না চাওয়া মৃত্যু

আদনান রহমান
আদনান রহমান আদনান রহমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯

বিদায়ী বছরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড সারাদেশের মানুষের মনে বেশ নাড়া দিয়ে যায়। ২০১৯ সালে বুয়েটছাত্র আবরার হত্যা, ফেরির বিলম্বের কারণে তিতাসের মৃত্যু আর ছেলেধরা গুজবে তাসলিমা বেগম ওরফে রেনু (৪০) হত্যার ঘটনা সহজেই কেউ ভুলতে পারবেন না। এছাড়া বরগুনার রিফাত শরীফ ও ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ডেঙ্গুর কারণেও কান্নার রোল ছিল সারাদেশে।

পুরান ঢাকার চকবাজারে কেমিক্যালের আগুন এবং বনানীর এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের নির্মম দৃশ্য এখনও ভেসে ওঠে মানুষের মনে। বছর শেষে সেই আগুনেই দগ্ধ হন কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানার ৩১ শ্রমিক। এখন পর্যন্ত ১৪ জন মারা গেলেও বাকি সবাই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। না চাওয়া এমন মৃত্যু নিয়ে জাগো নিউজের এবারের আয়োজন।

পুরান ঢাকায় কেমিক্যালের অভিশাপে অঙ্গার ৭১ জন

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে একদিকে যখন ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে একে একে সবাই জড়ো হচ্ছিল কেন্দ্রীয় শহীন মিনারে, অন্যদিকে কেমিক্যালের আগুনে পুড়ছিল পুরান ঢাকা। এদিন রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টার ৬৪ নম্বর হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট রাতভর চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার করা হয় ৬৬ জনের অঙ্গার মরদেহ। আহত ও দগ্ধদের মধ্যে পরে মারা যান আরও পাঁচজন।

fire-01

চকবাজারের চুড়িহাট্টার আগুন

নিমতলীর পর পুরান ঢাকাবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় বেদনার ঘটনা এটি। এরপর দেশের সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এক হয়ে পুরান ঢাকা থেকে নিষিদ্ধ কেমিক্যালের গোডাউন উচ্ছেদে অভিযানে নামে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নিমতলীর শিক্ষার পর একই আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। আশ্বাসও আছে, আছে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনও।

সচিবের অপেক্ষায় ফেরি, মাঝপদ্মায় মারা গেল তিতাস

২৫ জুলাই সন্ধ্যা। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ (১১)। প্রথমে তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই তাকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ-রুটের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ১ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। তবে সেটি নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি। অ্যাম্বুলেন্সে কাতরাচ্ছিল তিতাস। খোঁজ নিয়ে তার পরিবার জানতে পারেন, সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুল সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন। এ কারণে ওই ফেরিকে অপেক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। অপেক্ষায় অপেক্ষায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মাঝপদ্মায় অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস

fire

মাঝপদ্মায় মারা যাওয়া তিতাস

বিষয়টি জানাজানি হলে দেশব্যাপী শুরু হয় প্রতিবাদ। পরবর্তীতে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে কমিটির সদস্য নির্বাচনেও চলে অদ্ভুতকাণ্ড। কমিটিতে ছিলেন খোদ অভিযুক্ত আবদুল সবুর মন্ডল। দীর্ঘ তদন্তের পর দেরিতে ফেরি ছাড়ায় যুগ্ম সচিবের কোনো দোষ পায়নি কমিটি। বরং প্রতিবেদনে ঘাট ম্যানেজার মো. সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী মো. খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলমকে দায়ী করে কমিটিগুলো। আদালত পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি।

ছেলেধরা গুজবের বলি রেনু নামের এক ‘মা’

‘পদ্মাসেতু নির্মাণে শিশুদের মাথা লাগবে। ইতোমধ্যে শিশু সংগ্রহ করতে সড়কে সড়কে ঘুরছে ছেলেধরা।’ বছরের মাঝামাঝি সময়ে একটি গ্রুপ ফেসবুকে এমন অপপ্রচার চালানোর পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় গণপিটুনি ও হত্যা। গ্রামে-গঞ্জে এমনকি শহর এলাকাতেও অপরিচিত কাউকে দেখলেই পিটুনি দেয়া শুরু হয়।

ছেলেধরা গুজবের জনরোষে প্রাণ হারান তাসলিমা বেগন রেনু নামের এক ‘মা’। ২০ জুলাই সকালে বোরকা পরে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েকে স্কুলে ভর্তির জন্য গিয়েছিলেন রেনু। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায়ও ভুগছিলেন তিনি। স্কুলের গেটে তাকে দেখে সন্দেহ হলে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। তার উত্তর অদ্ভুত মনে হলে তাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ততক্ষণে বাইরে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রধান শিক্ষকের রুমে ‘ছেলেধরা’ আটকে রাখা হয়েছে। ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে রেনুকে বের করে মাঠে নিয়ে পেটায়। একপর্যায়ে মৃত্যু হয় তার।

fire

ছেলেধরা গুজবের বলি রেনু

এ ঘটনা দেশবাসীর মনে দাগ কাটে। বাংলাদেশ পুলিশের হিসাবে, নিরপরাধ আটজন মারা গেছে এমন গুজবের শিকার হয়ে গণপিটুনিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবজায়গায় ছিল মর্মান্তিক এ মৃত্যুর গল্প। এ ঘটনার পরপরই সোচ্চার হয় পুলিশ। গণপিটুনিতে অংশ নেয়াদের গ্রেফতার ও গুজবসৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার পর থামে এ হত্যাকাণ্ড।

কাঁদিয়েছে ডেঙ্গু

শেষ হতে চলা বছরের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় ছিল ডেঙ্গু। ঢাকায় জুন থেকে কমবেশি এডিস মশার উপদ্রব থাকলেও জুলাইয়ের দিকে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ডেঙ্গুজ্বরে ঘায়েল হন এক লাখ ৭৯২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ২৬৪ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবে আইসিডিডিআরবি’র পর্যালোচনা রিপোর্টের বরাতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মৃতের সংখ্যা ১৩৩।

dengu

বছরের অন্যতম উদ্বেগের নাম ছিল ডেঙ্গু

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন প্রথমে গাছাড়া ভাব দেখায়। পরবর্তীতে ডেঙ্গুর তীব্রতা বাড়লে তৎপর হয় দুই সিটির কর্তাব্যক্তিরা। তবে দেশে এখনও চলছে ডেঙ্গুর প্রভাব। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বরও ৫০ জন নতুন রোগী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিমান ছিনতাইচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এদিন ১৪৮ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি মাঝআকাশে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন ‘পিস্তলধারী’ যুবক পলাশ আহমেদ

plane

নায়িকা সিমলার সঙ্গে বিমান ছিনতাইচেষ্টায় অভিযুক্ত পলাশ

এদিকে পলাশের মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত অস্ত্রটি ‘আসল নাকি নকল’ এ নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পলাশের সাবেক স্ত্রী সামসুর নাহার সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। বিষয়টি জনমনে ভালোই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল।

আবরার মৃত্যুতে প্রকম্পিত রাজপথ

১৯ মার্চ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে নর্দ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে চাপা দেয় একটি বাস। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে তার নিথর দেহ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ বিইউপি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এরপরই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেট-সংলগ্ন সড়কে ফুটওভারব্রিজ তৈরি করে সিটি কর্পোরেশন।

abrar

বাসচাপায় নিহত আবরার

আবরার হত্যায় উত্তপ্ত বুয়েট

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যা করে তার সহপাঠী ও সিনিয়ররা। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে তাকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে লাঠি ও ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়।

fire-07

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ

ওই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। ভিসির পদত্যাগসহ লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা আসে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এ আন্দোলন। অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একে একে গ্রেফতার করে অভিযুক্তদের। বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হয় সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় ডিবি।

চালকের খামখেয়ালীতে ঝরল ১৭ ট্রেনযাত্রীর প্রাণ

নভেম্বরের ১২ তারিখ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনাটিও দাগ কাটে দেশবাসীর মনে। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হন। শোকে নিমজ্জিত হয় সারাদেশ

fire-08

উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন একটি, বাংলাদেশ রেলওয়ে তিনটি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। রেলওয়ের তিনটি কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য আন্তঃনগর ৭৪১ নম্বর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক), সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ডকে দায়ী করা হয়। প্রতিবেদনে চালকসহ অন্যদের অবহেলা ও খামখেয়ালীর কথা উল্লেখ করা হয়।

জীবন বাঁচাতে এফআর টাওয়ার থেকে লাফ দেন তারা

২৮ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম মর্মান্তিক এক দৃশ্যের সাক্ষী হন ঢাকাবাসী। এদিন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বনানীর এফআর টাওয়ারে। আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে বহুতল এ ভবন থেকে লাফ দেন। ভবনের মধ্যেও আটকা পড়েন মানুষ।

fire-09

জীবন বাঁচাতে এফআর টাওয়ার থেকে নামার চেষ্টা

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ করেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেয় দুটি হেলিকপ্টার। মর্মান্তিক এ ঘটনায় মুহূর্তেই ঝরে যায় ২৫টি তাজা প্রাণ। অন্যকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন অগ্নিসেনা সোহেলও

জীবন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নুসরাত

চলতি বছরের এপ্রিলে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করে জীবন হারানো নুসরাত জাহান রাফি ও কাঁদিয়েছেন দেশবাসীকে। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন। এর প্রতিবাদে মামলা করলে কারাগারে ঢোকানো হয় অধ্যক্ষ সিরাজকে। সেখান থেকেই মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ান সিরাজ। মুখ ছাড়া সম্পূর্ণ শরীর পুড়ে যায় তার। দগ্ধ অবস্থায় পুলিশকে জবানবন্দি দেন নুসরাত।

nusrat

জীবন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন নুসরাত

চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। তার মৃত্যুতে আবারও বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সারাদেশ। অধ্যক্ষসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে চলে নানা কর্মসূচি। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জড়িত ২১ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। সম্প্রতি এ মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

বেলুন কিনতে গিয়ে ছিন্নভিন্ন শিশুর দেহ

৩০ অক্টোবর মিরপুরের রূপনগরে একটি ভ্রাম্যমাণ বেলুনের দোকান থেকে গ্যাসবেলুন কিনতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় পাঁচ নিষ্পাপ শিশু। আহত হয় আরও ১৫ শিশু।

সব নৃশংসতা হার মানে বরগুনার রিফাত হত্যায়

২৬ জুন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় বছরের সবচেয়ে আলোচিত ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, এক যুবককে কয়েকজন এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে, আর স্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

ঘটনাটি বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে। সেদিন রিফাত শরীফকে তার স্ত্রীর সাবেক বন্ধু সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডসহ তার বন্ধুরা হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। ঘটনার দুদিন পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় নয়ন বন্ড। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হতে থাকে তদন্তের প্রেক্ষাপট। যেই রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচাতে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর বাহবা পেয়েছিলেন, সেই স্ত্রীকেই অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ

fire-11

রিফাত শরীফ হত্যার ভিডিও থেকে নেয়া ছবি

রিফাত হত্যা মামলায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দিও দেন মিন্নি। পরে অবশ্য সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানান এবং জামিনে মুক্ত হন তিনি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে ৭নং আসামি করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

এআর/এমএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]