‘হাজিবান্ধব’ নীতিমালা হচ্ছে

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চলতি বছরে ‘হাজিবান্ধব’ নীতিমালা প্রণীত হচ্ছে। অধিকতর সুন্দর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে নীতিমালার কাজ চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রণীত নীতিমালার ভিত্তিতে বিমানভাড়া নির্ধারণসহ খুব শিগগিরই হজ প্যাকেজ ঘোষণা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে হজ নীতিমালা উত্থাপন এবং তা পাসের পর হজ প্যাকেজ ঘোষণা হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজ’কে এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে গিয়ে হজচুক্তি সম্পাদন করেন। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জনসহ মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বছরের চেয়ে চলতি বছর হজযাত্রীদের বেশি টাকা খরচ করে হজপালন করতে হবে। বাংলাদেশ বিমান গত বছরের চেয়ে বিমানভাড়া (গত বছর বিমানভাড়া ছিল ১৪৭৫ এবার ১৬০৮ ডলার) বেশি চাওয়ায় সামগ্রিকভাবে খরচ বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানায়।

এবার সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনের জন্য সামগ্রিক নীতিমালা হাজিদের অনুকূলে করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এবার রাজধানীসহ জেলা শহরে হজসংশ্লিষ্ট সকলের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হচ্ছে। গত বুধবার রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের উদ্যোগে হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এ তথ্য জানান।

hajj

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) হাফিজ-উদ্দিন আহমেদ জানান, এ বছর হজ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। প্রথমবারের মতো হজ প্রশিক্ষণ গাইডলাইন তৈরি হয়েছে। গাইডলাইনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

‘গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর শতকরা এক থেকে দুই ভাগ হজযাত্রী হজে যেতে পারতেন না। কিন্তু গত বছর ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে আন্তরিকতার সঙ্গে সব কাজ সম্পন্ন করায় মাত্র ১৯৮ জন যাত্রী হজে যেতে পারেননি। কয়েকটি হজ এজেন্সির গাফিলতি এবং হজযাত্রীদের অকাল মৃত্যুতে ১৯৮ জন হজে যেতে পারেননি। শতকরা হিসাবে এ সংখ্যা খুবই নগণ্য।’

তিনি আরও বলেন, গত বছর হজ ফ্লাইটে বিপর্যয় দেখা দেয়। ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়। হাজার হাজার হজযাত্রীর হজপালন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কারণ খুঁজে জানা যায়, অনেক এজেন্সি বাড়িভাড়া না করায় ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি। আবার ভিসা হলেও নির্ধারিত সময়ে বিমান বুকিং না দেয়ায় যাত্রী পাঠাতে বিলম্ব হয়।

বিগত বছরের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সব এজেন্সিকে ঘোষিত শিডিউলের কোন ফ্লাইটে কতজন যাত্রী পাঠাবেন তা জানিয়ে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার উপদেশ দেন তিনি। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে বিমানভাড়ার জন্য প্রদেয় টাকা কোনো হজ এজেন্সিকে না দেয়ারও কথা জানান হাফিজ-উদ্দিন আহমেদ।

এবার নীতিমালায় রিপ্লেসমেন্টের শতকরা হার নির্ধারিত থাকবে। মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থতাজনিত কারণ ছাড়া অতিরিক্ত রিপ্লেসমেন্ট এ বছর হবে না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হবে। তাই এজেন্সিগুলো রিপ্লেসমেন্টের অতিরিক্ত যাত্রী পাবেন- এমন আশা না করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্তক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মক্কার হজ কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান জানান, এবার বিমান টিকিটের পেছনে হজযাত্রীর জন্য সৌদি আরবের কোথায় বাড়িভাড়া করা হয়েছে তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। যদি উল্লেখ না থাকে তাহলে হজযাত্রীকে সৌদি আরব থেকে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দেশটির সরকার।

এমইউ/বিএ/এমএআর/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :