আজ সারারাত জাগবে তনি

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৫১ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘মায় কইছে আইজ বালা বেচাকেনা অইবো। সারা রাইত জাইগ্যা থাকতে অইবো। হের লাইগ্যা দুপুরে ঘুমাইছি, উঠছি একটু আগে। মায় কইছে ১২টা থাইক্যাই নাকি মানুষের ঢল নামবো। অহন দেহি মানুষ নাই।’

ছোট একটি মেয়ে। নাম তনি। বয়স আনুমানিক পাঁচ কি ছয় বছর। মঙ্গলবার রাত ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে প্রায় জনমানবশূন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলছিল তনি। তার হাতে লোহার একটি ভারী স্ট্যান্ডে ঝুলানো ক্ষুদ্রাকারের অসংখ্য জাতীয় পতাকা ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি লেখা হেড হ্যান্ড ধরে রাখা।

tt

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে দেখে ছুটে এসে তনির মা মেয়ে কোনো দোষ করেছে কি-না জানতে চেয়ে বলতে থাকেন, একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভালো বেচাকেনা হয়। হাজার হাজার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসার পর কেউ ছোট জাতীয় পতাকা আবার কেউ হেড ব্যান্ড কিনে নিয়ে যায়। তার কাছ থেকে না কিনলেও ছোট হওয়ায় তনির কাছ থেকে বেশি মানুষ কেনে।

t

ক্ষণ গণনার হিসাবে আর আধ ঘণ্টা পরেই শুরু হবে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর। ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারসহ ভিভিআিইপিরা। এরপর সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

t

আজ রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্য়ন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে শুনশান নীরবতা। রাত ৮টা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসার বিভিন্ন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন প্রবেশ পয়েন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড তল্লাশি করে তবেই প্রবেশ করতে দেন।

t

হঠাৎ করে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে মনে হবে এ এলাকাতে বুঝি ঝুমবৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ও বাংলা একাডেমির বইমেলায় বই কিনতে আগত হাজার হাজার মানুষকে ধুলোবালিমুক্ত পরিবেশ দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গোটা ক্যাম্পাসে পানি ছিঁটানো হয়েছে।

t

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধ করতে তাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে সিটিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হযেছে। যারাই শহীদ মিনারে আসবেন তারা এক পথে আসবেন আরেক পথে বেরিয়ে যাবেন।

এমইউ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :