সরছেন পুরাতনরা, ওসি নিয়োগে প্রাধান্য ‘দলীয় আনুগত্য’

আদনান রহমান
আদনান রহমান আদনান রহমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

ঢাকার থানাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দায়িত্ব পালন করছেন এমন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। শিগগিরই ‘বিতর্কিত’ ওসিদের সরিয়ে নিয়োগ দেয়া হবে ঢাকায় দায়িত্বপালনকারী নিষ্ঠাবান ইন্সপেক্টরদের। এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ‘দলীয় আনুগত্যের’ বিষয়টি।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাধারণত ওসি পদে দায়িত্ব পান ইন্সপেক্টর বা পুলিশ পরিদর্শক পদের কর্মকর্তারা। ঢাকার ৫০ থানার মধ্যে ইতোমধ্যে আট ওসিকে বদলি করা হয়েছে। আরও ২০ থানায় ওসিদের সরিয়ে নতুনদের বসানো হবে। নতুন ওসি নির্বাচিত করা হবে ঢাকায় কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে।

সূত্র জানায়, ঢাকার ওসি নিয়োগ দিতে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স, মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ বিভাগ, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, আইএডি বিভাগ, লজিস্টিক, অর্গানাইজড অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগ, পিআর অ্যান্ড এইচআরডি বিভাগ, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ, অপারেশন বিভাগ, সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, ক্রাইম বিভাগ, প্রসিকিউশন বিভাগের শতাধিক ইন্সপেক্টর এ তালিকায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের আমলনামাও তৈরি করা হয়েছে। সেসব কর্মকর্তাদের নাম, বিভাগের নাম, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, এমনকি পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিবরণও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আমলে থাকা শতাধিক ইন্সপেক্টরের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক বা পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। আমলনামায় ঢাকায় ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত বিএনপিপন্থী সাতজন, সাবেক ছাত্রদলের একজন, আওয়ামী লীগবিদ্বেষী একজন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন এবং ‘অসৎ’ এক কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমলনামা প্রস্তুতে ইন্সপেক্টরদের স্থানীয় ইউনিয়ন, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির ইউনিয়ন-উপজেলার পদধারীদের মতামত নেয়া হয়েছে।

ঢাকার ওসিদের বদলি ও আমলনামা প্রস্তুতের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমলনামা তৈরির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ একটি অনানুষ্ঠানিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন। এ বিষয়ে মন্তব্য করা যায় না।’

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, শিগগিরই ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। থানাপুলিশ দিয়ে এ অভিযান শুরু হবে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর ৫০ থানার ওসির আমলনামা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে ডিএমপি সদর দফতর।

‘থানার ওসিরা কতদিন ঢাকাতে দায়িত্ব পালন করছেন, কে কতটি থানার ওসি হিসেবে ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করেছেন, থানায় আসা মানুষের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেন, কতটুকু সেবা দিচ্ছেন, সেবাপ্রত্যাশী মানুষের সঙ্গে হয়রানি করেন কি-না, কারও বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি-না, থানার সার্বিক দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি রয়েছে কি-না প্রভৃতি বিষয় পর্যালোচনা করছে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স।

ইতোমধ্যে মতিঝিল-পল্টনসহ আট থানার ওসিদের বদলি করা হয়েছে। তবে ‘থানার সেবার মান উন্নয়নে’ তাদের বদলি করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার।

এদিকে পুলিশ সদরদফতরের দায়িত্বশীল সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, আগস্টে ঢাকার থানায় কর্মরত ওসি, ইন্সপেক্টর (তদন্ত ও অপারেশন্স), এসআই সমমর্যাদার ১২০ কর্মকর্তাকে ডেকে ব্রিফ করে পুলিশ সদরদফতর। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ওসিকে পৃথকভাবে ডেকে ব্রিফ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ এবং ঢাকায় দীর্ঘসময় থাকার কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি সমমর্যাদার কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টরদের সংগঠন পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (মতিঝিল থানার সাবেক ওসি) ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘থানার সেবার মান উন্নয়নে আমাদের একটি ওয়ার্কশপে ডেকে ব্রিফ করা হয়েছিল।’

এআর/এমএআর/এমকেএইচ