‘প্লাটিলেট দ্রুত নেমে যাচ্ছে, দোয়া করো’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৮

‘প্লাটিলেট দ্রুত নেমে যাচ্ছে, দোয়া করো।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে স্বজনদের প্রায়শ এ ধরনের স্ট্যাটাস দিতে দেখা যাচ্ছে।

প্লাটিলেট কমে গেলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ও শকড সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মারাত্মক রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে এ আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্বজনরা ডোনারের (রক্তদাতা) সন্ধানে ছুটোছুটি করছেন। ডোনারের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ও সংগৃহীত রক্ত থেকে আলাদাভাবে প্লাটিলেট সংগ্রহ করে রোগীকে বাঁচাতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশ প্রাণে বাঁচলেও নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক কাটছেই না।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৪১ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৬ জন, ফেব্রুয়ারি ৭ জন, মার্চ ৫ জন, এপ্রিল ১৪ জন, মে ৩৫ জন, জুন ২৭৬ জন, জুলাই ৮৮৭ জন, আগস্ট ১৬৬৬ জন ও সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৫ জন ভর্তি হন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর রোগ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আকতার জানান, চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫ হাজার ৫০৩ জন। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে মোট ২২২ জন ডেঙ্গু জ্বরে রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে জুনে ৩ জন, জুলাইয়ে ৪ জন, আগস্টে ৬ জন ও সেপ্টেম্বরে ৩ জন মারা যান। গত ২৪ ঘণ্টার ৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা জানান, জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু মৌসুম। এডিস মশা স্বচ্ছ পানিতে জন্মে। তাই বাড়ির আশপাশের বৃষ্টির পানিসহ যে কোনো ধরনের স্বচ্ছ পানি যাতে না থাক সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময়ে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে আইসিডিডিআরবির গবেষক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ধরন বদলে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি রোগীর প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে সাধারণ জ্বর হলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার কিংবা ৩ লাখ থাকলেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্তে প্লাটিলেট ২০ হাজার/২৫ হাজারে নেমে যাচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক কিংবা ডেঙ্গু শকড সিন্ড্রোম হয়ে রোগীর হার্ট, লাং ও কিডনি ফেইল হচ্ছে। ফলে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ, রক্তের প্লাটিলেট পরীক্ষা করা ও প্লাটিলেটের পরিমাণ ৫০ হাজারের নিচে নামলে ডোনারের কাছ থেকে রক্তে সংগ্রহ করে সংগৃহীত রক্ত থেকে প্লাটিলেট সংগ্রহ করে রোগীকে দিতে হবে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃতের চিত্র

মাসের নাম

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

ডেঙ্গুতে মৃত রোগীর সংখ্যা

জানুয়ারি

২৬

 

ফেব্রুয়ারি

 

মার্চ

 

এপ্রিল

১৪

 

মে

৩৫

 

জুন

২৭৬

জুলাই

৮৮৭

আগস্ট

১৬৬৬

সেপ্টেম্বর

২৮২৫

এমইউ/এসএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :