ আছে।

এমএএস/ওআর/এমএস