নৌপথেই হবে আগামীর সামাজিক অনুষ্ঠান

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২০

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। মুজিবর্ষের প্রসঙ্গ নিয়ে জাগো নিউজ’র বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হন। দীর্ঘ আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এবং এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন।

স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এখনও শক্তিশালী থাকায় গণতন্ত্র ও নির্বাচন সুষ্ঠু ধারায় যেতে পারেনি বলে যুক্তি দেন। বলেন, সমালোচনা মানেই গণতন্ত্র। সমালোচনা না থাকলে গণতন্ত্রের পূর্ণতা আসে না। ‘বাকস্বাধীনতা নেই’- এটি আপনি বলতে পারছেন, আর এখানেই স্বাধীনতা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিনিয়ত মিডিয়াগুলো সরকারের সমালোচনা করছে। টেলিভিশনগুলো খুললেই তা দেখতে পাই। বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলায় কেউ আক্রান্ত হননি। বিপক্ষে বললে, আমিও আক্রান্ত হতে পারি। আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা প্রতিদিন ইউরোপ-আমেরিকাতেও ঘটছে। মিডিয়া স্বাধীনভাবে কথা বলায় ফ্রান্সে হামলা হয়। বাংলাদেশের কোনো মিডিয়া হাউসে হামলা হয়েছে?

এছাড়া নিজ মন্ত্রণালয় তথা নদী ও নদীপথের নানা উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ : স্বাধীনতার পর থেকে নৌ ও রেল খাত অবহেলিত বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার রেলেও গুরুত্ব দিচ্ছে। নৌ খাত নিয়ে কী বলবেন?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : শেখ হাসিনার সরকার হচ্ছে দেশপ্রেমিক। শেখ হাসিনা শাসক নন, সেবক হিসেবে কাজ করছেন। আমরা ব্যবসা করার জন্য দেশ পরিচালনা করছি না। দেশের মানুষকে একটি ‘সুন্দর আগামী’ উপহার দিতে কাজ করছি। যার সুফল মানুষ পাচ্ছেও বটে।

স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় এসে নৌ ও রেলপথকে খাটো করে সড়কপথে বরাদ্দ বাড়িয়েছে উপর্যুপরি। এর একটিই কারণ, সরকার সড়কে গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্য করেছে। আমরা তো বাণিজ্য করতে আসিনি। আমরা সেবা করতে এসেছি।

hasan-mahmud-03.jpg

আমরা নৌপথের উন্নয়ন করে সেবা বিস্তৃত করতে চাই। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নৌপথে খরচও অনেক কম। আমরা এ সুবিধা বাড়াতে চাই। ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরির কাজ করছে সরকার।

সরকার রেলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জনমানুষের কল্যাণের জন্য। নতুন নতুন রেলপথ তৈরি করছে। মানুষ সুবাতাস পাচ্ছে। আমরা সড়ক, রেল ও নৌপথের মধ্যে সমন্বয় করে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই।

জাগো নিউজ : নদী দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। সাড়াও ফেলছেন। উচ্ছেদ অভিযান এখন কোন পর্যায়ে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : নদীগুলো পরিকল্পিতভাবে দখল করা হয়েছিল। পূর্বের সরকারগুলো দখলে সহায়তা করেছে। ’৭৫ পরবর্তী জিয়া ও খালেদা জিয়ার সরকার দখলবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। নৌপথ আজ সঙ্কুচিত। নদীর অস্তিত্ব বিলীন করা হয়েছে। নদী মরে গেছে। অথচ জীবিত করার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নদীগুলো দখলমুক্তের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নদীর প্রবাহ অব্যাহত রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মানুষ এখন নদী নিয়ে ভাবতে শুরু করছে। নদী যে জীবনের অংশ তা মানুষ এখন বুঝতে পারছে। শুধু সরকার নয়, নদী রক্ষার আন্দোলনে মানুষ সামাজিকভাবেও যুক্ত হচ্ছে।

জাগো নিউজ : সারাদেশে নদী খনন হচ্ছে। খনন নিয়ে অভিযোগও আছে। বিশেষ করে অধিক বরাদ্দ ও সমন্বয় না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : যেকোনো কাজের সমালোচনা হবেই। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নের পথে নানা বাধা আসবে, সমালোচনা হবেই। আমরা এ সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না। আমরা আমাদের লক্ষ্যটা নির্ধারণ করতে পেরেছি। আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও কর্তব্য পালনে যথেষ্ট সজাগ আছি।

hasan-mahmud-03.jpg

যারা নদীগুলো বিভিন্ন সময়ে দখলদারদের হাতে তুলে দিয়েছে, তারাই মূলত সমালোচনা করছে। বিভিন্ন সরকারের সময়ে দখলদারদের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে। অথচ, সমগ্র চাপটা আমাদের নিতে হয়েছে। এ চাপ গ্রহণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি।

জাগো নিউজ : চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রশাসনের মধ্যে কোনো সমন্বয়ের ঘাটতি আছে কি-না?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : আমি সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি দেখছি না। নৌ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয় করেই নদীগুলোর খনন হচ্ছে। আমরা একটি ছাতার মধ্যে আছি। আলাদা করে ভাববার সুযোগ নেই।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যেমন মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ঠিক তেমন ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পরিচালনা করছি। কোথাও কোনো সমন্বয়হীনতা নেই।

জাগো নিউজ : ঢাকার মাঝে হাতিরঝিলে নৌকা চলছে। রূপ বদলে দিয়েছে ঢাকার। অথচ পাশেই বুড়িগঙ্গায় যাওয়া যায় না, গন্ধ নেয়া যায় না। কী বলবেন, বুড়িগঙ্গা নিয়ে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বুড়িগঙ্গার গন্ধ নেয়া মুশকিলই ছিল। সে মুশকিল ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাচ্ছে। হাতিরঝিলের প্রাণ এ সরকারই ফিরিয়ে এনেছে। বুড়িগঙ্গাতেও ওয়াটার বাস চলছে। কিন্তু দূষণের কারণে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না।

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু যখন দূষণমুক্ত হবে, তখন এগুলোও মানুষের ভালোবাসার জায়গা হবে। আমি বলছি, আগামীতে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো নৌপথেই হবে।

hasan-mahmud-03.jpg

জাগো নিউজ : বুড়িগঙ্গা নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনার কথা জানাবেন কি-না?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত করা। সেই উচ্ছেদ অভিযান শেষপর্যায়ে আছে। বুড়িগঙ্গার তীরে পিলার বসিয়ে নদীসীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর আগে পিলার সরিয়ে ফেলা হয়। আমরা এবার পাইলিং করে পিলার বসাচ্ছি।

জাগো নিউজ : পিলার সরিয়ে ফেলছে কোন শক্তির বলে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : রাতের আঁধারে অনেক কিছুই হয়। কোনো না কোনো শক্তি আছে। অনেক সময় দেখেও আমাদের চোখ বন্ধ করে থাকতে হয়। এ কারণে আমরা স্থায়ী ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি। আমরা নদীঘেঁষে পায়ে হাঁটার রাস্তা করছি। ইকো পার্ক করার পরিকল্পনা রয়েছে। বুড়িগঙ্গার তীরে যাবে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে।

hasan-mahmud-03.jpg

জাগো নিউজ : দীর্ঘসময় দলের সাংগঠনিক পদে দায়িত্বপালন করলেন। এবার বাদ পড়লেন। কোনো দুঃখবোধ...

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বাদ পড়েছি, আমি ঠিক সেভাবে বলতে চাই না। আমি বারবার বলি, আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, এখানে কেউ কখনও বাদ যায় না। সবাই দায়িত্বপালন করছি। যে ভোট দেয় বা যে সমর্থন করছে, সেও দায়িত্বপালন করছে।

আমি দলের দায়িত্বে ছিলাম। আমি এখন সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। দলীয়প্রধানের সিদ্ধান্তেই এ দায়িত্ব পাওয়া। তার মানে কেউ বাদ পড়েনি। আমরা সবাই দলের মধ্যেই আছি।

জাগো নিউজ : নতুন কমিটি নিয়ে কী বলবেন?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : আওয়ামী লীগ মূলত বাংলাদেশের স্বপ্ন ধারণ করে এগিয়ে যায়। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সে কমিটি অবশ্যই গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

এএসএস/এমএআর/এমএস

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু যখন দূষণমুক্ত হবে তখন এগুলোও মানুষের ভালোবাসার জায়গা হবে। আমি বলছি, আগামীতে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো নৌপথেই হবে

উন্নয়নের পথে নানা বাধা আসবে, সমালোচনা হবেই। আমরা এ সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না

আমরা ব্যবসার জন্য দেশ পরিচালনা করছি না। দেশের মানুষকে একটি ‘সুন্দর আগামী’ উপহার দিতে কাজ করছি

নৌপথের উন্নয়ন করে সেবা বিস্তৃত করতে চাই। এজন্য ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরির কাজ করছে সরকার

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]