যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তি, সংকট সমাধানে ‘নতুন সংকটের’ শঙ্কা

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২০

তানজিম উদ্দিন খান। বিশিষ্ট কূটনীতিক বিশ্লেষক। অধ্যাপনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। যুক্তরাষ্ট্র-তালেবানের মধ্যকার চুক্তি এবং দিল্লি সহিংসতা নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ-এর। চুক্তির মধ্য দিয়ে তালেবান শক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হলো, যা আফগানিস্তানে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। দিল্লি সহিংসতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবেই ভারতের সমাজকে হিন্দুত্ববাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।’ দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ : দেড় যুগ যুদ্ধের পর তালেবানদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হলো। চুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা আছে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ভার আর একা টানতে চাইছে না। কেউ বলছেন, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে তালেবান-আফগানদের একধরনের বিজয় হলো। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

তানজিম উদ্দিন খান : আফগানিস্তানের মানুষের বিজয় হয়েছে— এটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ নিয়ে বিভক্তি আছে। রাজনৈতিক দিক এবং তাদের পরিচয়গত দিক দিয়ে বিভক্তি আছে।

এই চুক্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে আফগান সরকারকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। তালেবানরা ক্ষমতাসীন নয়। বিবদমান একটি গোষ্ঠী। এই চুক্তি থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া মুশকিল।

যুক্তরাষ্ট্র তালেবান শক্তির কাছে যে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ বা তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছে। এর বিনিময়ে তালেবানরাও নিশ্চিত করতে চাইছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তারা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করবে না। একই সঙ্গে তালেবানদের যে পাঁচ হাজার কর্মী আটক, তাদের মুক্তি চেয়েছে। ১০ মার্চ থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। এই আলোচনা শুরুর শর্তই হলো পাঁচ হাজার তালেবান বন্দির মুক্তিদান। অথচ আফগান সরকার এখনও এই বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করায় ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে, তাদের জিহাদ এখনও শেষ হয়নি। এখন তাদের জিহাদ আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের বিরুদ্ধে। এটাও আলোচনা ও চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

US-Taliban-02.jpg

জাগো নিউজ : আফগান সরকার নেই চুক্তি প্রক্রিয়ায়। মুক্তি দেবে কারা?

তানজিম উদ্দিন খান : প্রশ্ন এখানেই। আসলে মুক্তি দেবে কারা? যে ভাষায় চুক্তি করা হয়েছে, তাকে স্বাভাবিক একটি চুক্তিপত্র বলা যায় না।

চুক্তির প্রতিটি ধারার শুরুতে আফগানিস্তান ‘ইসলামিক এমিরেট’ শব্দ ব্যবহার করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক এমিরেট স্বীকার করেনি। কিন্তু বারবার ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে একপ্রকার স্বীকার করাই বোঝায়।

তার মানে, আফগান সরকারকে সরিয়ে রেখে আরেকটি প্যারালাল শক্তি তৈরি করা হলো। অর্থাৎ আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের একটি সংঘাতের রূপ থেকেই গেল। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে তালেবান শক্তির একপ্রকার আনুষ্ঠানিকতা পেল। এ কারণেই আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা মুশকিল।

জাগো নিউজ : আফগানিস্তানে তো মার্কিন শক্তিই একপ্রকার ছায়া সরকার হিসেবে কাজ করছে…

তানজিম উদ্দিন খান : ছায়া সরকার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সে শক্তির তো কোনো আইনগত বৈধতা নেই। আটক পাঁচ হাজার তালেবানকে মুক্তি দিতে হলে আফগান সরকারকে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে।

US-Taliban-02.jpg

১০ মার্চ থেকে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা এবং আলোচনা শুরু হবে তালেবানদের মুক্তির বিষয় নিয়েই। অথচ এখন পর্যন্ত আফগান সরকার এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। এ কারণে নিজেদের মধ্যকার আলোচনার বিষয়টি সন্দেহের মধ্যে পড়ে আছে।

জাগো নিউজ : তাহলে এই যে চুক্তির আয়োজন, আড়ম্বর, তার ফলাফল কী?

তানজিম উদ্দিন খান : একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। যদিও এই হিসাব নিয়ে গরমিল আছে।

অথচ আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতিতে স্থিরতার যে আপেক্ষিকতা, তার আর্থিক লাভ চীনের ঘরে গেছে।

জাগো নিউজ : যদি ব্যাখ্যা করতেন?

তানজিম উদ্দিন খান : আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগকারী দেশ চীন। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের তিন বিলিয়ন ডলারের কপার মাইনিং চুক্তি হয়েছে। চীনের উদ্যোগে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই-এ যুক্ত হলো আফগানিস্তান। সুতরাং অর্থনৈতিক বিবেচনায় আফগানিস্তানে চীনের স্বার্থটাই এখন বেশি।

দুই ট্রিলিয়ন অর্থ ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে যে আর্থিক লাভ করতে চেয়েছিল, তাতে তারা হতাশ। যুক্তরাষ্ট্র এখন যে অবস্থায় আছে তাতে করে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির বোঝা টানার মতো অবস্থা নেই। প্যারিস এগ্রিমেন্ট, ন্যাপটা, টিপিপি থেকে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সব জায়গা থেকে এখন সরে আসার প্রবণতা তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক বোঝা, তা আর টানতে চাইছে না। এই প্রবণতার মধ্য থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তি গুরুত্ব পেয়েছে।

জাগো নিউজ : তার মানে, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র চলে গেলেও সেখানকার খনিজ সম্পদ নিয়ে বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে?

তানজিম উদ্দিন খান : অর্থনীতির এই যুদ্ধ বড় একটি আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই যুদ্ধের চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে, মার্কিন সেনা চলে গেলেও আফগানিস্তানে কিন্তু ভারাটে সেনা রয়েই গেছে। ১২ হাজার মার্কিন সেনা থেকে পাঁচ হাজার সেনা আছে এখন। এর মধ্যে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মারা গেছে। ভাড়াটে আরও ২৬ হাজার সেনা থাকছে। এই ২৬ হাজার সেনার কোনো জাতীয় স্বার্থ নেই। যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর তারা কীভাবে কাজ করবে এবং আরও অস্থিরতা বাড়বে কিনা- সেটা দেখার বিষয়।

US-Taliban-02.jpg

জাগো নিউজ : এই চুক্তির আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পিছুটান বলা যাবে কি-না?

তানজিম উদ্দিন খান : পিছুটানের চাইতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ সামলানোর বিষয়টি এখানে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করি। ২৬ হাজার ভাড়াটে সেনাকে কীভাবে ব্যবহার করছে, তার ওপরেই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে আফগানিস্তান থেকে পিছু হটছে কি-না?

জাগো নিউজ : এই হিসাব থেকেই আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ বা অর্থনীতির ওপর কাদের অবস্থান গুরুত্ব পাবে?

তানজিম উদ্দিন খান : আফগানিস্তানে চীনের অবস্থান শক্ত হবে নিশ্চিতভাবে। চীন এককভাবে এবং বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে আফগানিস্তানের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে। কৌশলগত অবস্থান থেকেও চীন আফগানিস্তানে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। বিশেষ করে উইঘুর সংকট ঘিরে তাদের একটি স্বার্থ আছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও চীন মিলে ত্রি-দেশীয় জোটের একটি নতুন শক্তির প্রকাশ ঘটেছে।

জাগো নিউজ : এই অঞ্চলে ভারতও পরাশক্তি। যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তিতে ভারতের আলোচনা নেই। ভারত কীভাবে দেখছে এই চুক্তি?

তানজিম উদ্দিন খান : ভারতের অবস্থান স্পষ্টতই তালেবানদের বিপক্ষে। এই চুক্তিতে পাকিস্তান অনেক বেশি খুশি। পাকিস্তান আগে থেকেই বলে আসছে, তালেবান নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সামরিক শক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। পাকিস্তান বারবারই একটি শান্তিচুক্তির কথা বলে আসছে। শেষপর্যন্ত তা-ই করতে হলো। এ কারণে পাকিস্তান মনে করতেই পারে, এটি তাদেরও বিজয়।

ভারত তালেবানবিরোধী, পাকিস্তানবিরোধী। এ কারণে এই চুক্তিতে ভারতের নাখোশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। যদিও ভারত রাষ্ট্র হিসেবে ক্রমশই সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঝুঁকছে।

জাগো নিউজ : তার মানে, পাকিস্তান এই অঞ্চলে আরও সুবিধাজনক জায়গায় চলে গেল?

তানজিম উদ্দিন খান : অবশ্যই। তালেবান বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চুক্তির মধ্য দিয়ে এই অবস্থান আরও পোক্ত হলো।

জাগো নিউজ : আপনি বলেছেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ বলা মুশকিল। কিন্তু চুক্তির মধ্য দিয়ে একটি বাস্তবতা সামনে এলো। এই বাস্তবতা ধরে কোন পথে আফগানিস্তান?

তানজিম উদ্দিন খান : আফগানিস্তান চিত্র অনেকটাই আফ্রিকার মতো হবে। খনিজ সম্পদ নিয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত চাইবে আলাদা আলাদাভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে। যে সব অঞ্চলে খনিজ সম্পদ রয়েছে, তার বেশির ভাগ অংশই তালেবানদের দখলে। সুতরাং যারা তালেবানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে, তারাই সুবিধা করবে।

এই সুবিধার কথা মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এটি বুঝতে পারার ব্যাপার। তালেবানদের সঙ্গে চুক্তি না করলে আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না। চুক্তির মধ্য দিয়ে মূলত তালেবানরা আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠিত হওয়ার স্বীকৃতি ও সুযোগ পেল। এতে করে উভয় পক্ষের জন্য একটা জয়-জয় (উইন-উইন) পরিস্থিতি তৈরি হলো।

জাগো নিউজ : এই স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আয়োজনও কি-না?

তানজিম উদ্দিন খান : আফগানিস্তানের পরবর্তী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা এবং সে আলোচনায় বন্দিদের মুক্তির বিষয় গুরুত্ব পাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা আফগান সরকারের পক্ষ থেকে সে আলোচনার কোনো আবহ দেখতে পাচ্ছি না।

যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকট সমাধান না হয়, তাহলে কিন্তু তালেবানরা আরও ডেসপারেট (বেপরোয়া) হয়ে উঠবে। আফগান সংঘাত আরও বাড়বে বলে মনে করি।

মার্কিন সেনারা চলে গেলেই সব সমাধান হবে, তা নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থে ভাড়াটে বাহিনীকে ব্যবহার করবে। মনে রাখতে হবে, চুক্তির পরে তালেবানরাও আগ্রাসী হয়েছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তালেবানদের ওপর বিমান হামলা হয়েছে।

জাগো নিউজ : ক্ষমতায় থাকা ‘তালেবান’ আর দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে টিকে থাকা ‘তালেবানে’র মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য খুঁজে পান কি-না?

তানজিম উদ্দিন খান : না। আমি অন্তত মতাদর্শগত দিক থেকে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না। শিক্ষা, নারীশিক্ষা, নারীর অধিকার নিয়ে তালেবানদের চিন্তার কোনো পরিবর্তন দেখি না। এই রকম এক ভয়ঙ্কর শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যখন আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে তখন সবার ঝুঁকিই বেড়ে যায়। এতে রাজনীতি ও ধর্মের সংমিশ্রণ শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাচ্ছে।

জাগো নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের যে সাম্রাজ্যবাদ নীতি, তা থেকে তো এমন চুক্তিই আশা করতে হয়…

তানজিম উদ্দিন খান : হ্যাঁ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি আর তালেবানদের নীতির মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য দেখার সুযোগ নেই। উভয়েই ধর্মভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

জাগো নিউজ : কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি তো সর্বত্রই। ভারত, পাকিস্তান এমনকি বাংলাদেশেও এমন রাজনীতির বিকাশ ঘটছে। ধর্ম গুরুত্ব পাচ্ছে…

তানজিম উদ্দিন খান : হ্যাঁ। চিত্র কম-বেশি সর্বত্রই একই রকম। এ কারণে তালেবানরা নতুন করে ক্ষমতার কেন্দ্রেও আসার সুযোগ পেয়েছে। মৌলবাদী শক্তি যেখানেই এগিয়ে যাক, তাতে বৈশ্বিক উগ্রবাদী সংগঠন তথা হিন্দুত্ববাদী হোক আর উগ্র শ্বেতাঙ্গরা হোক— সবাই লাভবান হয়, খুশি হয়।

জাগো নিউজ : কিন্তু দীর্ঘ সময়ে তালেবানরা অনেক হারালো। শিক্ষা তো পাবার কথা…

তানজিম উদ্দিন খান : আপনাকে বুঝতে হবে, তালেবানদের শক্তির উৎস কী? ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদী রাজনীতি থেকেই তাদের উত্থান। টিকে আছে সে শক্তির ওপর ভর করেই।

সোভিয়েতবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তালেবানদের প্রগতিবিরোধী রাজনীতিতে শক্তি জুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ধরনের বিশ্বাসে পরিবর্তন আনলে তালেবান তো আর তালেবান থাকবে না।
তালেবান খারাপ, তাই বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভালো বলার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা আফগানিস্তান থেকে সরে আসার অর্থ হচ্ছে চীনের বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া। এ জন্যই আমাদের প্রয়োজন আরও বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি।’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় টিকে থাকেই যুদ্ধ-দাঙ্গার ওপর ভর করে।

জাগো নিউজ : শেষ বিচারে আফগানিস্তান কোন পথে যাচ্ছে?

তানজিম উদ্দিন খান : আফগানিস্তানে এখন তালেবান এবং দেশটির সরকারপন্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংঘাত শুরু হবে এবং অস্থিরতা বাড়বে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার কতটুকু দক্ষতা দেখাবে এবং কতটা স্বকীয়তা প্রদর্শন করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ।

এএসএস/এমএআর/এমএস