চট্টগ্রাম সিটি : উৎসবের ভোট ঘিরে উৎকণ্ঠা

আবু আজাদ
আবু আজাদ আবু আজাদ , নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

নির্বাচন বা ভোট একটা সময় উৎসবের আমেজ ছড়ালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হয়ে উঠছে দুশ্চিন্তার বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে আতঙ্ক এবং ভয়েরও কারণ হচ্ছে ভোট। এর ব্যতিক্রম ঘটছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও। প্রচার-প্রচারণা শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় লাশ দেখেছেন চট্টগ্রাম মহানগরের ভোটাররা।

এরই মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় দুজনের প্রাণ গেছে বন্দর নগরে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। ঘটেছে প্রচারণার গাড়ি ও মাইক ভাঙচুরের ঘটনাও। এসব কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটারদের মধ্যে কাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি-না, এ নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়েছেন তারা।

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে গত বছরের ১৮ মার্চ রাতে সরাইপাড়া লোহারপুল এলাকায় ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোরশেদ আকতার চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যালয়ে খুন হন আনোয়ার জাহের তানভীর (৪৫) নামের একজন।

১৪ ডিসেম্বর ঘোষিত পুনঃতফসিলে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ধার্য হলে গত ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। সেদিন চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানবাজার এলাকায় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর জনসংযোগে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী আশিকুর রহমান রোহিত। ১২ জানুয়ারি নির্বাচনী সহিংসতায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাদেরহ ১১ জন রিমান্ডে রয়েছেন।

সর্বশেষ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) লালখান বাজারে নৌকার প্রচারণায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অন্যদিকে হালিশহরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের গাড়িবহরে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া যায়।

jagonews24

চট্টগ্রামে গত সপ্তাহে চার দিনের ব্যবধানে খুন হন চারজন। এর মধ্যে বাবুল সর্দার (ওপরে বাঁয়ে) ও আশিকুর রহমান রোহিত (নিচে) মারা গেছেন নির্বাচনী সহিংসতায়

বিভিন্ন সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অস্ত্রধারী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং লিডারদের প্রভাব বিস্তারের ঘটনা শঙ্কা তৈরি করেছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে বেশ ক’জন অভিযুক্তের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী প্রার্থী হওয়ায় এ শঙ্কা আরও বাড়ছে। নির্বাচনে স্থানীয় উঠতি সন্ত্রাসীরাও আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন সাধারণ প্রার্থী ও ভোটাররা।

মূলত কাউন্সিলর পদ নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিভক্ত আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া নির্বাচন নিয়ে দলটিরই নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন করছে। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঁদাবাজদের প্রার্থী হওয়ার কারণেও বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

দলীয় পরিমণ্ডলে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কড়া নির্দেশনার পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বাগে রাখা যায়নি বিদ্রোহী প্রার্থীদের। নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ার আগে আওয়ামী লীগকে তার দলের বিদ্রোহীদের শক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধেই লড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল শুরু থেকেই। সম্প্রতি পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদনেও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে কোন্দল এবং দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। এর সবকিছুই ভোটারদের মনে উদ্বেগের দাগকে দীর্ঘ করছে।

নগরের চাঁন্দগাও আবাসিক এলাকার ভোটার মনোয়ারা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক সময় এই শহরে ভোট এলেই বাড়িতে বাড়িতে উৎসবের আমেজ বয়ে যেত। মেয়েদের বাবার বাড়িতে নাইয়র (বেড়াতে) আনা হতো, গভীর রাত পর্যন্ত চলতো নির্বাচনী আড্ডা। এখন নির্বাচন বললেই মানুষের চেহারায় আতঙ্ক ভর করে। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চায় না। সবাই জানে নির্বাচনে কারা জয়ী হবেন; তাই আর ভোট দিতেও উৎসাহী হয় না।’

তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই হামলা-ভাঙচুরের খবর আসছে, মানুষও মরছে। সাধারণ ভোটাররা কতটুকু কেন্দ্রমুখী হবেন তা সময় বলে দেবে। নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে হলে আগে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে দেয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে।’

ডবলমুড়িং এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ব্যাংক কর্মকর্তা আবছার কবির। গত ১২ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের গুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী আজগর আলী বাবুলের মৃত্যুর পর, ভোট দেয়া তো দূরের কথা; ওই এলাকা ছেড়ে হাটহাজারীতে পৈতৃক বাড়িতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

jagonews24

নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী

আবছার কবির জাগো নিউজকে বলেন, ‘১২ জানুয়ারি সংঘর্ষের সময় খুব কাছ থেকে সহিংসতা দেখেছি। ঘটনাটি আমাকে ট্রমায় ফেলেছে। তাই পরিবারকে আপাতত গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি হাটহাজারী থেকে গিয়ে আগ্রাবাদে অফিস করছি প্রতিদিন। নির্বাচনের এই মাসে ওদের (পরিবার) শহরে নিয়ে আসবো না।’

গতকাল বিকেলে লালখান বাজার ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগে যান আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। কিন্তু তার প্রচারণাকে কেন্দ্র করে টাইগারপাস বটতল এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গ্রুপের প্রায় ১৫ জন কর্মী আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলম ওই এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেননি।

সংঘর্ষের জন্য নিজ দলের নেতা দিদারুল আলম মাসুমকে দায়ী করে কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলাল বলেন, ‘কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে মাসুমের লোকজন। আজ আমাদের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রচারণা উপলক্ষে কর্মীরা জমায়েত হলে মাসুমের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের কর্মী মোজাম্মেল হোসেন সোহাগ, মাহমুদ ও শাহীনসহ ১২ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

দিদারুল আলম মাসুমের দাবি, নৌকার প্রচারণাকালে কাউন্সিলর প্রার্থী বেলালের কর্মীরা তার লোকজনের ওপর পেছন দিক দিয়ে অতর্কিত হামলা করে।

এর আগে বিকেলে হালিশহর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে যাওয়ার পথে গাড়িতে হামলার শিকার হন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত। তার একান্ত সচিব মারুফুল কবির জানান, গাড়িটি হালিশহর ঈদগাহ রূপসা বেকারির কাছে এলে পেছন থেকে ডা. শাহাদাতের গাড়িতে আঘাত করা হয়। ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে দেয়া হয়।

jagonews24

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন, গত ১৬ জানুয়ারি হালিশহরে তার গাড়িবহরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি প্রচারণা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৪টি অভিযোগ জমা হয়েছে ইসি কার্যালয়ে। গতকাল শনিবার বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে মারুফুল হক চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগ জমা দেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০টির বেশি ওয়ার্ডে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অভিযুক্তরা। এর মধ্যে ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী র‌্যাব-পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, খুন, অপহরণ ও অস্ত্র আইনে এক সময় ২৯টি মামলার আসামি আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের দলীয় কর্মী হত্যার দায়ে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সদ্য সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী। তিনি ২০১৬ সালের ৫ মে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট বাজারে যুবলীগ কর্মী নূর এলাহী হত্যা মামলার আসামি। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী এসরারুর হককে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে চেনেন স্থানীয়রা। দেড় বছর আগে নগরের শমসের পাড়ায় চাঁদা না দেয়ায় ড্রিল মেশিনে যুবকের দুই পা ছিদ্র করে দেয়ার পর আলোচনায় উঠে আসেন এসরারুর। নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছে তার বাহিনীও।

৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর জহুরুল আলম ওরফে জসিমের বিরুদ্ধে কিশোর অপরাধী চক্রে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগ নেতা মনোয়ার উল আলম চৌধুরী নোবেল। তিনি সিআরবিতে জোড়া খুন মামলার অন্যতম আসামি। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্যসাবেক কাউন্সিলর সাবের আহম্মদ আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গত বছর ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবের।

jagonews24

টাইগারপাস বটতল এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রচারণাকালে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হন প্রায় ১৫ জন, এদের মধ্যে কয়েকজনের জখম ছিল গুরুতর

১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন আলোচিত সন্ত্রাসী নূর মোস্তফা টিনু। অস্ত্রসহ গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন জহির উদ্দিন মো. বাবর। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে।

১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত বেলাল। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এফ কবির মানিক। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত হত্যা মামলার আসামি দিদারুল আলম মাসুম অবস্থান নিয়েছেন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে। গত দুই বছরে এ দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসী যে-ই হোক না কেন, তাকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলে নির্বাচনী সহিংসতা কমে আসবে।’

তবে বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। যেন ভোটাররা কেন্দ্রমুখী না হয়, তাহলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভোট ডাকাতি করতে সহজ হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সকল বৈধ অস্ত্র জমা নেয়ার কথা থাকলেও সে ঘোষণা এখনো আসেনি। এ অবস্থায় নিবার্চনের আগেই সকল বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের আরও নয়দিন বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেসব এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা আছে, সেসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টহল টিম কাজ করছে। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।’

আবু আজাদ/এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]