পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘কর্ম গড়ে ভবিষ্যৎ, কর্মই গড়বে ২০৩০-এ ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব’।

দিবসটি উপলক্ষে কথা হয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের সঙ্গে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম জাগো নিউজের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

মাহফুজুল হক বলেন, ‘খাদ্যের নিরাপত্তা মানেই জীবনের নিরাপত্তা। যেন জীবন আর খাদ্য একসূত্রে গাথা। কিন্তু খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত একটি জটিল বিষয়। চাইলেই রাতারাতি এর সমাধান মিলবে না। আমাদের যাত্রা সবে। আরও দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে। খাদ্যের নিরাপত্তা এখনও বহুদূর।’

“কারণ, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন হয়। আইনটি বাস্তবায়নে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। এখন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করছি। বিভিন্ন আইন-কানুন বিধি-বিধান তৈরি হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে (এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্টিভিটি) কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের চেষ্টা করেছি। নিরাপদ খাদ্য- এটি কিন্তু বিশাল বিষয়। উৎপাদন থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত মান নিশ্চিতের বিষয়। এজন্য আমাদের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত দফতর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা লাগছে।”

তিনি বলেন, ‘আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্নভাবে খাদ্য নিয়ে কাজ করতো। সেন্ট্রালি রেগুলেটরি বডি হিসেবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যাতে নিজ নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে, সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাজের সমন্বয় করা হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, উৎপাদক ও প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছি। আমরা উৎকৃষ্ট পদ্ধতি ব্যবহারে উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করছি।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের ১৬ কোটি মানুষ সহজে ও স্বল্পমূল্যে যাতে নিরাপদ খাদ্য পায় তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও আমাদের সক্ষমতা- সবগুলো দিক বিবেচনায় নিয়ে মানুষ যাতে নিরাপদ খাদ্য পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। এজন্য সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও সরকার- সবপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

‘খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত’- উল্লেখ করে মাহফুজুল হক বলেন, ‘তাদের বেশির ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক। তাদের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা খুবই কঠিন কাজ। সেজন্য আমরা জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছি। জনগণকে সচেতন করতে পারলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন বড়বড় প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করছে। আমাদের প্রত্যাশা, খাদ্য উৎপাদনে তারা উৎকৃষ্ট পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করবে। এটি যথাযথ পরিপালনে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি করতে যেন তারা বাধ্য হয়, সেজন্য তাদের সতর্ক করছি। না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। আইনে বলা হয়, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং এজন্য একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এ আইন করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। একদিন পর ২ ফেব্রুয়ারি ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এসআই/জেডএ/এমএআর/আরআইপি