ভারতে বিভাজন রুখতে মোদির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারেন বাইডেন

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৩ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২১

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাপানের ইয়োকোহামা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন। এখন অধ্যাপনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং টেরোরিজম ইন সাউথ এশিয়া : বিয়ন্ড স্ট্যাটিস্ট ডিসকোর্সেস’ নামক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি।

গত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দায়িত্ব গ্রহণ এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ পড়ুন শেষটি।

জাগো নিউজ: ইসরায়েল মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মরিয়া। যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নীতির প্রতিফলন। সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মধ্যস্থতা করছে। বাইডেন কী করতে পারেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমস্যা ছিল, তিনি মনে করেন জনগণ নয়, একটি রাষ্ট্রের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারলেই হলো। কিন্তু বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কায়রো ইউনিভার্সিটিতে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেখানে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আরব বসন্ত কিন্তু এরপর থেকেই। বসন্তের সেই বাতাস ট্রাম্প গায়ে লাগাতে চাননি। বাইডেন এটি উপলব্ধি করতে পারবেন বলে মনে করি।

আরব বিশ্বে ইসরায়েল ফ্যাসিস্ট চরিত্র প্রকাশ করছে অনবরত। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগের ‘টু স্টেট থিউরি’তে না ফিরলে সমস্যা আরও বাড়বে। ইসরায়েলকে ভূমি দখলে ট্রাম্প উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং এর জন্য আরব বিশ্বের কতিপয় মুসলিম দেশের প্রধানকে তিনি হাত করেছিলেন। বাইডেন এটি অবশ্যই করতে চাইবেন না। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে হলে অবশ্যই ট্রাম্পের নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে সেখানে শান্তি আসবে না।

imtiaz

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

জাগো নিউজ: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্র সৌদিকেও দায়ী করা হয়। শান্তি ফেরাতে সৌদিকে চাপ দিতে পারবেন বাইডেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: সামরিক প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান শক্তি। অর্থনীতির ক্ষেত্র বদলাচ্ছে। চীন এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ চীন যুদ্ধে যায়নি। চীন বুঝে গেছে সামরিক শক্তি বাড়ালে তার ব্যবহার করতেই হবে। তারা এ ভুল করেনি বলেই অর্থনীতির পরাশক্তি আজ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ভিত্তি এখন সামরিক খাত। এই কাঠামো এখনো শক্তিশালী। যে কারণে আমেরিকা কাউকে প্রভাবিত করলে অস্ত্রের জোরেই করবে। আমি মনে করি, সৌদি আরব ইসরায়েলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেই। সৌদির জনগণ হয়তো আমেরিকা বা ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবে। কিন্তু সৌদির রাজতন্ত্র চাইলেই যুক্তরাষ্ট্রের বেল্ট থেকে বের হতে পারবে না। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইসরায়েল-সৌদির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ক্ষমতা দেখাবে কি-না?

জাগো নিউজ: সামরিক শক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নির্ভর করে বলছিলেন। এরপরও বলতে হয়, ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসারিত করেননি। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: যুদ্ধের যে প্রযুক্তি, তাতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো সৈন্য নামিয়ে দখল করার পরিস্থিতি কিন্তু নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে, তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে নিয়েছেন। বাস্তবতা ভিন্ন। তিনিও যুদ্ধ করেছেন। কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করাও এক প্রকার যুদ্ধ। এখন যুদ্ধ হচ্ছে ড্রোন দিয়ে। আফগানিস্তানে, ইরাকে ড্রোন হামলা বাড়ছে এখনো। যুদ্ধের আরেকটি ধরন হচ্ছে ‘সাইবার ওয়ার’। সাইবার ওয়ারের সঙ্গে রাশিয়াসহ সবাই যুক্ত হয়ে পড়ছে। যুদ্ধের কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়েই পরাশক্তিগুলো নিজেদের দখলদারিত্ব বজায় রাখবে।

imtiaz

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে এরই মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন জো বাইডেন

সৈন্য মাঠে নামিয়ে বড় ধরনের যুদ্ধ করার অবস্থায় নেই আমেরিকা। সৈন্য নামিয়ে যুদ্ধ করে যে লাভ হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি লোকসান হয়। এ কারণেই যুদ্ধের নীতি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আমেরিকা আপাতত এই নীতিতেই যুদ্ধ চালিয়ে যাবে বলে মনে করি। দেশের অভ্যন্তরে যদি বেসামাল পরিস্থিতি তৈরি হয় তখন সামাল দিতে অন্যত্র বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে হয়। জো বাইডেনও সে পথে হাঁটতে পারেন।

জাগো নিউজ: তার মানে যুদ্ধের শঙ্কা থাকছেই?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: বাইডেন যুদ্ধ করবেন কি-না, তা দেখার জন্য একটু সময় দিতে হবে। তিনি অভিষেকের দিন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যথেষ্ট ম্যাচিউরিটির প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সংঘাত না থামাতে পারলে বিপর্যের মুখে তাকেও পড়তে হবে। ড্রোন বা সাইবার ওয়ার থেকে এই মুহূর্তে তিনিও বের হতে পারবেন বলে মনে হয় না।

জাগো নিউজ: চীনের অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন। চীনের এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে কী করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: চীনের ইতিহাস আর আমেরিকা-ইউরোপের ইতিহাস আলাদা। চীন এমন সামরিক কাঠামো গড়ে তোলেনি, যার কারণে অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়। যুদ্ধ করে দেশ বা বিশেষ জায়গা দখল করার নীতি চীনের ইতিহাসে দেখতে পাইনি। তাদের এগিয়ে যাওয়ার নীতি হচ্ছে অর্থনীতির বিশ্বায়ন। বিশ্বায়নের কারণে চীন এতো বড় হয়ে আসছে। চীনের স্বার্থেই বিশ্বায়নকে টিকে রাখতে হবে। যুদ্ধ হলে বিশ্বায়ন সংকুচিত হয়। তাতে চীনের ব্যবসা-অর্থনীতিতে ভাটা পড়বে।

imtiaz

সামরিক প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান শক্তি

যদিও দক্ষিণ চীনে নিজেদেরই কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। তবে তা সামলানোর চেষ্টাই করবে বেইজিং। জো বাইডেনও বিশ্বায়নে জোর দেবেন বলে মনে করি। বাইডেন তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলেছেন। জলবায়ু নিয়ে কাজ করতে হলে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রেখেই কাজ করতে হবে। আবার করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতেও বিশেষ একটি সম্পর্ক করতে হবে। ট্রাম্পের মতো তিনিও যদি নিজেকে বিশ্বে একক নেতা মনে করেন, তাহলে কাউকেই থামাতে পারবেন না। বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই আটকে যেতে হবে।

জাগো নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক তলানিতে। সামনে কী হতে পারে?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: ইরান প্রশ্নে বারাক ওবামার বড় একটি ভূমিকা থাকবে বলে মনে করি। হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার অ্যাকসেস আরও বেড়ে গেল। ইরানের ব্যাপারে ওবামা বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। সেই নীতিতে বাইডেনেরও সমর্থন ছিল। বাইডেন আমলে তেহরানের পরমাণুর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন বিষয়ক চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে। ওবামা এ প্রশ্নে প্রভাব ফেলতে পারবেন। ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবে। কিন্তু এখানে বহু পক্ষ-বিপক্ষ আছে। তাদের থামানোই বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

imtiaz

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনীর চোরাগোপ্তা হামলায় প্রাণ হারান ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি

জাগো নিউজ: তার মানে ইরান স্বস্তিতে আছে?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: অবশ্যই ইরান স্বস্তিতে আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইরানের পাশাপাশি চীনও স্বস্তিতে আছে। এই দুটো দেশ অবশ্যই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চায়নি। যদিও অর্থনৈতিক প্রশ্নে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়ন অত সহজ নয়।

জাগো নিউজ: পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের মধুর সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বেশ ক’বছর আগেই। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত মাখামাখি সম্পর্কে ট্রাম্প ভূমিকা রেখেছেন। এখন কী হতে পারে?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: এই হিসাব সহজে মিলবে না। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চীনও একটি বড় শক্তি। করোনা মহামারির মধ্যেও ভারতের সঙ্গে চীনের সংঘাত হলো। দক্ষিণ এশিয়ায় এমনকি ভারতের সঙ্গেও চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক। চীনের বিনিয়োগও সবচেয়ে বেশি এই অঞ্চলে। এ কারণে ভারত-পাকিস্তান কাঠামো থেকে দক্ষিণ এশিয়াকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করে নরেন্দ্র মোদিও এ অঞ্চলে অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন। দ্বি-জাতি তত্ত্ব দিয়ে ভারতে অস্থিরতা বাড়িয়েছে বিজেপি সরকার। অথচ আমরা এ তত্ত্ব থেকে ১৯৭১ সালে বেরিয়ে এসেছি।

imtiaz

বিতর্কিত নানা আইন-কানুন করে চাপে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

মোদির রাজনীতি নিয়ে বাইডেন অস্বস্তিতে আছেন বলে মনে করি। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অনেক আগেই কাশ্মীর নিয়ে সমঝোতার কথা বলেছিলেন। এখন তিনি হোয়াইট হাউসে। কাশ্মীরি আমেরিকান একজনকেও বাইডেনের প্রশাসনে যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রশ্নে আমার মনে হয় না ট্রাম্প-মোদির সম্পর্কের মতো বাইডেন-মোদির সম্পর্ক হবে। দুজনের ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। সার্কের ব্যাপারেও আগ্রহ দেখাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণেই বলছি, ভারত নাকি পাকিস্তান এই সমীকরণ আপাতত থাকবে না। মোদির দ্বি-জাতি তত্ত্ব মার খাবে। ভারতে বিভাজন রুখতে মোদির ওপর বাইডেন চাপ প্রয়োগ করবেন। কিন্তু এর জন্যও অপেক্ষা করতে হবে।

জাগো নিউজ: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: বাংলাদেশ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক কাঠামোতে। বাংলাদেশের এই কাঠামো যদি আরও প্রসারিত হয়, তাহলে অবশ্যই বাইডেন বাংলাদেশে অধিক নজর দেবেন। আমরা আমাদের কাঠামো শক্তিশালী করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই গুরুত্ব দেবে। মানুষের উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এটি সবাই প্রত্যাশা করে।

রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। রোহিঙ্গা নিয়ে বাইডেন মিয়ানমারকে চাপ দেবেন বলে বিশ্বাস করি।

এএসএস/এইচএ/এমএস

ইসরায়েলকে ভূমি দখলে ট্রাম্প উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং এর জন্য আরব বিশ্বের কতিপয় মুসলিম দেশের প্রধানকে তিনি হাত করেছিলেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে, তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে নিয়েছেন। বাস্তবতা ভিন্ন। কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করাও এক প্রকার যুদ্ধ

যুদ্ধ হলে বিশ্বায়ন সংকুচিত হয়। তাতে চীনের ব্যবসা-অর্থনীতিতে ভাটা পড়বে

ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবে

ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করে নরেন্দ্র মোদিও এই অঞ্চলে অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন। দ্বি-জাতি তত্ত্ব দিয়ে ভারতে অস্থিরতা বাড়িয়েছে বিজেপি সরকার

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]