মানুষের মুক্তির প্রশ্নে ভরসা কেবল শেখ হাসিনা

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। দফতর বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। মুজিববর্ষ, তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা, গণতন্ত্র, সুশাসন নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ-এর।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে শেখ হাসিনা মানুষের কাছে অদ্বিতীয় নেতা হয়ে উঠছেন বলে উল্লেখ করেন। মুজিববর্ষের মধ্য দিয়ে রাজনীতি, গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিনক্ষণ শুরু হয়েছে ১০ জানুয়ারি থেকে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও ঘনিয়ে আসছে। একজন তরুণ রাজনীতিক হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ মূল্যায়নে কী বলবেন?

বিপ্লব বড়ুয়া : দীর্ঘ কারাবাসের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দিনটি বাঙালি জাতির জন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিনক্ষণ ধার্য করা হয়েছে দিবসটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেই।

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে মাত্র তিন বছর সাত মাস দেশ পরিচালনা করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের আলো ধানমন্ডির লেক স্পর্শ করার আগেই সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। সেই থেকে বাংলাদেশ আর স্বাভাবিক পথে এগোয়নি। দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশের চেতনা ও ইতিহাসকে আড়াল করে রাখা হয়।

দীর্ঘদিন পর এবার ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা যেন তার আদর্শ ও চেতনা নিয়ে ফের ফিরে এসেছেন। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরু হবে। বঙ্গবন্ধু আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। কিন্তু নবচেতনায় এ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু তার আদর্শ নিয়ে ফিরে এসেছেন, আমি অন্তত সেভাবেই বিশ্বাস করি।

জাগো নিউজ : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নযাত্রা আর বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা নিয়ে কী বলা যায় এখন। বঙ্গবন্ধুর চেতনা-আদর্শ আড়াল করা হয়েছিল তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে, বলছিলেন। এখনকার বাংলাদেশ কোন পথে?

বিপ্লব বড়ুয়া : একটি স্বাধীন দেশের স্থপতিকে যেভাবে, নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি ঘটেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কালো আইন করে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা নির্বাসনে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়। খুনিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার নাম, আদর্শ সবকিছু নিষিদ্ধ করে।

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী একই সময়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই ক্ষণ যেন মহান সৃষ্টিকর্তার বিধানেই নির্ধারণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা।

সৃষ্টিকর্তা নির্ধারণ করেছেন ঠিক এভাবেই যেন জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণ জয়ন্তী বঙ্গবন্ধুরই উত্তরসূরীর হাতে উদযাপিত হয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।

জাগো নিউজ : বলছিলাম, বাংলাদেশ এখন কোন পথে? বিশেষ করে এই বড় দুটি অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছে এমন সময়ে যখন গণতন্ত্র, রাজনীতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন…

বিপ্লব বড়ুয়া : বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসলে কতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, তা আমলে নিতে হবে। আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্র একটি কাঠামো পেয়েছে। মানুষ স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানকে স্তব্ধ করে দিয়ে পাকিস্তানি ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উত্তরণ ঘটিয়েছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে ১৯ বছরের মতো। গণতন্ত্র ও সুশাসন যতটুকু সংহত হয়েছে, তা মূলত আওয়ামী লীগের আমলেই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না, যদি না মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি না আসে।’ আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বসংস্থাগুলো বিস্ময় প্রকাশ করছে এবং তা তথ্যের ভিত্তিতেই। আর অর্থনীতির যে বিপ্লব ঘটছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলেই আমরা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যেতে পারছি।

আজ আমরা ইতিহাসের একটি মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহতের মানসে আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।

জাগো নিউজ : মুজিববর্ষের চেতনার কথা বলছিলেন…

বিপ্লব বড়ুয়া : সরকারের বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন সম্প্রতি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমরা অতীতের কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি।’

আজ রাজনীতির ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা, সেজন্য কিন্তু আওয়ামী লীগ বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী নন। স্বাধীন বাংলাদেশ তিন দশক স্বাভাবিক গতিতে চলেনি। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি সামরিক ও স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তার রেশ আজও রয়ে গেছে। সেই সংকট থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে অবিরাম প্রচেষ্টা সেখানে সকলের অংশগ্রহণ জরুরি। মানুষের মুক্তির প্রশ্নে কেবল শেখ হাসিনার ওপরই ভরসা করা যায়।

জাগো নিউজ : আওয়ামী লীগও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায়। পরপর তিনবার দায়িত্ব পালন করছে শেখ হাসিনার সরকার। এখনও কেন আগের সীমাবদ্ধতার কথা শুনতে হচ্ছে?

বিপ্লব বড়ুয়া : আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও কাদের সঙ্গে রাজনীতি করতে হচ্ছে, তা খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব বেশি বলে মনে করি। কিন্তু রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব পালনের কথা। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কি সেই দায়িত্ব পালন করেছে?

খুনি জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসন আমল দেখে কয়েকটি প্রজন্ম বড় হয়েছে। ভিন্ন একটি রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। চাইলেই একদিনে সব ঠিক হয়ে যায় না।

রাজনীতি বিশুদ্ধ করার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের রয়েছে। আওয়ামী লীগ সে দায়িত্ব পালন করছে এবং মুজিববর্ষের চেতনা মূলত এটিই। এ চেতনায় সমাজের সকলের অংশ নিতে হবে।

জাগো নিউজ : কিন্তু এ প্রশ্নেই আওয়ামী লীগ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ। এ ব্যর্থতা নিয়ে কী বলবেন?

বিপ্লব বড়ুয়া : আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি-কে কখনও যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেনি। গণমানুষের ভালোবাসা নিয়ে দলটি ক্ষমতায় আসে। যদিও রাজনীতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আওয়ামী লীগকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে। ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।

বিরোধীশক্তির শত অসহযোগিতার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এ ধারার রাজনীতি আওয়ামী লীগের বাইরে আপনি কল্পনা করতে পারবেন না।

যারা মানুষ হত্যার রাজনীতি করেন, তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী, শুধু সংকট উত্তরণের মানসে। একটি অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা যা করার কথা, তার সবই চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু এ দায় শুধু আওয়ামী লীগ বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একার নয়। অন্য রাজনৈতিক দল কী সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছে?

বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা অথবা পেট্রল বোমায় মানুষ মারার জন্য কি কখনও তারা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছে? ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান সরাসরি জড়িত। আদালতে এটি প্রমাণিত। এমন নৃশংস ঘটনার জন্য বিএনপি কি অনুশোচনা করেছে? একতরফা দায় দিয়ে একটি রাষ্ট্র, সমাজ আপনি শতভাগ ঠিক করতে পারবেন না।

এএসএস/এমএআর/পিআর

বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা অথবা পেট্রল বোমায় মানুষ মারার জন্য তারা কি কখনও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছে

একটি অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা যা করার তার সবই চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু এ দায় শুধু শেখ হাসিনার একার নয়

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলেই আমরা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যেতে পারছি

নবচেতনায় এ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু তার আদর্শ নিয়ে ফিরে এসেছেন, আমি অন্তত সেভাবেই বিশ্বাস করি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]