প্রবল আকার ধারণ করছে ধর্মভিত্তিক উগ্রতা

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি এবং জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে রাশিয়ার মস্কো ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ইকোনমি থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে উন্নয়নের রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তার ৬০০টির বেশি গবেষণাকর্ম এবং ২৪টি গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জাগো নিউজের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ নিয়ে। দীর্ঘ আলোচনায় উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে আলোকপাত করেন। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একধরনের সমাজতন্ত্র চেয়েছিলেন। তা না হলে কেন তিনি শোষিতের গণতন্ত্রের কথা বললেন?’ বর্তমান রাজনীতি, অর্থনীতি প্রসঙ্গেও মতামত প্রকাশ করেন।

বর্তমান উন্নয়ন আশাব্যঞ্জক’ বলে মত দিলেও শিক্ষার মান নিয়ে সমালোচনা করেন। বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণির ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীই দ্বিতীয় শ্রেণি পাসের সমতুল্য। উচ্চ শিক্ষার মানের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘চিরকুট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এমন অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হচ্ছে।’ এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসরণ করার মতো একজন শিক্ষকও উঠে আসেনি বলে আক্ষেপ করেন। পাঁচ পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ : দুর্নীতির কাদা তো সব জায়গায়ই মাখানো। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে একধরনের শুদ্ধিকরণের কথা বলা হচ্ছে। এমন অভিযানে কী ফলাফল আসতে পারে?

আবুল বারকাত : দুর্নীতি নিয়ে হাজার প্রশ্ন আমারও। কিন্তু আপনি চাইলেই সব একদিনে পরিষ্কার করতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধু সব পরিষ্কার চেয়েছিলেন। তাকে খুন হতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুও কিন্তু ধীরে চলার নীতি মেনেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চেষ্টা করছেন। এ বয়সে তিনি যে পরিমাণ দৌড়াদৌড়ি করছেন, সেটাই আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়। রোহিঙ্গা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত কথা বলে যাচ্ছেন। বিশ্বকে চাপ দিচ্ছেন। মানবিক কারণে জায়গা দিয়ে তিনি প্রথমে বিপদের কথা ভাবেননি। তিনি একাত্তরে ফিরে গিয়ে বিপদের কথা ভুলে থাকছেন। তিনি প্রথমে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। এখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছেন।

জাগো নিউজ : কী হতে পারে রোহিঙ্গা সংকটের?

আবুল বারকাত : আমি শুরুতে ভৌগোলিক রাজনীতির কথা বলেছি। এ অঞ্চলে ভারত ও চীনের স্বার্থ সবচেয়ে বড়। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার স্বার্থও আছে।

এমন স্বার্থের জায়গা থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলকে যে ‘মিনি কাশ্মীর’ বানানো হবে না, তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অনেকেই ঠাট্টা করে বলে, ‘৩০ লাখ শহীদ হয়েছে বাংলাদেশে, এখন রোহিঙ্গা ও এনআরসির মধ্য দিয়ে পুষিয়ে দেয়া হচ্ছে।’ সমালোচনা ও বিরোধিতার তো শেষ নেই। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিরোধিতা হচ্ছে বাইরে থেকেও।

barakat

রোহিঙ্গা ইস্যু আরেক আলোচনা। আমি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিতে চাই। এ সক্ষমতা অর্জন করতে গেলে প্রথমে অনেক বাধা আসবে। আরেকটি ১৫ আগস্ট সামনে রেখেই কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন। তিনি তো আন্দাজে কথা বলেন না। অবশ্যই তথ্য আছে।

জাগো নিউজ : এ ষড়যন্ত্রের ব্যাখ্যা কী হতে পারে?

আবুল বারকাত : এটা কঠিন প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো বিষয় শক্তভাবে হাতে নিয়েছেন। ছাত্রলীগ নিয়ে তিনি যে মেসেজ দিলেন, তা কিন্তু ছোট কোনো বিষয় নয়। মন্ত্রিসভা গঠন থেকেও আমরা মেসেজ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও জেদি মানুষ।

দিন বদলের সনদ নিয়ে যখন দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন, তার দুই মাসের মাথায় বিডিআর এর ঘটনা। ২১ আগস্ট দেখতে হয়েছে। যে শক্তিগুলো এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা তো শেখ হাসিনার বন্ধু হয়ে যাননি।

তিনি সামনে যা করতে চাইছেন এবং সহজেই সব করতে দেবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে উচ্চমানের অর্থনীতি দাঁড়াবে, আর বহিঃশক্তি বসে থাকবে, তা বিশ্বাস করি না। ১৭ কোটি মানুষের দেশ নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভাবছে।

আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না, ষড়যন্ত্রটা আসলে কী? কিন্তু বহু রকমের ষড়যন্ত্র আছে, তা হলফ করে বলতে পারি। হয়তো এমন কিছু ঘটনা আছে, যার সঙ্গে নিবিড়ভাবে ষড়যন্ত্র আছে, কিন্তু আমাদের বুঝতে দেয়া হচ্ছে না। রোহিঙ্গা সমস্যাও তেমন একটা ঘটনা হতে পারে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার লাভ, কতটুকু লাভ- এটা চিহ্নিত করুন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেলজিয়ামের কোনো লাভ নেই। বেলজিয়ামকে ক্রস আউট করেন। যাদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হতে পারে, তাদেরও বাদ দিন। আলোচনার পরিধি ছোট করে আনুন এবং স্বার্থক করে তুলুন।

সত্য উদঘাটন করে দেখা যায়, এটা উপলক্ষ। কারণ নয়। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা উপলক্ষকে কারণ হিসেবে চালিয়ে দেই।

জাগো নিউজ : রোহিঙ্গা সংকটের সত্য উদঘাটন করা গেল? এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলবেন?

আবুল বারকাত : রোহিঙ্গাদের সমাবেশে দেখলাম, সব সাদা পাঞ্জাবি আর টুপি পরা। রোহিঙ্গা লিডার মহিবুল্লাহ এসে সমাবেশে বক্তব্য দিলেন। যিনি প্রিয়া সাহার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

আমি মৌলবাদের অর্থনীতির মধ্যে ১৩১টি সংগঠনের কথা বলেছি। এর মধ্যে আরাকানের ছয়টি ইসলামী দলের নামও রয়েছে। সেখানকার একটি সংগঠনের নেতা হচ্ছেন মহিবুল্লাহ। অনেকেই আল-কায়েদার নাম ভুলে গিয়ে আইএস’র নাম বলেন। আমি ভুলিনি। আইএস হচ্ছে আল-কায়েদার সামরিক শাখা। আল-কায়েদা আছে। কারা এর সৃষ্টিকারী? খুঁজতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সিআইএ’র অফিসে যাও। এ নিয়ে অনেকেই বিতর্ক করেন।

বিশ্ব পুঁজিবাদ একক সিস্টেমে চলে। এর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ সিস্টেমের হোতা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তার কিছু বন্ধু থাকবে এবং আরও কেউ কেউ হোতা হতে চায়। এ হোতা হতে চাওয়ার প্রতিযোগিতায় একটি হচ্ছে চীন।

জাগো নিউজ : এ সিস্টেমে বাংলাদেশের অবস্থান…

আবুল বারকাত : আমরা আসলে স্থির কোনো জায়গায় অবস্থান করতে পারছি না। কখনও যুক্তরাষ্ট্র, কখনও চীন, কখনও ভারত, কখনও রাশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করতে চেষ্টা করি। এদের বাইরে অন্য শক্তিগুলোও যেতে পারে না। সৌদি আরবের মতো দেশও যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল।

তালেবান, আল-কায়েদার সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করলেই পক্ষগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিন লাদেন একসময় বলেছে, বিশ্বে দুটি শত্রু। একটি কমিউনিজম, আরেকটি রাজতন্ত্র। তাকে বলা হলো, তুমি একই সময়ে দুটির সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না। আগে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করো, পরে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সৌদির মতো রাজতন্ত্রকে রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি। আবার প্রয়োজনে নিজ পুঁজির স্বার্থে ধ্বংসও করে যুক্তরাষ্ট্র।

barakat

হোতা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থে এমন কোনো হেন বিষয় নেই, যা সে ব্যবহার করবে না। এর মধ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ। ধর্ম প্রবল শক্তিধর একটি অস্ত্র।

জাগো নিউজ : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ শক্তি নিয়ে কী বলবেন?

আবুল বারকাত : বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক যে উগ্রতা, তা প্রবল আকার ধারণ করছে বলে আমি মনে করি। ব্রিটিশ আমলে বিপ্লবী ছিলাম। এরপর পাকিস্তানি হয়েছি। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা যায় বলে মুসলমান হতে থাকলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংক্ষিপ্ত সময় ধরে আমরা বাঙালি ছিলাম। এরপর আর বাঙালি থাকিনি। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পর মুসলমান হয়ে গেলাম। এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার পর খাঁটি মুসলমান হলাম। পাঠ্যবইয়ে ধর্ম গুরুত্ব পেতে থাকল।

জাগো নিউজ : সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, মৌলবাদের বিস্তার রোধ হচ্ছে শক্ত হাতে…

আবুল বারকাত : পুলিশের কর্তারা কিন্তু একজনও বলেন না যে, হরকাতুল জিহাদ নামে বা জেএমবি নামে কিছু নেই। তারা নাম পরিবর্তন করে বলছেন, নব্য জেএমবি। জেএমবি ও নব্য জেএমবির মধ্যে পার্থক্য কী, আমি বুঝি না। এ নাম পুলিশ আবিষ্কার করে না-কি, জঙ্গিরা দিয়েছে, তাও পরিষ্কার নয়। ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার সময় যে লিফলেট বিতরণ করা হয়, সেটাই তো ইশতেহার। হিজবুত তাওহীদের রঙিন বড় বড় পোস্টার ভিআইপি রোডে। ভালো ভালো কথা লিখে খিলাফতের রাজত্বের কথা বলা হয়।

জঙ্গিদের দুটা গ্রুপ। একটি অশিক্ষিত ও মাদরাসাভিত্তিক। আরেকটি হচ্ছে আধুনিক উচ্চশিক্ষিত। হিজবুত তাহরীর কোনো লোককে আপনি গ্রামে পাবেন না। তারা প্রধানত শিক্ষিত গ্রুপ থেকে আসে।

ধরুন, কোনো বাড়িতে তিন ভাই। এক ভাই নেশাগ্রস্ত। তার অবনতি দেখে বাকি দুই ভাই ধর্মীয় মৌলবাদের দিকে ঝোঁকে বা ঝোঁকার সম্ভাবনা থাকে। এ সম্ভাবনা দূর করতে আপনি কী করছেন?

মৌলবাদের বিরুদ্ধে আপনি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সমাধান আনতে পারবেন না। এটা একটা আদর্শ। আদর্শের বিরুদ্ধে আপনাকে আদর্শ দিয়ে লড়াই করতে হবে। পার্থিব জীবনে মানুষকে টানতে হবে। মাস্টার্স পাস শিক্ষার্থী যদি বেকার থাকে, তাহলে হতাশা থেকে সে যেকোনো বিপদের পথেই পা বাড়াতে পারে।

আমি গবেষণায় দেখিয়েছি, মাদরাসা থেকে পাস করা শতকরা ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীই বেকার থাকছে। তারা রাষ্ট্রের মূলধারার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। এমন বেকারকে যদি খেলাফতের রাজত্বের কথা বলা হয় এবং তাকে যদি জীবন দিতে বলা হয়, তাহলে সে তো প্রস্তুত থাকবে। পুলিশের হাতে আটক অনেক জঙ্গির সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমি চট্টগ্রাম থেকে আটক এক জঙ্গির সাক্ষাৎকার নিলাম। সে আমাকে চেনেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘আপনার কোনো অধিকার নেই জিহাদ থেকে আমাকে নিবৃত্ত করার। আমাকে নিবৃত্ত করলে আপনি জেহাদের শত্রু হবেন। জেহাদের শত্রুদের নির্মূল করা ছাড়া আমার কোনো পথ নাই।’ একেবারে পরিষ্কার করে বললেন।

আপনি বক্তব্য দিয়ে জঙ্গি নির্মূলের কথা বলে কোনো সমাধান পাবেন না। আপনার কথার মধ্যেও অনেক কথা আছে।

জাগো নিউজ : জঙ্গি বিস্তারে অভ্যন্তরীণ না-কি বাইরের শক্তিকে গুরুত্ব দেবেন?

আবুল বারকাত : আমি বাইরের শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাদের হেডকোয়ার্টার বাইরে। তাদের আপনি দেশের ভেতরে নির্মূল করলেন। লাভ হবে না। কারণ জঙ্গিরা এখন একটা গোষ্ঠীতে সীমাবব্ধ নেই।

একটা জেলায় ১০ জনের একটা জঙ্গিগোষ্ঠীও থাকতে পারে। তারা সবাই যদি আত্মঘাতী হয়, তাহলে বিপদ ভয়ঙ্কর হবে। সংগঠনের সবাই যদি একই মাপের হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল।

জঙ্গিরা সবাই কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ করে আল-কায়েদার প্লাটফর্মে আসার চেষ্টা করছে। এটাই হচ্ছে বিপদের। আল-কায়েদার মাস্টার প্ল্যানে বলা আছে, ‘খিলাফত শাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে পতনের ১০০ বছর পর মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ফের খেলাফাত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে’। আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কে খেলাফত রাষ্ট্রের পতন ঘটে ১৯২৪ সালে। ২০২৪ সালে ১০০ বছর হবে। আমরা কাছাকাছি সময়ে আছি।

এ প্রক্রিয়ায় দুটি মানাম বা বিশ্বমানের যুদ্ধ হবে। একটা হবে হিন্দ মানাম অর্থাৎ ভারত এবং এর আশপাশের এলাকায়। দ্বিতীয়টা হবে মধ্যপ্রাচ্যে। এ যুদ্ধের সময় পাঁচটি ভীতি বলয় (থ্রেট বেল্ট) তৈরি করা হবে। এ বেল্টের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমার-পাকিস্তান-নেপাল-ভুটান থাকছে। এ বেল্টে আরও পাঁচটি অঞ্চলের কথা বলা আছে। বঙ্গোপসাগর, কাশ্মীর, সেভেন সিস্টার্সও আছে তার মধ্যে।

বলা হচ্ছে, তালেবানরা ফের ক্ষমতায় আসবে। কথা কিন্তু সত্য। তালেবানরা আফগানিস্তানের ৮০ ভাগ অঞ্চল দখলে রেখেছে। তাদের লিডার এখন ট্রাম্প। বোঝাপড়া তার সঙ্গেই। হোতা সাম্রাজ্যবাদ যুক্তরাষ্ট্র, তার সাম্রাজ্যের স্বার্থে সবই করতে পারে। তার মধ্যে ধর্ম একটা।

জাগো নিউজ : এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় কী?

আবুল বারকাত : ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত করা জরুরি। একত্রিত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীও নিতে পারেন।

বিভেদ থাকতেই পারে। একত্রিত করতে পারাটা খুবই কঠিন। কিন্তু এর বাইরে আর কোনো পথ নেই। এতক্ষণ আমি যা বলেছি, তা যদি পুরোটাই মিথ্যা হয় তাহলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কোনো কিছুর দরকার নেই। কিন্তু আমার কথা যদি অল্প সত্যও হয়, তাহলে বিপদ অনিবার্য।

এএসএস/এমএআর/জেআইএম

বলা হচ্ছে, তালেবানরা ফের ক্ষমতায় আসবে। কথা কিন্তু সত্য। তালেবানরা আফগানিস্তানের ৮০ ভাগ অঞ্চল দখলে রেখেছে। তাদের লিডার এখন ট্রাম্প

আল-কায়েদার মাস্টার প্ল্যানে বলা আছে, ‘খিলাফত শাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে পতনের ১০০ বছর পর মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ফের খেলাফাত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে’

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংক্ষিপ্ত সময় ধরে আমরা বাঙালি ছিলাম। এরপর আর বাঙালি থাকিনি। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পর মুসলমান হয়ে গেলাম

হোতা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থে এমন কোনো হেন বিষয় নাই, যা সে ব্যবহার করবে না। এর মধ্যে ধর্ম-কে ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ। ধর্ম প্রবল শক্তিধর একটি অস্ত্র

বাংলাদেশে উচ্চমানের অর্থনীতি দাঁড়াবে, আর বহিঃশক্তি বসে থাকবে, তা বিশ্বাস করি না। ১৭ কোটি মানুষের দেশ নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভাবছে

দুর্নীতি নিয়ে হাজার প্রশ্ন আমারও। কিন্তু আপনি চাইলেই সব একদিনে পরিষ্কার করতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধু সব পরিষ্কার চেয়েছিলেন। তাকে খুন হতে হয়েছে।