স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হব, হয়েছি

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৩ পিএম, ২৯ মে ২০১৯

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য জর্জিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাচিত সিনেটর। জন্ম বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুরে। প্রায় চার দশক আগে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সে দেশে ডেমোক্রেটিক পার্টির সক্রিয় রাজনীতিক। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজের সুবাদে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ মিলেছে তার।

সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন এ সিনেটর। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, রাজনীতি, নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। আলোচনা করেন নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য নিচে তা তুলে ধরা হলো-

আরও পড়ুন >> ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে চান ট্রাম্প

জাগো নিউজ : আপনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে মূলধারার রাজনীতি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। আমরা বাইরে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থা নিয়ে একরকম ভেবে থাকি। আপনি কীভাবে দেখেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : আমেরিকার আজকের যে রূপ, তা মূলত অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে উঠেছে। আমি ৪০ বছর আগে সেখানে গিয়েছি। আরেকজন হয়তো ১০০ বছর আগে গেছেন। কয়েক শতকে যুক্তরাষ্ট্র আজকের অবস্থায় এসেছে।

সেখানে রক্ষণশীল সাদা চামড়ার মানুষদের একধরনের প্রভাব তো আছেই। তারা মনে করছেন, রক্ষণশীলরা ফের ক্ষমতায় এসেছেন এবং সেই ভাবটাই প্রকাশ করা দরকার। তবে আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ এ ধারণা প্রকাশ করেন না।

সেখানকার অধিকাংশ জায়গা আছে, যেখানে সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো সমস্যা নয়। আবার অনেক জায়গা আছে, যেখানে আমাদের মতো সংখ্যালঘুদের বেশ সতর্ক থাকতে হয়। নানা রকম উস্কানি তো আছেই। সেটা ভেতরে কিংবা বাইরে- উভয় দিক থেকেই। এ পরিস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আসার পর বেড়েছে।

জাগো নিউজ : ডোনাল্ড ট্রাম্প তো আরও দুই বছর আছেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : হ্যাঁ, এ দুই বছর আমাদের মতো অভিবাসীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভোটার তালিকায় এখনও নিবন্ধিত হননি, তারা দ্রুত নিবন্ধনের কাজ সেরে ফেলতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দেয়া।

বিশেষ করে সংখ্যালঘু অর্থাৎ ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠী সেখানে বাস করছেন। তাদের স্বার্থেই প্রেসিডেন্টের পরিবর্তন দরকার। একেবারে সাদা চামড়ার বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জাগো নিউজ : আপনি আপনার রাজনৈতিক জায়গা থেকে বিভাজনের কথা বলছেন। কিন্তু আমি মূলত গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পরাক্রমশালী যুদ্ধবাজ দেশ মনে করি। আমাকে আপনি কী বোঝাবেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : ঠিকই বলেছেন। বাইরের মানুষ তা-ই মনে করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব থেকে এটি মনে করার যৌক্তিক কারণও আছে।

আরও পড়ুন >> ইরান ট্রাম্পের শেষ দেখলেও ট্রাম্প দেখতে পারবেন না

কিন্তু দেশটির অনেকেই যুদ্ধ চান না। আপনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ইতিহাস দেখেন। দেখবেন, রিপাবলিকানরাই যুদ্ধের ব্যাপারে অধিক মত দিয়ে আসছেন। কিন্তু আমরা ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতি করি, আমরা যুদ্ধের বাইরে থাকতে পছন্দ করি। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের সবাই যুদ্ধ চান না। এ কারণেই সংখ্যালঘুদের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে হবে, যারা যুদ্ধ চান না। এটি আমাদের দায়িত্ব।

জাগো নিউজ : যুদ্ধ চাওয়া-না চাওয়া তুলনা করছেন কীভাবে?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : আমরা সাধারণ মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করছি। তাদের চিন্তা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগোতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি বা জাতীয় স্বার্থের বিষয় সামনে এলে হয়তো সবাই সমর্থন দেবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষই আর যুদ্ধ চান না। মানুষ এখন যুদ্ধের বিপক্ষে। এটি সবার জানা উচিত। রিপাবলিকানরা দলীয় নীতিতে যুদ্ধকে গুরুত্ব দিতে পারেন। কিন্তু তাদের সাধারণ সমর্থকদের অনেকেই যুদ্ধের বিপক্ষে।

জাগো নিউজ : যুদ্ধের বিপক্ষে এই যে অবস্থান, সেটা কী তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : হ্যাঁ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সেনাবাহিনীতে সাধারণ ঘরের সন্তানরাই যোগ দেন। শক্তি দিয়ে কাউকে সেনাবাহিনীতে আনা হয় না। স্বেচ্ছায় আসেন। তারা যুদ্ধের নামে বছরের পর বছর ধরে বিদেশে থাকছেন। ঝুঁকি নিচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে পারছেন না। জীবনের মানে বদলে যাচ্ছে। তাদের কাছে এ পরিস্থিতি অসহনীয় হবেই।

জাগো নিউজ : তাহলে কী বলা যায়, যুদ্ধ করতে করতে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই ক্লান্ত?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : আমি ঠিক তা মনে করি না। আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে চৌকস, শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ। তারা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন >> সামরিক ঐতিহ্য ইরানের সংস্কৃতির অংশ

জাগো নিউজ : তাহলে যুদ্ধের বিপক্ষে জনমত বাড়ার কারণ কী?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : যারা কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের সন্তানরা যুদ্ধে যাচ্ছেন না। যুদ্ধে যাচ্ছেন সাধারণ পরিবারের সন্তানরা। আমি সাধারণ মানুষের কথাই বলছি। তারা শান্তির পক্ষে। সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই অশান্তি চান না। জাতীয় ইস্যু ছাড়া মানুষ আসলে যুদ্ধ নিয়ে একপ্রকার বিরক্তও। আমেরিকার পরিবারগুলো এখন নিজেদের নিয়ে সুখে থাকতে অভ্যস্ত। বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের আর রাখতে চান না। দীর্ঘসময় যুদ্ধের মধ্যে থাকলে ক্লান্তি বাড়তেই পারে।

জাগো নিউজ : আমেরিকার মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে আগেও ছিল। আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো যুদ্ধবাজ নেতাও নির্বাচিত হচ্ছেন…

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পদ্ধতির কারণে ট্রাম্প জিতেছেন। কিন্তু সব মিলে ভোট তিনি কম পেয়েছেন। এখানে আমাদের মতো সংখ্যালঘুদেরও দায় আছে। ট্রাম্পের উগ্রবাদী নীতির সঙ্গে যারা সহমত পোষণ করেন, তারা ভোট দিতে ভুল করেননি। কিন্তু আমরা সংখ্যালঘুরা কথায় ঝড় তুলি। ভোট দিতে আসি না।

ট্রাম্প যদি ফের ক্ষমতায় আসেন, সেটা আমাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই হবে। কারণ আমরা যদি ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকি এবং প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব বুঝতে পারি, তাহলে কোনোভাবেই ট্রাম্পের মতো নেতা নির্বাচিত হতে পারবেন না।

জাগো নিউজ : মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিকরা বিজয়ী হলেন। এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে কী বলবেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : মানুষ সজাগ হয়েছে। এ কারণেই ডেমোক্রেটিকরা বিজয়ী হয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন অভিবাসীদের স্বার্থের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে আসছে। পরিস্থিতি আপাতত ভালো।

তবে ডেমোক্রেটিকদের বিজয়ী করতে হলে সবাইকে নিবন্ধিত হতে হবে। সংখ্যালঘুরা সবাই একত্রিত হলে তারাই বিজয়ী হবে। আর নিজেদের স্বার্থের জন্যই এটি করা দরকার। কারণ তালিকাভুক্তি হতে না পারলে বাজেটে বরাদ্দ হবে কীভাবে? সব বাঙালি যদি নিবন্ধিত হন, তাহলে সেই সংখ্যা নিয়ে আমরা যে কোনো পরিস্থিতিতে দরকষাকষি করতে পারব। একবার ভোট দিতে পারলেই রেকর্ড হয়ে থাকছে। অর্থাৎ আপনি সারাজীবন গণনার মধ্যে থাকলেন।

আরও পড়ুন >> বিশ্বে যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

জাগো নিউজ : সারাবিশ্বেই কর্তৃত্ববাদের বিস্তার ঘটছে। ভারতে বিজেপির মতো দল নিরঙ্কুশ আসন পেল। সেই প্রশ্নে ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্ব পেতেই পারেন…

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : এ কর্তৃত্ববাদ যে বিশ্বে শান্তি আনতে পারছে তা তো নয়। সুতরাং পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকাই হচ্ছে সভ্যতাকে এগিয়ে নেয়া। অনুচিত কর্তৃত্ববাদের বিপক্ষে কিন্তু আওয়াজ সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ওঠে।

আমি অন্তত সমাজ ও রাজনীতিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে অভ্যস্ত। এ কারণেই শান্তিপ্রিয় মানুষদের রাজনীতিতে, ভোটে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে ওবামা প্রশাসন কাজ করেছিলেন। আমাদের ঠিক সেভাবেই ভাবতে হবে। ভালোকেই আগলে রাখতে হবে। তাহলে দেশের জন্যও ভালো, বিশ্বের জন্যও ভালো।

জাগো নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধচোখ’ এখন ইরানে। কী ভাবছেন আপনারা?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : ট্রাম্পকে স্ট্যাডি করা সত্যিই মুশকিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আসলে কী চান, তার মাথায় যে কী কাজ করে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এমনকি রিপাবলিকানরাও সম্ভবত বুঝতে পারেন না। তিনি হুজুগেই কাজ করে ফেলছেন। পর্যবেক্ষণ শক্তি তার ক্ষীণ বলেই বিশ্বাস করি। তিনি আসলে ইরানে কী করবেন, তা বোঝা যাচ্ছে না।

জাগো নিউজ : এ যুদ্ধাবস্থা নিয়ে ডেমোক্রেটিকদের অবস্থান কী?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : ডেমোক্রেটিকদের পক্ষ থেকে আমি জোর দিয়েই বলতে পারি, এ মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।

জাগো নিউজ : যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যদি সত্যি সত্যিই হামলা করে, তাহলে ফলাফল কী হতে পারে?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : আমি মনে করি, যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না। উভয় পক্ষই হারে। আমি অন্তত তা-ই বিশ্বাস করি। যুদ্ধে ইরানও হারবে, যুক্তরাষ্ট্রও হারবে। যুদ্ধের ফলাফল কী হতে পারে, সে অভিজ্ঞতা সবার সামনেই। এটি সবাইকে খেয়াল রাখা দরকার। শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে নয়, বিশ্বের সব দেশকেই দায়িত্বশীল আচরণ দেখানো উচিত।

আরও পড়ুন >> যুক্তরাষ্ট্রের ভাসমান ট্রেনের আবিষ্কারক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

জাগো নিউজ : আপনার দল কি ইরানে যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেবে?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : আমরা এ যুদ্ধ নিয়ে এখনও কোনো পক্ষ অবস্থান করিনি। তবে আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জনমতও তৈরি করছি না।

জাগো নিউজ : কেন? এটা কী রাজনৈতিক স্বার্থেই?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : এখন যুদ্ধের সময় নয়। ডেমোক্রেটিকরা তা-ই মনে করছেন। আমরা আমাদের নিজেদের এলাকার স্বার্থ-সমস্যা নিয়ে কথা বলছি এখন। আমরা নাগরিক অধিকার নিয়ে ভাবছি এবং সব প্রতিনিধিকে তা-ই ভাবা দরকার। যে যুদ্ধের দরকার নেই, তা নিয়ে রাজনীতি করারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করি।

জাগো নিউজ : জানতে চাইছি, যুক্তরাষ্ট্রে আপনার রাজনীতিতে আসার প্রসঙ্গে...

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে জর্জিয়ায় কাজ করে আসছি। আমি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অধিকার নিয়েও কাজ করেছি। এসব কাজ করতে গিয়ে সবার কাছে যেতে পেরেছি।

আমার এলাকায় একশটি দেশের মানুষের বসবাস। তাদের অধিকার নিয়েও নানা সমস্যা আছে। আমি সবার জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। অভিবাসী প্রায় সবাই আমাকে ভোট দিয়েছেন। ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকার মানুষরাও আমাকে ভোট দিয়েছেন।

জাগো নিউজ : প্রভাবশালী দেশে রাজনীতি করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কী বলবেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : সত্যি কথা বলতে কী, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কারণ, আমি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি করি।

এরপরও বলছি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো তুলনা হয় না। রাত-দিন তফাৎ। আমাদের সংবিধান সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ। অভিযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি মানুষের ভোটাধিকারকে সুরক্ষা দেয়।

আরও পড়ুন >> যুক্তরাষ্ট্রের ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ পেল খায়রুল

জাগো নিউজ : এবার এসে বাংলাদেশকে কেমন দেখলেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাক। সবদিক দিয়েই যেন উন্নয়ন হয়।

তবে বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে শহরকেন্দ্রিক। এ উন্নয়নে বৈষম্য তৈরি হয়। গ্রামের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের সত্যিকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশের সমাজ আর ইউরোপ-আমেরিকার সমাজ এক নয়। উন্নয়নের ধারা রাজধানী ঢাকা থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।

একই ভাবে চিন্তা, রাজনীতি, গণতন্ত্রের উন্নয়নকেও সম্মান জানাতে হবে। গণতন্ত্রের উন্নয়ন ছাড়া কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হবে বলে মনে করি না।

জাগো নিউজ : রাজনীতিতে আছেন, এ পথে আর কত দূর যেতে চান?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হব, হয়েছি। রাজনীতি করছি, করেই যাব। আপাতত সামনের নির্বাচন নিয়েই ভাবছি। যে এলাকার মানুষ আমাকে বিজয়ী করেছেন, তাদের জন্য যেন কাজ করতে পারি, এটাই লক্ষ্য।

জাগো নিউজ : পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রত্যাশা করছেন?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : আমরা প্রত্যাশা করছি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে পারব। ডেমোক্রেটিক পার্টির যিনি আসবেন তিনি বেশ যোগ্য হবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা সংকট যাচ্ছে। সংকট আছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও। ট্রাম্প নিজেই মূলত এজন্য দায়ী। এ কারণে অধিকাংশ আমেরিকান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব, পরিবর্তন আনতে।

আরও পড়ুন >> রাজধানী সরে যাক নতুবা জাপানের নীতি গ্রহণ করুক

জাগো নিউজ : জীবনের শেষ বেলায় যুক্তরাষ্ট্র নাকি বাংলাদেশে থাকতে চান?

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন : মানুষের শেষ অবস্থান কোথায়, তা বলা খুবই মুশকিল। বাংলাদেশে তো প্রাণ পড়েই থাকে। এখানেই সব। মা আছেন। বাড়ি আছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রেই এখন সব কাজ। পরিবার নিয়ে সেখানেই অবস্থান। শেষ কোথায়, তা আল্লাহ নির্ধারণ করবেন।

এএসএস/এমএআর/বিএ

বিশেষ করে সংখ্যালঘু অর্থাৎ ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠী সেখানে বাস করছেন। তাদের স্বার্থেই প্রেসিডেন্টের পরিবর্তন দরকার

যারা কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের সন্তানরা যুদ্ধে যাচ্ছেন না। যুদ্ধে যাচ্ছেন সাধারণ পরিবারের সন্তানরা। আমি সাধারণ মানুষের কথাই বলছি। তারা শান্তির পক্ষে

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পদ্ধতির কারণে ট্রাম্প জিতেছেন। কিন্তু সবমিলে ভোট তিনি কম পেয়েছেন। এখানে আমাদের মতো সংখ্যালঘুদেরও দায় আছে

ট্রাম্পকে স্ট্যাডি করা সত্যিই মুশকিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আসলে কী চান, তার মাথায় যে কী কাজ করে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এমনকি রিপাবলিকানরাও সম্ভবত বুঝতে পারেন না

যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না। উভয় পক্ষই হারে। আমি অন্তত তা-ই বিশ্বাস করি। যুদ্ধে ইরানও হারবে, যুক্তরাষ্ট্রও হারবে

বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে শহরকেন্দ্রিক। এ উন্নয়নে বৈষম্য তৈরি হয়। গ্রামের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের সত্যিকার উন্নয়ন সম্ভব নয়

আপনার মতামত লিখুন :