আমন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ফজলুল হক শাওন
ফজলুল হক শাওন ফজলুল হক শাওন , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০২০

এবারের বন্যায় ডুবে যাওয়া ৩৮ জেলার কৃষকরা আমন চাষ করতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে আছেন। আবহাওয়া অধিদফতর ও পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, আগস্টের শেষে আবারও বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে অনেক কৃষক আমনের আবাদ করতে পারবেন না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান করতে হলে চারা রোপণের উত্তম সময় হলো শ্রাবণ মাস। দেশের উঁচু জায়গাগুলোতে আমনের চারা রোপণ প্রায় শেষ দিকে। বন্যার পানি নামতে নামতে যদি ভাদ্র মাসের অর্ধেক সময়ও চলে যায় তাহলে কোনোভাবেই আমনের আবাদ করা সম্ভব হবে না।

বগুড়া জেলার উল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক হেলাল খাঁ জাগো নিউজকে বলেন, আমনের চারা শ্রাবণ মাসেই রোপণ করতে হয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় যে গতিতে পানি নামছে, আবার আগস্টের শেষে ফের বন্যার কথা শুনছি, এমন হলে তো এবার আর আমন ধান চাষ করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না।

flood-04

এছাড়া অধিকাংশ কৃষকের আমনের বীজতলা ডুবে গেছে। এমন অনেক কৃষক আছেন, যাদের পক্ষে বীজ (আমনের চারা) কিনে আমন ধান চাষ করা সম্ভব নয়। এসব কৃষক খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

হেলাল খাঁ বলেন, ‘ধার-দেনা আর দোকান থেকে সার বাকি নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে আউশ ধান করেছিলাম। চোখের সামনে বন্যার পানিতে তা ডুবে গেল। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম। ওই ধান থাকলে এখন তা পেকে যেত। ধান কেটে আবারও আমন ধান চাষের প্রস্তুতি নিতাম। কিন্তু এখন সব শেষ। আমনের বীজতলাও ডুবে গেছে। ফলে এবার আর কোনোভাবেই আমন চাষ করা সম্ভব হবে না।’

বগুড়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার উল্লাপাড়া, চরপাড়া, ফকিরপাড়া, শৈলমারী, নলডাঙ্গা, এলাঙ্গী, গোসাইবাড়ী, ভান্ডারবাড়ী, শিমুলবাড়ী; শেরপুর উপজেলার শালপা, গজারিয়া, রোরৈতলী, বোয়ালকান্দিনহ ধুনট এবং শেরপুর উপজেলার ২০ ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল পানির নিচে। এ পানি কত দিনে নেমে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে আমনের আবাদ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

flood-04

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ৩৮ জেলায় বন্যা হচ্ছে। বন্যায় কৃষক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উজানের ঢল এবং অতি বৃষ্টিতে গত জুন মাস থেকে সৃষ্ট বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এরপর উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলাসহ জামালপুর, শেরপুর, ময়ময়সিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ ৩৮টি জেলা প্লাবিত হয় বন্যার পানিতে। এসব অঞ্চলের আউশ ধানসহ, পাট, সবজি, বাদাম, তিল ডুবে গেছে।

গত ২০ জুলাই কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বন্যায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তিনি বলেন, বন্যায় আউশ, আমন, সবজি, পাটসহ বেশকিছু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

চলমান বন্যার সার্বিক ক্ষতি নিরূপণে কৃষিমন্ত্রী আজ (মঙ্গলবার) মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত বন্যাপ্লাবিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি ও মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেন।

flood-04

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদুল আজহা-পরবর্তী পুনর্মিলনী সভায় অনলাইনে মন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। বন্যার পানি নেমে গেলে জরুরিভিত্তিতে কৃষি পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কাজ করতে হবে। সেজন্য বীজ, সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম বেগবান, তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত কাজের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেকটি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ের কাজের তদারকি করতে হবে।

উল্লেখ্য, খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং চলমান বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি জেলার সবজি ও আমন ধান চাষের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বীজ, সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম বেগবান, তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৪টি কমিটি কাজ শুরু করেছে। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে এসব তদারকি ও সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়েছে। কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান কমিটির সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন। সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।

এফএইচএস/এমএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]