বিদ্রোহীদের প্রসঙ্গ উঠবে আ.লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়

আমানউল্লাহ আমান
আমানউল্লাহ আমান আমানউল্লাহ আমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দলের হাইকমান্ড বারবার সতর্কবার্তা দেয়ার পরও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি-ডিএসসিসি) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে যে নেতারা আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন অথবা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেমেছিলেন, তাদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে আওয়ামী লীগের পরবর্তী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়। সেখানে ওই বিদ্রোহী প্রার্থী বা বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করা হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা গেছে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়ানোর অর্থ অভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা দূর করার জন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলের সম্মেলন করা হবে। তার আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির সভায় দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হবে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ডিএনসিসিতে মেয়র পদে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, আর ডিএসসিসিতে মেয়র পদে জয়ী হন একই দলের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। দু’জনই স্ব স্ব সিটিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ছিলেন।

ডিএনসিসিতে ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড (নারী) এবং ডিএসসিসিতে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (নারী) কাউন্সিলর পদেও একক প্রার্থী দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ডিএনসিসির ২১টি ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং ডিএসসিসির ২৮টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দাঁড়াতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হন।

তবে নির্বাচনকে ঘিরে ডিএনসিসির ২০, ২৪, ৪২ নম্বর এবং ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যা হাইকমান্ডের নজরে আসে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, মোট ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৪৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড (নারী) বিবেচনায় বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা (১৬) বড় না হলেও ধর্তব্যের বিষয় হলো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই প্রার্থী হওয়া।

নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির সভায় সিটি নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা হবে। ওই সভায় ভোটার উপস্থিতি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিভিন্ন দিকও উঠে আসতে পারে। সার্বিক পর্যবেক্ষণ-মূল্যায়নের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বিদ্রোহীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দলীয় প্রধানের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যারা দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তী কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির সভায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে দলের অনেকে বিজয়ী হয়েছেন- এ বিষয়ে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। সেখানে ভুল-ত্রুটি-দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হবে। আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বলতা অবশ্যই আছে। এটা উত্তরণের জন্য ঢাকা মহানগরের ওয়ার্ড-থানায় সম্মেলন করে কমিটি করা হবে। দুই সিটিতে মোট ১২৯ ওয়ার্ডের (সাধারণ) মধ্যে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ৯৮ জন জয়ী হয়েছেন, এছাড়া ৪৩টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন ৩৪ জন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হয়েছেন ১৩২ জন। সে তুলনায় বিদ্রোহী কাউন্সিলরের সংখ্যা (১৬ জন) বড় নয়।

এইউএ/এইচএ/জেআইএম