তরুণরা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ, আমি বিশ্বাস করি না

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। দফতর বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। মুজিববর্ষ, তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা, গণতন্ত্র, সুশাসন নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ-এর।

বলেন, ‘মানুষের মুক্তির প্রশ্নে ভরসা কেবল শেখ হাসিনা।’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে শেখ হাসিনা মানুষের কাছে অদ্বিতীয় নেতা হয়ে উঠছেন। মুজিববর্ষের মধ্য দিয়ে রাজনীতি, গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ : মুজিববর্ষের চেতনার কথা বলছিলেন আগের পর্বে। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানুষের মুক্তির প্রসঙ্গে কী ধারণা পোষণ করতেন?

বিপ্লব বড়ুয়া : বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে আজকের এই বাংলাদেশ দেখতে হতো না। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ইতিহাস হচ্ছে একটি বিস্ময়। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।

আজ অনেকেই হংকং, সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন নিয়ে উদাহরণ দেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে উদাহরণ হতে পারত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপে রূপ দেয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক জীবনে ২১ বার হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। বিশ্বে এমন কোনো রাজনৈতিক পরিবার দেখাতে পারবেন না, যেখানে এত ত্যাগ, এত বিসর্জন আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শুধু বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি দিতেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তা নয়, বাঙালি জাতিকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদায় আসীন করছেন।

শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ভোট দিন, ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেব।’ দিয়েছেন। তিনি ভিশন ২১ এবং ভিশন ৪১ ঘোষণা করেছেন। তিনি ১০০ বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এমন দূরদর্শী নেতৃত্ব আর কোথায় পাবেন? একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো দৃঢ়তা একমাত্র শেখ হাসিনাই ধারণ করেন

জাগো নিউজ : আপনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বকেও দায়ী করা হয়…

বিপ্লব বড়ুয়া : আপনার এ অভিযোগের সঙ্গে আমি এক মত নই। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করলে কোনোভাবেই স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আপস করতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটি দল অতিকৌশলে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে রাজনীতির সর্বনাশ করেছে। মূলত কৌশলী রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপি জামায়াতি মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। রাজনীতির বিভাজন এখান থেকেই। এর দায় আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনাকে দিতে পারেন না।

এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও এক ধরনের বিভাজন তৈরি করে রাজনীতি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ একটি সত্তা। এ সত্তাকে বিভাজিতের কৌশল ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না। এ কারণেই বলা হয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা সব সময়ের জন্য মুক্তিযোদ্ধা নাও থাকতে পারেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা দেখেছি, অনেক মুক্তিযোদ্ধা রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তাদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছেন। এ বাস্তবতা তো অস্বীকার করার উপায় নেই।

জাগো নিউজ : আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেই রাজনীতি করছে। তারুণ্যে ভরসা রেখে রাজনীতি করছে। কিন্তু এরপরও তরুণরা জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে, তারা ভিন্ন মতে ভর করছে। তার মানে, চেতনা নিয়ে অতিরাজনীতির কারণেই এমনটি হচ্ছে কি-না?

বিপ্লব বড়ুয়া : দীর্ঘ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে রাজনীতি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন হয়েছিল পাঠ্যবইয়ে। এটি ইচ্ছাকৃত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তারুণ্যের ওপর ভর করেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারুণ্যের মানসকে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হয়েছে। তারা বিভ্রান্তির রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

জঙ্গিবাদের যে বিস্তার তা মূলত খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। আমি মনে করি না, জঙ্গিরা গোটা তরুণ সমাজের প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা রাখে।

আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন, প্রযুক্তির যে বিকাশ তা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে তরুণরাই। তরুণদের মাঝে উদ্যমী শক্তি, দেশপ্রেম, মানবতার যে বিকাশ তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনার কারণেই তরুণরা আজ ঐক্যবদ্ধ।

জাগো নিউজ : বিভাজনও আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে তরুণরা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধও বটে…

বিপ্লব বড়ুয়া : তরুণরা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ, আমি বিশ্বাস করি না। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে যে আন্দোলন, শুরুতে তা স্বপ্রণোদিত ছিল। সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। এমন আন্দোলনে কোনোভাবেই সরকারের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা নয়। সরকার শিক্ষার্থীদের আবেগ অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিয়েছে।

কোটা ব্যবস্থা শুধু আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। পৃথিবীর অনেক দেশেই কোটা ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। ভারতের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮ ভাগ শিক্ষার্থীর জন্য কোটা রয়েছে। এমনকি মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও কোটা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্যই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিশেষ ব্যবস্থা।

এরপরও সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছে। সরকার তরুণ-শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ নয়। কিন্তু আমরা কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক এজেন্ডা দেখেছিলাম। কোটাবিরোধী আন্দোলনে সংঘর্ষ, সন্ত্রাসও হয়েছে। সরকার জননিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিয়েছে মাত্র। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সবসময় শিক্ষার্থীদের আবেগ ধারণ করেই সমস্যার সমাধান করেছেন।

জাগো নিউজ : আলোচনা হচ্ছিল বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে। তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু নিয়ে এখন কী বলবেন?

বিপ্লব বড়ুয়া : বিবিসি জরিপে তরুণদের ভোটেই বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির খেতাব পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তারুণ্যের ভালোবাসা ঠিক এখানেই। তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেই পথ চলতে চায় এখন।

জাগো নিউজ : বিশ্বের চোখে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ...

বিপ্লব বড়ুয়া : বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের স্থপতি নয়, বঙ্গবন্ধু বিশ্বনেতা। তার নেতৃত্ব-কে বিশ্ববাসী যে সম্মান দেখিয়েছেন, সেই সম্মানে বাংলাদেশ আজও ভূষিত। বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা, তা বিশ্ববাসীও মনে করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ অধিকতর নিরাপদ, তার স্বীকৃতিও মিলছে আন্তর্জাতিক মহলে।

জাগো নিউজ : আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে দপ্তর-বিষয়ক সম্পাদক হলেন। প্রতিক্রিয়ায় কী বলবেন?

বিপ্লব বড়ুয়া : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দেশের প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলনের রূপকার। এমন একটি ঐতিহ্য-নির্ভর দলের কর্মী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি।

দলের প্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমার মতো একজন তরুণকর্মীকে আওয়ামী লীগের মতো দলের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। পদ পাওয়া মানে দায়িত্বও বেড়ে যায়। সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই এখন আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি।

জাগো নিউজ : দলপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় পার করলেন। তার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব...

বিপ্লব বড়ুয়া : বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা টানা নবমবারের মতো দলের সভাপতি হয়েছেন। তিনি দলের কর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ীই নির্বাচিত হয়েছেন। মাঝে মাঝে ভাবি, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বাঙালিকে দ্বিতীয়বার মুক্তি দিয়েছেন। বাঙালিকে নতুনভাবে মর্যাদা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

জাগো নিউজ : বিকল্প না থাকা সংগঠনের দুর্বলতা কি-না?

বিপ্লব বড়ুয়া : একটি সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তার নেতৃত্ব নির্বাচন করে। শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। এ কারণেই সংগঠনের নেতৃত্ব বাছাইয়ে ভবিষ্যতে কোনো সংকট থাকবে বলে মনে করি না।

এএসএস/এমএআর/পিআর

আজ অনেকেই হংকং, সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে উদাহরণ হতে পারত

মূলত কৌশলী রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপি জামায়াতি মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। রাজনীতির বিভাজন এখান থেকেই

কিন্তু আমরা কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক এজেন্ডা দেখেছিলাম। সেখানে সংঘর্ষ, সন্ত্রাসও হয়েছে

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ অধিকতর নিরাপদ, তার স্বীকৃতিও মিলছে আন্তর্জাতিক মহলে

বিবিসি জরিপে তরুণদের ভোটেই বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির খেতাব পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তারুণ্যের ভালোবাসা ঠিক এখানেই