নারী ও শিশুদের দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদই খালি

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৪:৫৩ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭
নারী ও শিশুদের দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদই খালি

নারী ও শিশুদের দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদই খালি পড়ে রয়েছে। বেহাল অবস্থা মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ও জাতীয় মহিলা সংস্থারও। ফলে নারীদের আইনি সহায়তা প্রকল্প, হোস্টেলে অবস্থানরত নারীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত, দরিদ্র নারীদের উন্নয়ন প্রকল্প, নারীদের নিয়ে গবেষণা, চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ নানা বিষয় চলছে জোড়াতালি দিয়ে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। গত ২৭ আগস্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও কোরাম (সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশ) সঙ্কটের কারণে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

মন্ত্রণালয় কর্তৃক তৈরি ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১২৮টি পদের মধ্যে সব শ্রেণির ৫০টি পদই শূন্য। মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের শূন্যপদের সংখ্যা ৭৯২টি। আর জাতীয় মহিলা সংস্থার ৪৬৫টি পদের মধ্যে ৯৭টিই শূন্য।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম শ্রেণির আটটি পদ শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির শূন্য ১২টি। ১৭টি তৃতীয় শ্রেণির পদে দীর্ঘদিন ধরে কেউ নেই। আর চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদ ১৩টি।

জানা যায়, কোনো কোনো পদের জন্য এখনও নিয়োগবিধি চূড়ান্ত হয়নি, কোনোটি পূরণের জন্য আবার পিএসসিতে (সরকারি কর্মকমিশন) চাহিদাপত্র দেয়া হচ্ছে, কোনোটির চাহিদাপত্রের জন্য ‘প্রস্তুতি’ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়, কোনোটি আবার ফিডার পদধারী হওয়ায় পদোন্নতি জটিলতায় পূরণ হচ্ছে না। আবার কোনোটির নিয়োগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থগিত রাখা হয়েছে। কোনোটি আবার নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে প্রেরণ করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতর

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরে প্রথম শ্রেণির ৭৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৮১, তৃতীয় শ্রেণির ৪৫৯ ও চতুর্থ শ্রেণির ১৭৮টি পদ শূন্য।

দরিদ্র নারীদের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কাজ করেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্তি পরিচালক। প্রথম শ্রেণির এ পদটিও শূন্য।

আর কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল সুপারের ১৯টি পদই খালি দীর্ঘদিন।

রাজধানীর নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের কয়েকজন নারী মঙ্গলবার সকালে জাগো নিউজকে জানান, তাদের হোস্টেলে বেশ কয়েকটি পদ খালি পড়ে আছে। এ কারণে অনেকটা অভিভাবকহীনভাবে তারা বসবাস করছেন। খাওয়া থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই।

তবে হোস্টেল থেকে বের করে দেয়ার ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।

এ অধিদফতরের প্রথম শ্রেণির তিনটি আইনজীবীর পদও শূন্য। ফলে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না নির্যাতিত নারীরা। পদগুলো মহিলা সহায়তা কর্মসূচি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলেও নিয়োগবিধি সংশোধন করে পদগুলো পূরণ করা হয়নি।

এ অধিদফতরের আওতায় পাঁচটি মেডিকেল কর্মকর্তার পদও খালি। পদগুলো সহায়তা প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে নেয়া হলেও নিয়োগবিধি সংশোধন করা হয়নি। অধিদফতর বলছে, শিগগিরই নিয়োগবিধি সংশোধন করে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি মঙ্গলবার জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন জটিলতায় শূন্যপদগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমরা বসে নেই। নারী ও শিশুবান্ধব এ সরকার তাদের জন্য সবকিছু করে যাচ্ছে। আর নিয়োগও শেষ হবে তাড়াতাড়ি।

এইচএস/এমএআর/এমএস