ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে শঙ্কা, আছে বিকল্প প্রস্তুতিও

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দীর্ঘ ২৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে কাউন্সিল। কাউন্সিল ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। আছে শঙ্কাও। কারণ এর আগে ছাত্রদলের যেসব কমিটি হয়েছে তা ছিল ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো সংগঠন। দলীয় বিভাজনে গণতান্ত্রিক সংগঠনে চাপিয়ে দেয়া হতো অগণতান্ত্রিক কমিটি!

পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র, মামলা, হামলা ও গ্রেফতার। এত সব শঙ্কার মধ্যেও দীর্ঘদিন পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সিদ্ধান্তে উজ্জীবিত সংগঠনের তৃণমূল। যেখানে তৃণমূলের কোনো খোঁজখবর রাখতেন না কেন্দ্রের নেতা, এখন তারাই ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূলে। হঠাৎ যেন কদর বেড়েছে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এ কারণে অনলাইনে বিকল্প প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে কাউন্সিল সফল করতে বিকল্প এ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাত্রদলের বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচনায় আছেন আট সিন্ডিকেটের ৩৩ প্রার্থীও। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল।

কাউন্সিল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে ছাত্রদলের প্রার্থীদের মধ্যেও। সভাপতি প্রার্থী মো. এরশাদ খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপনারা জানেন, কাউন্সিল নিয়ে সংগঠনের মধ্যে একটা বিরোধিতা ছিল। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়ার পক্ষে। কাউন্সিলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে আমাকে কাউন্সিলবিরোধীদের তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছে। এখন তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকার গণতন্ত্রবান্ধব নয়, সে কারণে কাউন্সিল নিয়ে একধরনের শঙ্কা থেকেই যায়।’

‘তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। ওনার যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। সেক্ষেত্রে অনলাইনে কাউন্সিল হলে আমার আপত্তি থাকবে না।’

একই ধরনের মতামত ব্যক্ত করেন সভাপতিপ্রার্থী মাহামুদুল হাসান বাপ্পী, এস এম সাজিদ বাবু এবং সাধারণ সম্পাদকপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান।

সূত্র মতে, কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত করতে দলের মধ্যে একটি মহল তৎপর। এছাড়া সংগঠনের ১২ জন বহিষ্কার হয়েছেন; বিবাহিত ও অন্যান্য বিবেচনায় প্রার্থিতা হারিয়েছেন, সংগঠনের মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেটও। সর্বোপরি বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কাউন্সিলরদের সরকার গ্রেফতারসহ নানাভাবে হয়রানি করতে পারে- এ আশঙ্কা থেকে অনলাইনে কাউন্সিল সম্পন্নের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান এপোলোকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মামলা জটিলতার কারণে তিনি ২০১৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। গত সোমবার ভোটারদের ছবি ও অনলাইন নম্বরের তালিকা তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির (বিলুপ্ত) দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনায় তিনি সারাদেশের কাউন্সিলরদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করেছেন। এ তালিকা দলের কাছে তিনি জমা দিয়েছেন। তবে কী কারণে অনলাইন নম্বরের তালিকা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো প্রকার শঙ্কা থেকে অনলাইনে বিকল্প প্রস্তুতি রয়েছে কি-না জানতে চাইলে কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের এখনও হয়নি। কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সরকার যদি বাধা দেয় সেক্ষেত্রে আমরা পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

কেএইচ/এমএআর/এমএস