বর্তমান পরিস্থিতি ‘রোগের উপসর্গ’

আমানউল্লাহ আমান
আমানউল্লাহ আমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি ‘রোগের উপসর্গ’ বলে মনে করছেন দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

তারা মনে করেন, মামলা রায় বা রায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি হলো ‘রোগের উপসর্গ’। কতগুলো রাজনৈতিক বিরোধই হচ্ছে এ রোগ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে চলমান বিরোধের বহিঃপ্রকাশ এগুলো।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ মনে করেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলোর রাজনৈতিক সমাধান না হলে ‘ঝড়’ উঠবে। এ পূর্বাভাসগুলোর প্রতি নজর দিয়ে কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত এর সমাধান দরকার বলেও মত তাদের।

jagonews24

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত। এরই মধ্যে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার এ নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ দলটির।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আদালত যে রায় দেবে সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে।

jagonews24

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের কতগুলো রাজনৈতিক বিরোধ আছে। রাজনৈতিক বিরোধগুলো যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বদল- এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের ব্যাপক বিরোধ। এ বিরোধগুলোর সমাধান না হলে ঝড় উঠবে। ঝড় ৮ তারিখেও উঠতে পারে কিংবা পরেও উঠতে পারে।’

‘শান্তিপূর্ণভাবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমস্যার সমাধান না হলে অনিয়মতান্ত্রিকতার দিকে পরিস্থিতি গড়াবে। দ্বন্দ্ব, হানাহানি, সংহিসতা- এমন পরিস্থিতি অবিসম্ভাবি। এখন প্রশ্ন হলো কবে উঠবে?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো রাজনৈতিকভাবে সমাধান হওয়া জরুরি। এগুলো রাজনৈতিক সমস্যারই বহিঃপ্রকাশ। রোগের সিমটম, মামলা বা মামলার রায়; রোগ হলো কতগুলো বিরোধ। এ রাজনৈতিক বিরোধগুলো রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। তা না হলে ঝড় উঠবে। আমরা সহিংসতা এড়াতে চাই। এ পূর্বাভাসগুলোর দিকে নজর দিয়ে কারণগুলো চিহ্নিত করে এগুলো দূর করা দরকার।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বর্তমানে সেটা প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা শুধুমাত্র একটি আইনের ব্যাপার নয়, সাধারণ আদালতের মামলা নয়। মামলায় যাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তিনি সত্যিকার বিরোধী দলের নেত্রী এবং এর আগে তিনবার প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। এ অবস্থায় আদালতে তার যে মামলা চলছে সেটা খুব হালকাভাবে দেখা যায় না।’

jagonews24

‘মামলাটি তাদের দল এবং তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেও বলেছেন, এটি রাজনৈতিক মামলা। আসলে কোনো ভিত্তি নেই বলে তাদের মত। এগুলো জোর করে বানানো হয়েছে, যাতে নির্বাচন থেকে তাকে এবং তার দলকে বাইরে রাখা যায়। এ কথা কতদূর সত্য, এটা সুদূর ঘটনাবলি বিচার না করে বলা যাবে না। এখনো রায় আসেনি। রায়ে তাকে নির্দোষও প্রমাণ করতে পারে। তাহলে পরে এগুলো থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘যদি তা না হয়। রায় হয়ে গেলেই যে তিনি আইনের চোখে এমন অবস্থায় পড়বেন যে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না, এটা নাও হতে পারে। কারণ আইনে কতগুলো ব্যাপার রয়েছে। তার মধ্যে এমনকী অভিযুক্ত যদি সাজাও পায় কতগুলো শর্তে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। এ জিনিসগুলো দেখার রয়েছে। আগে থেকেই কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কী রায় হয়, যদি বিরূপ রায় হয় সেই রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার দল কতখানি শক্তভাবে তার বিরোধিতা করে, বিক্ষোভ করতে পারে এবং কতটা শক্তভাবে সরকারি দল বা ক্ষমতাসীন দল তা দমন করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার ওপর সব নির্ভর করবে।’

‘আগামী দিনগুলোর ঘটনা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলেও মত দেন তিনি।

এইউএ/এমএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :