কূটনীতিতে বাড়ছে নারীর অবদান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২০

বিভিন্ন সেক্টরের মতো কূটনীতিতেও সাফল্য বয়ে আনছেন বাংলাদেশের নারীরা। নিজ যোগ্যতা আর মেধায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছেন নারী কূটনীতিকরা। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নারী কূটনীতিকও।

বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আটজন নারী রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নারীর একসঙ্গে আটটি মিশনের দায়িত্ব পালন করার রেকর্ড এটি। এদের মধ্যে সর্বশেষ নিয়োগ পেয়েছেন জর্ডানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান।

বাকিরা হলেন- যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম, জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা, নেপালে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস, মরক্কোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা, মরিশাসে নিযুক্ত হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ, ভিয়েতনামে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

রেজিনা আহমেদ মরিশাসের পাাশাপাশি কমোরোসে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের নারী কূটনীতিক ইসমাত জাহান। টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. শাহিদা আকতার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের কূটনীতিতে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে নারী কূটনীতিকরা দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার এই দায়িত্ব নারী বা পুরুষ সবার জন্য সমান বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

সদ্য জর্ডানে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এখানে নারী পুরুষে পার্থক্য নেই একেবারেই।’

তিনি বলেন, ‘জর্ডানে আসার পরে দেখলাম- বাংলাদেশ সম্পর্কে সবার ধারণা আছে। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিকা সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল। জর্ডান প্রশাসন থেকে শুরু করে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরাও আমাকে অভিবাদন জানিয়েছেন।’ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম এ রাষ্ট্রে অন্তত ১২টি দেশের রাষ্ট্রদূত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নাহিদা সোবহান আরও বলেন, ‘জর্ডানে অন্তত দেড় লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। যাদের ৭৫ ভাগই নারী। আমি এসব নারীদের কল্যাণসহ সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কাজ করতে চাই।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, একজন মানুষ হিসেবে পৃথিবীর সকল নারীদের প্রতি শুভেচ্ছা। আসলে একদিন ঘটা করে নারী দিবস পালনে বোঝা যাচ্ছে সর্বত্র নারীরা নিগৃহীত, আলাদা করে দিবস পালনে তেমন অধিকার আসে না। তবে এ কথা সত্য আমাদের দেশ নারী ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়েছে।

তিনি বলেন, একজন নারী এগিলে গেলে সমাজ, পরিবারে আমূল পরিবর্তন হয়। নারীদের জন্য আরও ক্ষমতার বিকাশ, উন্নয়ন ও প্রয়োগ ঘটাতে হবে। নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নয়, পুরুষরাও নারীদের মিত্র। আমি কূটনীতিক হিসেবে পরিবার, সহকর্মী, সন্তান সবার প্রাণখোলা সহযোগিতা পেয়েছি। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনে বিস্মিত হয়ে দেখেছি। কোরিয়ার কোনো অনুষ্ঠানে যখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করি, বাংলাদেশের নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমাকে দেখে, তারা নারী ক্ষমতায়নের কথা উল্লেখ করেন।

ভিয়েতনামে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের বিরল দৃষ্টান্ত। নারী উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে।’

কূটনীতিতে নারীদের অগ্রগতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের আটজন নারী রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ইতিহাসে এর আগে এক সঙ্গে এতজন নারী কূটনীতিক দায়িত্ব পালন করেননি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপনারা জানেন, সম্প্রতি জর্ডানে আমরা একজন নারী রাষ্ট্রদূত পাঠিয়েছি, যিনি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত। এছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনে প্রধান হিসেবে নারী রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনাররা দায়িত্বপালন করছেন। ভবিষ্যতে আরও নারী কূটনীতিকদের মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। তার নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা কূটনীতিতেও নারীদের প্রাধান্য দিতে চাই।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আরও কয়েকজন নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন।

জেপি/ওমর ফারুক হিমেল/এফআর/এমএস