ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চিন্তা

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

মাদকাসক্তদের বাদ দিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে সংগঠনটির অভ্যন্তরে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাদকমুক্ত নেতৃত্ব গড়ার লক্ষ্যে ডোপ টেস্টের (মাদক পরীক্ষা) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চিন্তা করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এতে প্রার্থী হতে পারেননি বিবাহিতরা। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তসহ অন্যান্য অভিযোগ উঠেছে তাদের প্রার্থিতাও কাউন্সিলে বাতিল হয়েছে। সাবেক ছাত্রদল নেতাদের সমন্বয়ে এসব যাচাই-বাছাই করা হয়।

এবার কাউন্সিলে সভাপতি পদে অন্যতম প্রার্থী ছিলেন মো. এরশাদ খান। সে সময় তিনি জাগো নিউজের কাছে বলেছিলেন, ‘ছাত্রদলের নেতৃত্বে যেন কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তির ঠাঁই না হয় সেজন্য ডোপ টেস্ট হওয়া উচিত।’

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত ভিপিপ্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবার ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারও দাবি, ‘সংগঠনকে গতিশীল করতে যেন মাদকাসক্ত নেতাদের বাদ দেয়া হয়।’

এছাড়া ছাত্রদলের গত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বায়েজিদ আরেফিন। ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবির আন্দোলনে ভূমিকা রাখায় বর্তমানে তিনি বহিষ্কৃত। তিনিও বলেন, ‘অবশ্যই ছাত্রদলকে মাদকমুক্ত করা উচিত। শহীদ জিয়ার আদর্শের ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যেন কোনো মাদকাসক্তের ঠাঁই না হয়। প্রয়োজনে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলেও এখনও গঠন হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যদিও নির্বাচিত হওয়ার পর সংগঠনটির নতুন নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

সংগঠনটির সূত্র মতে, ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর নবনির্বাচিতদের পক্ষ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনও তা হয়নি। বিশেষ করে ছাত্রদল ঘিরে যেসব ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় ছিল তাদের তৎপরতায় কমিটি গঠন বিলম্বিত হচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, ২০০০ সালে এসএসসি পাস করেছেন এমন নেতারা কাউন্সিলে প্রার্থী হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ওই ব্যাচের কাউকে রাখা হবে না। কারণ ওই ব্যাচের কাউকে সংগঠনে নিলে নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে। ২০০২-২০০৩ সালের ব্যাচ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া যারা বিবাহিত এবং যারা কাউন্সিলে ১০ শতাংশ ভোট পাননি তারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাচ্ছেন না।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাক ইকবাল হাসান শ্যামলের ঘনিষ্ঠ এক নেতা সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভের প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সহসা হচ্ছে না। আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠন হবে। ২০০৭-০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ কমিটি হবে। পরবর্তীতে ২৫-৩০ জন নিয়ে ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন হবে। গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু সার্বিক বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদককে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে আকরামুল হাসানের নিয়মিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামলের মোবাইলেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীর কাছে শ্যামলের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় জানতে চাইলে সাত্তারও বলেন, ‘শ্যামলের সঙ্গে তার যোগাযোগ নাই। কয়েক দিন ধরে তাকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না।’

এদিকে একটি কর্মসূচিতে ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সঙ্গে কমিটি গঠনের বিষয়ে কথা হয়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন করা হবে। ছাত্রদলকে গতিশীল করতে যা যা করণীয় সবই করা হবে।’

ছাত্রদলের নেতৃত্ব মাদকমুক্ত করতে ডোপ টেস্টের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। অবশ্যই আমরা বিবেচনা করব।’

তবে কবে নাগাদ ডোপ টেস্ট প্রক্রিয়া শুরু হবে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

কেএইচ/এমএআর/জেআইএম