বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ে ধসের শঙ্কা!

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএনপি নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরী

বেসরকারিকরণ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ায় বিএনপিতে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও ভেতরে ভেতরে আশঙ্কা, আরও দু-একজন জ্যেষ্ঠ নেতা দল-বদল করে বা নিষ্ক্রিয় হয়ে বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ে ধস নামতে পারে।

আরও পড়ুন >> বিএনপি ছেড়ে আ.লীগে ইনাম আহমেদ


বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইনাম আহমেদ চৌধুরী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। তার এ দল-বদল নিয়ে বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে শমসের মবিন চৌধুরী, পরে ইনাম আহমেদ চৌধুরী; রিয়াজ রহমান বার্ধক্যে, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অসুস্থতা এবং শফিক রেহমান আগের মতো সক্রিয় নেই। এরপর আব্দুল মঈন খান যদি কোনো কারণে নিষ্ক্রিয় হন বা দলত্যাগ করেন তাহলে বিএনপির কূটনৈতিক উইং তো একপ্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।’

তার মন্তব্য, ‘হয়তো একজন চলে গেলে অন্য কেউ কাজ করবেন, কিন্তু একজন শমসের মবিন চৌধুরী বা একজন ইনাম আহমেদ চৌধুরী তো আর দু-চার-পাঁচ বছরে তৈরি হবে না- এটাতো স্বীকার করতেই হবে। ইনাম আহমেদ চৌধুরী মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও দলে থাকলে নেতাকর্মীদের সহমর্মিতা পেতেন, সমীহ পেতেন।’

‘ইনাম আহমেদ চৌধুরীর দল-বদলে বিএনপির কূটনৈতিক উইং ছাড়া ভোটের ক্ষেত্রে বা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না। কারণ তিনি মাঠের নেতা নন, বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি করতেন, আগে আমলা ছিলেন। এছাড়া এখন যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, মানুষ দুই মার্কার রাজনীতি করে, ব্যক্তির রাজনীতি করে না।’

ইনাম আহমেদ চৌধুরীর দল ত্যাগের বিষয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তার চলে যাওয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না, অতীতেও বহু লোক দলত্যাগ করেছেন। তারা যার যার মতো করে, বিভিন্ন কারণে চলে গেছেন; এতে দলে কোনো প্রভাব পড়েনি। অনেক বড় বড় ডাকসাইটের নেতাকেও আমরা দল-বদল করতে দেখেছি। এতে বড় দলগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি বরং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারাই মাইনরিটি হয়েছেন এবং তাদের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

আরও পড়ুন >> আ.লীগে যোগ দেয়া জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত : ইনাম চৌধুরী

‘বিএনপি এত বড় দল, দু-একজন ছেড়ে গেলে সমস্যা হয় না। আজ নাজমুল হুদার অবস্থার দিকে তাকান, কর্ণেল অলির অবস্থার দিকে তাকান, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দিকে তাকান; উত্তর পেয়ে যাবেন।’

ইনাম আহমেদ চৌধুরীর দল-বদল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ইনাম আহেমদ চৌধুরী ফুলের তোড়া দিচ্ছেন- এমন ছবি ফেসবুকে নিজের ওয়ালে পোস্ট করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশিতা লিখেছেন, ‘বিএনপি নামধারী এসব মোনাফেকদের জন্যই দল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে।’

সেখানে (ফেসবুক ওয়ালে) ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী মন্তব্য করেন, ‘এদের মতো কুলাঙ্গাররা কী করে দলে এসে বড় বড় পদ পায়, কে কে তাদের এত বড় পদ দিতে সহযোগিতা করে, দলের নেতাকর্মীরা একদিন তাদের খুঁজে বের করবে।’

এ বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন বলেন, ‘ইনাম আহমেদ চৌধুরী শেষ বয়সে এবং নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে যে ভুল করলেন তার খেসারত উনার পরবর্তী প্রজন্ম দেবে। বিএনপি আগেই বুঝতে পেরেছিল ইনাম আহমদের আওয়ামী কানেকশনের কথা, যে কারণে নমিনেশন পরিবর্তন করা হয়েছিল। প্রাথমিক নমিনেশন পেয়েই ইনাম আহমেদ চলে গিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতে বাসায়, উনার সঙ্গে দেখা করতে।’

ইনাম আহমেদ চৌধুরীর দলত্যাগ নেতাকর্মীদের মধ্যে এবং ভোটের মাঠে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে- জানতে চাইলে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, ‘এখানে বেগম খালেদা জিয়া আর ধানের শীষ মুখ্য। অন্যকিছুর প্রভাব খুব একটা পড়বে বলে মনে করি না। উনি আশা করেছিলেন সিলেট-১ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু পাননি, সে কারণে কষ্ট পেয়েছেন। এজন্য দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা চিন্তা করিনি!’

‘এটা ওনার ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি, আমাদের তো মানুষের প্রতি অঙ্গীকার রয়েছে, দলের ডিসিপ্লিন মেনে আমরা সেটা করি। মনোনয়ন না পাওয়ায় কষ্ট পেলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন- এটাই আমার প্রত্যাশা ছিল।’

এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী বা ভোটের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি নিজ ইচ্ছায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আমরা বিএনপি করি, দলকে ভালোবাসি। আমরা মনে করি, কারও যাওয়া-আসায় আমাদের কোনো কিছু হবে না। আমরা সংঘবদ্ধ আছি, ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

কেএইচ/এমএআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :