পিপিপির ভিত্তিতে বিটিএমসির ১৩ মিল চালুর উদ্যোগ

মেসবাহুল হক
মেসবাহুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১১:১৩ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭
পিপিপির ভিত্তিতে বিটিএমসির ১৩ মিল চালুর উদ্যোগ

বছরের পর বছর লোকসানের ‘গোলকধাঁধা’ থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) ১৩টি মিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পিপিপি’র ভিত্তিতে মিলগুলো চালু হলেও এগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে মিলগুলো চালুর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্প ব্যয় ধার হয়েছে ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামীকাল বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বস্ত্র ও পাট সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) অধীন মিলগুলোর স্থাপনা অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং এর যন্ত্রপাতি অনেক পুরনো। মিলের বিশাল জমি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। পুরনো ও অকেজো এসব যন্ত্রপাতি অপসারণ করে আধুনিক স্থাপনাসহ নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে মিলসমূহ চালু করা আবশ্যক। তাই মিলগুলো পিপিপি’র মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী গত ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে ‘বিটিএমসির বন্ধ মিলসমূহ চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে’ মর্মে অনুশাসন প্রদান করন। ওই অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বিটিএমসি’র আওতাধীন ১৩টি মিল পিপিপি’র মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী বিটিএমসির অধীস্থ ‘আর আর টেক্সটাইল মিল, চট্টগ্রাম’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট অব আর আর টেক্সটাইল মিল অ্যাট চট্টগ্রাম’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ১০.৯৫ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

‘আমিন টেক্সটাইল মিল, চট্টগ্রাম’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট অব আমিন টেক্সটাইল মিল অ্যাট ষোলোশহর, চট্টগ্রাম’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২৩.৪৯ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা।

‘মাগুরা টেক্সটাইল মিল, মাগুরা’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট অব মাগুরা টেক্সটাইল মিল অ্যাট মাগুরা’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ১৬.১৭ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা।

‘রাঙ্গামাটি টেক্সটাইল মিল, রাঙ্গামাটি’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট অব রাঙ্গামাটি টেক্সটাইল মিল অ্যাট রাঙ্গামাটি’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২৬.১৭ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

‘বেঙ্গল টেক্সটাইল মিল, নওয়াপাড়া, যশোর’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট বেঙ্গল টেক্সটাইল মিল অ্যাট নওয়াপাড়া, যশোর’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ১৫.৯২ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা।

‘রাজশাহী টেক্সটাইল মিল, রাজশাহী’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট রাজশাহী টেক্সটাইল মিল অ্যাট সপুরা, রাজশাহী’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২৬.৫৩ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা।

‘সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল, সাতক্ষীরা’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল অ্যাট সাতক্ষীরা’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২৯.৪৭ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

‘দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল, দিনাজপুর’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল অ্যাট সাদারপুর, দিনাজপুর’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ৩৫.৪৫ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

‘জলিল টেক্সটাইল মিল, দিনাজপুর’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট জলিল দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল অ্যাট সাদারপুর, দিনাজপুর’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ৬৮ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা।

‘দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল, নিলফামারী’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল অ্যাট নিলফামারী’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ৬৮.৩০ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

‘দোস্ত টেক্সটাইল মিল, রানীরহাট, ফেনী’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট দোস্ত টেক্সটাইল মিল অ্যাট রানীরহাট, ফেনী’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২১.৪৭ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

‘আফসার কটন মিল, সাভার’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট আফসার কটন মিল অ্যাট সাভার’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজর ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ৫.৫২ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৯১ কোটি টাকা।

‘দি এশিয়াটিক কটন মিল, চট্টগ্রাম’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট দি এশিয়াটিক কটন মিল অ্যাট চট্টগ্রাম’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজর ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২৪.৯৬ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা।

১৩টি মিলের আনুমানিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর মোট জমির পরিমাণ নির্ধারণ হয়েছে ৩৮০ দশমিক ৪৭ একর। যার সম্ভাব্য মূল্য এক হাজার ৫৯২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিটিএমসি’র জমি মূলধন হিসেবে বিবেচ্য হবে। প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণসহ সকল পরিচালনা সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রাইভেট পার্টির ওপর থাকবে। প্রকল্প ব্যয়ে বিটিএমসি ও প্রাইভেট পার্টি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অথবা আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের শেয়ার বণ্টন হবে। শেয়ারের ভিত্তিতে লভ্যাংশও বণ্টন হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পার্টনারশিপের মেয়াদ ৩০ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে।

পার্টনারশিপের মেয়াদ উত্তীর্ণের পর তা পুনরায় নবায়ন অথবা টেন্ডারের মাধ্যমে পার্টি পুনঃনিয়োগ দেয়া যেতে পারে অথবা বিটিএমসি বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে মিলসমূহ পরিচালনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, গত প্রায় ২০ বছরে একবারের জন্যও লাভের মুখ দেখেনি বিটিএমসি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান করেছে ১১ কোটি ৪১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। যা গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল আট কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এমইউএইচ/এমএআর/পিআর