চোখ থাকিতেও অন্ধ তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

‘পোস্টার যত জনসম্মুখে লাগানো যায় তত ভালো, তাহলে মানুষ এগুলো দেখে আকৃষ্ট হয়; আমরা কাস্টমার পাই। এ কারণে রাস্তার পাশে সব জায়গায় পোস্টার লাগাচ্ছি।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পোস্টার লাগাচ্ছিলেন জুবায়ের আহমেদ। জাগো নিউজ’র সঙ্গে কথা হয় তার। বলেন, ব্যবসার প্রসারে প্রচারণার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হয়।

Poster-2

এভাবে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, ওভারব্রিজের পিলার, গাছপালা, ল্যাম্পপোস্ট, দেয়ালসহ সবত্রই পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সব জায়গায় টু-লেট, বিভিন্ন ব্যক্তির প্রচারণামূলক পোস্টার, বিজ্ঞপ্তি আর ব্যানারের ছড়াছড়ি।

মিরপুর, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, গুলিস্তান, গুলশানসহ প্রায় সব এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। এতে একদিকে শহরটি যেমন সৌন্দর্য হারাচ্ছে অন্যদিকে নগরবাসীও বিরক্ত হচ্ছেন।

Poster-3

মিরপুরে জুবায়ের আহমেদের লাগানো পোস্টারে দেয়া ফোন নম্বর অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রায়হানুল হক নামের একজন নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আসলে আমরাও জানি এভাবে পোস্টার লাগালে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। কিন্তু কাস্টমার-ক্লাইন্ট পেতে হলে তো সবার নজরে আসে এমন স্থানে পোস্টার লাগাতে হবে।’

কিন্তু পোস্টার লাগানোর জন্য তো নির্ধারিত জায়গা আছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওইসব স্থানে পোস্টার লাগালে মানুষের সাড়া পাওয়া যায় না। কিন্তু রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় পোস্টার থাকলে চলার পথে মানুষের চোখে পড়ে, সেখান থেকেই কেউ কেউ আগ্রহী হন।’

Poster-4

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে অবৈধ ও অনুমোদনহীন সাইনবোর্ড, পোস্টার, ফেস্টুন, ওভারহেড সাইনবোর্ড অপসারণে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে থাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। যত্রতত্র পোস্টার লাগানো থেকে বিরত রাখতে সংস্থাটি সম্প্রতি বোর্ড স্থাপন করেছে কিন্তু তাতেও তেমন সাড়া নেই।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার উত্তরে ৫২টি ব্যস্ততম স্থানে পোস্টার লাগানোর জন্য বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বোর্ডে নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের পোস্টার লাগাতে পারবেন। বোর্ডে পোস্টার রশিতে করে টানানো যাবে। গুলশান, উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, খামারবাড়ি, মহাখালী, শুটিং ক্লাব এলাকার ব্যস্ততম স্থানে এসব বোর্ড লাগানো আছে। সেখানে সাতদিনের জন্য একজন ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান পোস্টার লাগাতে পারবেন।

Poster-5

এসব বোর্ডে পোস্টার লাগালে কোনো টাকা দিতে হবে না বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক কমডোর আব্দুর রাজ্জাক। এমন সব উদ্যোগ নেয়ার পরও যত্রতত্র ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুন লাগিয়ে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। নিজেদের প্রচারণার স্বার্থে কতিপয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এমনটি করছেন।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির বর্জ্য বিভাগে দায়িত্বরত আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের প্রচারণাপত্র প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। সে কারণে নির্দিষ্ট স্থানে বিজ্ঞাপন, প্রচারণাপত্র লাগানোর ব্যবস্থা আমরা করেছি।

Poster-6

“তারপরও যারা যত্রতত্র সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার লাগাচ্ছে; তারা তো ‘চোখ থাকিতেও অন্ধ’! এভাবে যারা শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। শুধু আমাদের অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না পাশাপাশি এ বিষয়ে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে”- যোগ করেন তিনি।

Poster-7

রাস্তার পাশে এমন পোস্টার-ব্যানারের ছড়াছড়ির বিষয়ে মিরপুরে সাইদুর রহমান নামের এক পথচারী বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন, বিজ্ঞাপনে পুরো এলাকা ভরে গেছে। যে কারণে এ এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন এসব ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর জন্য আলাদা জায়গা করলেও লাভ হচ্ছে না। কারণ বিজ্ঞাপনদাতারা চায় প্রচারণা, তাই তারা নির্দিষ্ট জায়গায় নয় সব স্থানেই পোস্টার লাগাতে চায়। আর যারা এভাবে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এএস/জেডএ/এমএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :