গুণধর এই চিকিৎসক কর্মকর্তার পদে পদে দুর্নীতি!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) অপারেশন প্ল্যানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে হলো, অসংক্রামক রোগব্যাধিতে আক্রান্তের হার এবং অকাল মৃত্যুর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনা। কিন্তু বর্তমানে এটি প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও মুদ্রণ কার্যক্রমের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২২-এর জুন পর্যন্ত মেয়াদে চলমান অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) প্রোগ্রাম ম্যানেজার (পিএম-১) হিসেবে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর ধরে মেজর এনসিডি কম্পোনেন্ট নিজ দখলে রেখে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক অনুসন্ধান পর্বের দ্বিতীয়টি থাকছে আজ।

কাজ নয় টাকা খরচ করাই তার মূল লক্ষ্য

এনসিডি কর্মসূচির ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ ছিল ১৬৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে ব্যয় হয় ১৪০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ব্যয়ের হার ৮৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির বরাদ্দ ছিল ১৭১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ব্যয় হয় ১৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্যয়ের হার ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির বরাদ্দ ২০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১৪৮ কোটি দুই লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ব্যয়ের হার ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

অভিযোগ উঠেছে, অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে প্রতি অর্থবছর সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও কার্যত তা জনগণের কোনো উপকারে আসেনি। উল্টো অসংক্রামক রোগে অকাল মৃত্যুর হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ৫৭ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। উচ্চ রক্তচাপের হার ১৮ ঊর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর যা আগে ছিল ১৭ শতাংশ বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ শতাংশে ঠেকেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ খাতে ব্যয়ের বড় একটি অংশ ডা. আবদুল আলীমের পকেটে গেছে। যেহেতু এনসিডিসি অপারেশনাল প্ল্যানের মোট বরাদ্দের প্রায় তিন-চর্তুথাংশ ডা. আবদুল আলীম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার-১ (সাবেক ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, মেজর এনসিডি) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ব্যয় হয়, তাই প্রতি বছর আনুপাতিক হারে এই বিশাল ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (বিশেষ করে প্রিন্টিং, পাবলিসিটি, প্রশিক্ষণ ও সেমিনার, ওষুধ, এমএসআর, ফার্নিচার ক্রয়) নিজের পকেটে রাখেন। এ কারণে তিনি ২০১৫ সাল থেকে অদ্যাবধি অসংক্রামক রোগের মেজর এনসিডি কম্পোনেন্টটি হাতছাড়া করেননি। প্রোগ্রাম ম্যানেজার-৩ এর পদটি খালি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রোগ্রাম ম্যানেজার-১ কে অন্যত্র সরিয়ে নিজের দখলে নেন। এছাড়া ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার-৬ (ইপিআর অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ) তার সংগঠনের লোক হওয়ার সুবাদে তিনি ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার-১ (মেজর এনসিডি) হিসেবে তাকে পদায়ন করান যেন অপারেশনাল প্ল্যানের মেজর এনসিডি কম্পোনেন্টটি অন্য কারও দখলে না যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এনসিডি প্রোগ্রামের এক হাজার ১১৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা মেজর এনসিডি কম্পোনেন্টভুক্ত। ডা. আবদুল আলীম ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ডিপিএম) হিসেবে এখানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সেই সুবাদে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিজ পকেটস্থ করার সুযোগ পান।

অভিযোগ আছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (এসটিইপিএস সার্ভে) জরিপ অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ ১৭ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশ হয়েছে অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপের হার (অপারেশনাল প্ল্যানের ১নং সূচক) না কমিয়ে কিংবা নিয়ন্ত্রণ না করে শুধু কিছু পোস্টার, গাইডলাইন এবং ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় অসংক্রামক রোগের বার্তা প্রচার করে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এনসিডি ম্যানেজমেন্ট মডেল হাসপাতাল স্থাপন করার কথা থাকলেও কাগজে-কলমে সেটা দেখানো হচ্ছে। বাস্তবে এনসিডি ম্যানেজমেন্ট মডেলের কোনো কার্যক্রম ৪-৫টি উপজেলা ছাড়া কোথাও দৃশ্যমান নয়।

অপারেশনাল প্ল্যানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ডিসবার্সমেন্ট লিংক ইনডিকেটর (ডিএলআই)। এই সূচকের অগ্রগতির মধ্যেই দাতা সংস্থার ঋণের টাকা ছাড় করেন। চতুর ডা. আলীম দাতাদের কাছে ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে একদিকে দাতাদের বিভ্রান্তি করছেন অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, ওই ৬৬টি উপজেলায় এবং ২০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে এনসিডি ম্যানেজমেন্ট মডেল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অপারেশনাল প্ল্যানের সূচক-৪ (ওপি ইন্ডিকেটর-৪) অনুসারে এনসিডি মডেল কার্যক্রম মোটেই পরিচালিত হচ্ছে না।

এছাড়া ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা, ফলোআপ, ক্যান্সার রোগের হার এবং ঝুঁকির কারণসমূহ, হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া ক্যান্সার রোগী শনাক্তকরণ ও তাদের ফলো আপ ইত্যাদি বিষয়ে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্দিষ্ট ছকে ক্যান্সার রোগীদের নির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত একটি ডাটাবেজ করার কথা থাকলেও এসব কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি নেই। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি বিভাগে নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনে প্রকল্প অনুমোদন করেছেন সেখানে গত তিন বছরে হাসপাতালভিত্তিক ক্যান্সর রেজিস্ট্রি বাস্তবায়নের গড়িমসি করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্যান্সার রোগীদের ডাটাবেইজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এ খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থব্যয়ের বড় একটি অংশ গেছে অসাধু কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীমের পকেটে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে মাসে জাতীয় বহুখাত ভিত্তিক অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অ্যাকশন প্ল্যানটি ২০১৮-২৫ সালের জন্য অনুমোদিত হয়। এই অ্যাকশন প্ল্যানটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে নকশা করে পরিচালনা করতে বলা হয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে ২১টি মন্ত্রণালয়, সুশীল সমাজ, দাতা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকসহ ৪৬ জন সদস্য নিয়ে ন্যাশনাল মাল্টিসেক্টরাল নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠিত হয় ও প্রজ্ঞাপন জারি হয়। জাতীয় বহুখাত ভিত্তিক অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অ্যাকশন প্ল্যান অনুসারে ডা. আবদুল আলীম একটিও কার্যক্রম করেননি বা কার্যক্রম গ্রহণের কোনো উদ্যোগ নেননি। অথচ জাতীয়ভাবে বিভাগীয় ও জেলাপর্যায়ে এই কমিটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়। গত তিন বছর ধরে জাতীয় বহুখাত ভিত্তিক অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অ্যাকশন প্ল্যানের কোনো কার্যক্রম না থাকায় এটি মূলত মুখ থুবড়ে পড়ে। অথচ এ খানে অর্থ ব্যয়ের একটি বড় অংশ গিয়েছে ডা. আবদুল আলীমের পকেটে।

তাকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টরের অজুহাত দেন। কিন্তু বাস্তবে অপারেশনাল প্ল্যানের ইমপ্লিমেন্টেশন ম্যাট্রিক্স অনুসারে উল্লেখ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে সকল কার্যক্রমের প্রাথমিক দায়িত্ব ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজারের (ডা. আবদুল আলীমের)। কারণ তিনি নথি উপস্থাপন থেকে শুরু করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ করে থাকেন।

এছাড়া জাতীয় বহুখাত ভিত্তিক অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অ্যাকশন প্ল্যানের দুটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো- স্বাস্থ্য প্রবর্ধক বিদ্যালয় (Health Promoting School) ও স্বাস্থ্যকর শহর (Healthy City)। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এ সংক্রান্ত কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখেননি। বরং সচরাচর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওপর প্রশিক্ষণ ও সেমিনার করে অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছেন।

গবেষণার অর্থ লোপাট

২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের পার-২ অধিশাখার এক আদেশে ডা. আবদুল আলীমকে এনসিডি প্রোগ্রামের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (কনভেনশনাল এনসিডি) হিসেবে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে টেন্ডারের মাধ্যমে সার্ভে কাজের প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ‘গণ উন্নয়নসংস্থা’ ও ‘এস এন অ্যাসোসিয়েটস’ নামক বেনামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাইন ডিরেক্টরের মাধ্যমে দুটি চুক্তি করেন। পরবর্তীতে সার্ভের নামে ভুয়া কাগজ জমা দিয়ে কোনো রকম কাজ শেষ করে দিয়ে ওই দুই প্রতিষ্ঠান হতে বিপুল অঙ্কের টাকা গোপনে আত্মসাৎ করেন, যা টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি ও লাইন ডিরেক্টর কেউ-ই অবগত ছিলেন না।

কিউসিবিএস (কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট বেসড সিলেকশন) পদ্ধতিতে সার্ভিস প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমে সরাসরি পিপিআরের নিয়ম ভঙ্গ করে ডা. আবদুল আলীম তড়িঘড়ি করে উক্ত দুই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেন। কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়নে ৭০ (১০০ নম্বরের মধ্যে) নম্বরের বেশি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে অবগত করে তাদের সামনে আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের কথা থাকলেও তিনি সেটা না করে আর্থিক প্রস্তাব সকলের অগোচরে করে তা একই দিনে মূল্যায়ন করেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি সমাপ্ত করে ‘গণ উন্নয়ন সংস্থা’ ও ‘এস এনঅ্যাসোসিয়েটস’ প্রতিষ্ঠান দুটিকে কাজ দেন।

কাজ পাইয়ে দেয়ার চুক্তি অনুযায়ী ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ডা. আবদুল আলীম প্রথমে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ২০ লাখ টাকায় রফা হয়। ডা. আলীম পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করলে ‘গণউন্নয়ন সংস্থা’ ও ‘এস এন অ্যাসোসিয়েটস’ –এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয় এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দাম

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেজর এনসিডি কম্পোনেন্টভুক্ত কার্যক্রমের মধ্যে প্রিন্টিং কার্যক্রমটি সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে হয়ে থাকে। কিন্তু দেখা গেছে, বরাবরই এনসিডিসি প্রোগ্রামের প্রিন্টিংয়ের কাজটি একটি প্রতিষ্ঠান করে থাকে। পিপিআর-এর নিয়ম ভঙ্গ করে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুদ্রণ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি আইটেমের ওপর এককালীন ৫০ লাখ টাকার পণ্য ক্রয়ের কথা থাকলেও প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার মুদ্রণ ও প্রচারের উপকরণ ক্রয় করা হয়। প্রকল্পের লাইন ডিরেক্টরদের ভুল বুঝিয়ে এবং উন্মুক্ত দর পদ্ধতি অনুৎসাহিত করে ডা. আবদুল আলীম ফারহান জামান নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে আঁতাত করে সকলের অগোচরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ খাত থেকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ তিনি নিজ পকেটে ঢোকাল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

গুডস-এর কাজ সার্ভিসে করে অর্থলোপাট

অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয় হতে গুডস প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান পাস করিয়ে তা সার্ভিস কার্যক্রমে দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এনসিডিসি’র তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের আশীর্বাদপুষ্ট ডা.আবদুল আলীম। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেজর এনসিডি প্রকল্পের ‘বিজ্ঞাপন পরিকল্পনায়’ অ্যান্ডয়েড টিভি ক্রয় করে তাতে অসংক্রামক রোগের বার্তা প্রচারণা করা হবে বলে দেখানো হয় এবং মন্ত্রণালয় থেকে গুডস প্রকিউরমেন্ট হিসাবেই এর অনুমোদন পাওয়া যায়।

কিন্তু বাস্তবে কোনো টিভি দেখা যায়নি বরং মনিটরে এনসিডির বার্তা প্রচার করে দুই কোটি ৫৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে দৈনিক এক ঘণ্টা প্রচারণাবাবদ ৫০ হাজার টাকা করে ৯৬ লাখ টাকাসহ মোট তিন কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্রচারণা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ টেলিভিশন/এটুআই-এর নাম থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট এক প্রতিষ্ঠানের নামে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ডা. আবদুল আলীম। জানা গেছে, ফারহান জামানের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের আবদুর রশিদ নামক এক ব্যক্তির সহযোগিতায় এই কাজ করেন।

অতি ধূর্ত ও চালাক হিসেবে পরিচিত ডা. আলীম কোথাও কোনো স্বাক্ষর দিতে চান না, স্বাক্ষরও দেন না। সব জায়গায় নিজেকে লুকিয়ে রাখেন এবং গোপনে সরকারি টাকা অবৈধভাবে হজম করেন। টাকা ছাড়া প্রোগ্রামের কোনো কিছুতেই হাত দেন না। ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার গ্লুকোমিটার স্ট্রিপ ক্রয় নিয়েও তার নামে অভিযোগ আছে।

এসব অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আবদুল আলীম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এনসিডির দায়িত্ব পালন করেছেন। এনসিডির কার্যক্রম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে তাকে পিএম-১ হিসেবে নিয়োগ দেন।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের সকল কার্যক্রম মূলত বিভিন্ন কমিটি, সর্বোপরি লাইন ডিরেক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মিথ্যাচার করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এমইউ/এমএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]