২৩ বছরেও জানা যায়নি সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য

জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম জাহাঙ্গীর আলম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। মারা যাওয়ার ২৩ বছরেও জানা যায়নি তিনি কীভাবে মারা গেছেন, না-কি তাকে হত্যা করা হয়েছে?

সালমান শাহর পরিবারের দাবি, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে সিআইডি ও বিভাগীয় তদন্তে বলা হয়েছে, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তিন বছর ধরে পিবিআই সামলান শাহর অপমৃত্যুর মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছেন। সাক্ষী হিসেবে বিচারকের কাছে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ সাতজন জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে ভালো কিছু পাবেন- এমন আশা তদন্তকারী কর্মকর্তার।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহর অপমৃত্যুর মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সাক্ষী হিসেবে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ওয়াইজ, মামা আলমগীর কুমকুম, আবুল হোসেন খান, মনোয়ারা বেগম, ডলি বেগম, নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ও আশরাফুল হক ডন পূর্ব ঘটনা সম্পর্কে জবানবন্দি দেন। তাদের দেয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আশা করছি, তদন্তে ভালো কিছু পাওয়া যাবে।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাটির সঠিক তদন্ত হলে এর মূল রহস্য উদঘাটন হবে।

সালমান শাহর অপমৃত্যুর মামলার অধিকতর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরবর্তীতে ‘ছেলেকে হত্যা করা হয়েছ ‘- এমন অভিযোগ এনে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১২ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজি আবেদন দাখিল করেন।

নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) তদন্তভার দেন। তবে র‌্যাবকে তদন্ত দেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

জেএ/এমএআর/পিআর


আরও পড়ুন