বিএনপিতে কাউন্সিলের হাওয়া, অপেক্ষা তারেকের সিদ্ধান্তের

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

>> নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তারেক রহমান বিশেষ নীতি গ্রহণ
>> কমিটির আহ্বায়ক থাকলে সভাপতি/সম্পাদক প্রার্থী হওয়া যাবে না
>> সভাপতি/সম্পাদক অন্য কোনো সংগঠনের ওই পদ পাবেন না

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলের পর বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও কাউন্সিলের হাওয়া লেগেছে। এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাউন্সিল নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তারা তাকিয়ে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দিকে।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন। সাধারণ সম্পাদক হন ইকবাল হোসেন শ্যামল। যদিও ছাত্রদলের নতুন কমিটির কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করে দলের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশকিছু নেতার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হয়েছে। কাউন্সিল সফল করে বিভিন্ন সময় সমালোচিত, ব্যর্থ, নিষ্ক্রিয় নেতারা তাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করেছেন- এমনটিও অনেকে মনে করছেন।

সূত্র মতে, দল শক্তিশালী করতে এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তারেক রহমান বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছেন। কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ একবার দায়িত্ব পালন করলে পরবর্তীতে তিনি অন্য কোনো সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এছাড়া কাউন্সিলের অপেক্ষায় যেসব সংগঠনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে সেসব কমিটির পদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ওই সংগঠনের কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না।

সূত্র আরও জানায়, তারেক রহমান দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় যে মতবিনিময় সভা করেছেন সেখানে তিনি কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনে উৎসাহ দিয়েছেন। যে কারণে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও ড্যাব ও ছাত্রদলের কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপির একটি অঙ্গ সংগঠনের সদস্য সচিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতেন। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় ধরে দলের মধ্যে এ প্রক্রিয়া স্থিমিত হয়ে যায়। কিন্তু তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব লাভের পর তিনি সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সঙ্গে বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি উপলব্ধি করেন যে, দলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান। জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলের কাউন্সিল করার জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

মৎস্যজীবী দলের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে গতিশীল করার জন্য কাউন্সিলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে এক অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে যিনি একবার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি অন্য কোনো সংগঠনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তিনি বিএনপিতে পদলাভ করবেন। যেমন- রুহুল কবীর রিজভী ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হয়েছেন, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ছাত্রদলের সভাপতি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি/সম্পাদক হয়েছেন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ছাত্রদলের সভাপতি থেকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। কিন্তু তারেক রহমানের নতুন বিশেষ নীতি বাস্তবায়ন হলে এসব আর হবে না। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে সভাপতি/সম্পাদকের বাইরে যারা অন্যান্য পর্যায়ে কাজ করেন তারা তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন। এছাড়া কাউন্সিলের জন্য যেসব সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হবে ওই আহ্বায়করা কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না।’

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগামী ২ নভেম্বর কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের জন্য সংগঠনের নির্বাহী সভায় প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হোক- এটাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়া।’

তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কাউন্সিল করার জন্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এসব সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই আমরা কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করব।’

মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম বলেন, ‘শিগগিরই আমরাও কাউন্সিল করব।’

যুবদলের কাউন্সিল নিয়ে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘দলের নীতিনির্ধারকরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। এসব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে এখনও কোনো বৈঠক হয়নি। তবে দলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবিটি জোরালো হচ্ছে।’

যুবদলের নেতৃত্বে আগ্রহী ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি কামাল আনোয়ার আহমেদ বলেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রতি আমরা আস্থা রাখি। সংগঠনের স্বার্থে তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব।’

যুবদলের গত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হতে আরও প্রায় চার-পাঁচ মাস বাকি। আমরা এ মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি চাইছি। কাউন্সিল হলে সেটা পরবর্তীতে হোক।’

কাউন্সিল নিয়ে ভাবনা সম্পর্কে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের ভাবার সুযোগ নেই। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের গত কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সুপার সেভেন কমিটি দিয়ে সংগঠন চলছে, আর কয়েক মাস এ কমিটির মেয়াদ রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়া দরকার। বিভিন্ন জায়গায়ও কমিটি গঠন হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর পরবর্তীতে কাউন্সিল হলে সেটা সংগঠনের জন্য ভালো হবে।’

গত কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘কাউন্সিল হলে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

কেএইচ/বিএ/এমএআর/এমএস