বার কাউন্সিলে হচ্ছে ১৫তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৬:২২ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭
বার কাউন্সিলে হচ্ছে ১৫তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান জরাজীর্ণ পুরনো ভবন ভেঙে নতুন করে বহুতল অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুনভাবে নির্মিত ওই ভবনে বার কাউন্সিলের জন্য নিজস্ব পরীক্ষার হল, ট্রেনিং রুম, প্রযুক্তিনির্ভর লাইব্রেরি, বড় পরিসরে খাবার ক্যান্টিন, আধুনিক সেমিনার কক্ষ, ব্যায়ামাগার (জিমনেশিয়াম), আলাদা আলাদা কক্ষ এবং নির্বাচিত সদস্যদের পৃথক দফতর, আধুনিক ক্লাব ও অত্যাধুনিক রেস্ট হাউসসহ সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে।

জানা গেছে, পুরনো ভবন ভেঙে ভবন তৈরি করা হবে যাতে সেটা মজবুত ও টেকসই হয়। নতুন ওই ভবনে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে। ইতোমধ্যে ভবন তৈরির বিষয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এর আগে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরপর স্থাপত্য, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ করে এখন নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুমোদনের পরই বার কাউন্সিলের আধুনিক বহুতল ভবন তৈরির কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে।

এ বিষয়ে বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শ.ম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, বার কাউন্সিলের নতুন ও আধুনিক ভবন তৈরির কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক মো. নুরুল আলম। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট দেয়া হয় আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। এ ভবন নির্মাণে অনেক কৌশলগত দিক আগেই প্রস্তুত ছিল।

ভবনটি ১৫তলা বিশিষ্ট হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। শ.ম রেজাউল করিম আরও বলেন, বার কাউন্সিলের বর্তমান ভবন নাজুক ও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন আইনজীবীরা। বিগত বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের।

গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল নির্বাচনে আওয়ামীপন্থীরা ব্যাপক জয় পায়। বিজয়ী হওয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের পরিত্যক্ত ১০০ শতাংশ জমি ও ভবন নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকা দাবি করা হয়। সেই দাবি এবার বাস্তবায়ন হচ্ছে।

শ.ম রেজাউল করিম আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা, যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা। বার কাউন্সিল ও বেনাভোলেন্ট ফান্ড বঙ্গবন্ধুর হাতে তৈরি। তার কন্যা দিচ্ছেন বহুতল ভবন। দেশের ৫০ হাজার আইনজীবী কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নির্বাচনে এটা ছিল অন্যতম অঙ্গীকার। একে একে সবই পূর্ণ হবে ইনশাল্লাহ।

বার কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না জাগো নিউজকে জানান, আমাদের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের জন্য ১৫ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ভবনের নকশা তৈরি করেছেন একজন (নকশাকারক) ইঞ্জিনিয়ার। এখন এই নকশা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়, এরপরে প্রধান বিচারপতির অনুমোদনের পরপরই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভবন তৈরির কাজ শুরু হবে।

বার কাউন্সিলের ডেপুটি সচিব আফজাল-উর-রহমান জাগো নিউজকে জানান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আধুনিক ও বহুতল বিশিষ্ট ১৫ তলা ভবনে আইনজীবীদের জন্য থাকবে সেমিনার হল যেখানে পাঁচশত আইনজীবী একত্রে বসে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া থাকছে লাইব্রেরি, ক্লাবসহ আরও আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন। শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার হলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান বার কাউন্সিল ভবনটি প্রায় ৪০ বছরের পুরাতন। ভবনটি পাঁচতলা বিশিষ্ট। সারাদেশের প্রায় ৫০ হাজার আইনজীবীর জন্য এই ভবনটি পর্যাপ্ত নয়। এ কারণেই বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণে আইনজীবী নেতারা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বার কাউন্সিল ভবন বর্তমানে নাজুক ও ব্যবহার অনুপযোগী। এই ভবনের একতলার উপর কোনো পরিকল্পনা ছিল না। সর্বোচ্চ দোতলা পর্যন্ত করা যেত। অথচ একতলার উপরে পাঁচতলা পর্যন্ত করা হয়েছে, যেখানে পঞ্চমতলা করা হয়েছে টিন দিয়ে।


গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিলের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থীরা ব্যাপক জয় পায়। সেই নির্বাচনের আগে বহুতলবিশিষ্ট বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল আওয়ামীপন্থীদের। সেই অনুযায়ীই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভবন নির্মাণের এই চূড়ান্ত অনুমোদন আসল।

এফএইচ/ওআর/জেআইএম