জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় পুরুষের চেয়ে নারীরা ভালো ফল করছেন

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২০

নাজমুন আরা সুলতানা, বাংলাদেশের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি। তিনি প্রথম নারী মুনসিফ (সহকারী জজ) ও জেলা জজ। নারী দিবস নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। নারীর অগ্রযাত্রা ঈর্ষণীয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীকেই সতর্ক ও প্রত্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ : সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে ইতিহাস গড়েছেন। নারীর অগ্রযাত্রা নিয়ে কী বলবেন?

নাজমুন আরা সুলতানা : বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রা ঈর্ষণীয়। যদিও এখনও নারীর পথ মসৃণ নয়। নানা চ্যালেঞ্জ আছে। ভোগান্তি আছে। কিন্তু এরপরও বলব, নারীর অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অবহেলা, অশিক্ষা আর অভাবকে সঙ্গী করেই নারীকে এগিয়ে যেতে হয়। চলার পথে সমতা থাকলে, নারী আরও অদম্য গতিতে এগিয়ে যেতে পারত।

জাগো নিউজ : নিম্ন আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ সময়। এরপর উচ্চ আদালতে। বিচার বিভাগে নারীর পদায়ন নিয়ে কী মূল্যায়ন করবেন?

নাজমুন আরা সুলতানা : নিম্ন আদালতের প্রায় ২৫ ভাগ বিচারক নারী। পাঁচ শতাধিক নারী বিচারক রয়েছেন। যদিও উচ্চ আদালতে এ সংখ্যাটা কম।

যে নারীরা বিচারক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, তারা কিন্তু অনেক ভালো রেজাল্ট করে আসছেন। জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় পুরুষের চেয়ে নারীরা ভালো ফল করছেন।

জাগো নিউজ : নারীর প্রতি আইনি সহায়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে কী বলবেন?

নাজমুন আরা সুলতানা : নারী নির্যাতন যেমন আছে, তেমনি নারীর প্রতি আইনি সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে এখন নারীরা নানাভাবেই আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে লিগ্যাল এইড গঠন করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোও এক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা পালন করছেন। আইনি সহায়তা পেতে নারীকে আর আগের মতো চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে না।

জাগো নিউজ : নারীর অগ্রযাত্রার কথা বলছেন। নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে কী বলা যায়?

নাজমুন আরা সুলতানা : তিন দশক ধরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান নারী। বিরোধী দলের প্রধান নারী। বর্তমান সংসদের স্পিকারও নারী। ক্ষমতায়ন প্রশ্নে এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে?

nazmun-ara-sultana1

নারীরা বিমান চালাচ্ছেন। সামরিক বাহিনী, পুলিশে নারীরা ভালো করছেন। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা হিসেবেও নারীরা এখন অগ্রগামী।

জাগো নিউজ : আলোর কথা বললেন। অন্ধকারের কথাও আছে। তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। হত্যার শিকার হতে হচ্ছে…

নাজমুন আরা সুলতানা : নারীর প্রতি এই নির্যাতন সামাজিক ব্যাধি। এমন সভ্য সময়েও ভয়ঙ্কর নির্যাতন দেখতে হচ্ছে। এটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। নারীরাই শুধু নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তা নয়। ছেলে শিশুরাও নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

আমি মনে করি, অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীদেরই বেশি সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।

জাগো নিউজ : ক্ষমতায়ন ঘটলেও নারীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় না, ঠিক পুরুষের চোখেই নারীকে দেখে থাকেন আরেকজন নারী। এই অভিযোগও তো আছে…

নাজমুন আরা সুলতানা : পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কিছু জায়গায় নারীর ক্ষমতায়ন ঘটছে পুরুষের সিঁড়ি বেয়েই। এ কারণে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি একজন ক্ষমতাধর নারীতেও প্রকাশ পায়। তবে সব জায়গাতে এমন নয়। নারী তার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন।

আবার পুরুষের সহায়তাও একেবারে অস্বীকার করা যায় না। নারীরাই সমাজ বদলে দেবেন, আমি তা বিশ্বাস করি না। ঠিক পুরুষের ক্ষেত্রেও তা-ই। সমান তালে পা ফেলেই সমাজকে বদলে দেয়া সম্ভব।

তবে যে নারী ক্ষমতায়ন প্রশ্নে এগিয়ে, তিনি অবশ্যই পুরুষের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছেন। কারণ, একজন নারীর চলার পথ অত সহজ নয়, যত সহজ একজন পুরুষের।

এএসএস/এমএআর/এমএস