রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে?

মুসা আহমেদ
মুসা আহমেদ মুসা আহমেদ
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২১

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই বছরের বেশি সময় আগে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ কমিটি গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি এই কমিটি। কবে নাগাদ শৃঙ্খলা ফিরবে তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টদের কেউ। ফলে নগরের প্রতিটি রাস্তায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ যাচ্ছে পথচারীর। আবার অঙ্গহানি হয়ে জীবনের তরে চলার ক্ষমতা হারাচ্ছেন অনেকে।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে তারা সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে ২১৯টি রুটের পরিবর্তে ৪২টি রুটে ২২ কোম্পানির মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। নগরীতে চলাচল করা দুই হাজার ৫০০ কোম্পানির প্রায় ৩০ হাজার বাসের পরিবর্তে নয় হাজার ২৭টি গণপরিবহন পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বিরুলিয়ার বাটুলিয়া, সাভারের হেমায়েতপুর, কেরানীগঞ্জের বাঘাইর ও কাঁচপুরে পৃথক চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই চারটি জায়গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপন করলে ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে। সায়েদাবাদ, গাবতলী এবং মহাখালী বাস টার্মিনালগুলো তখন সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির এ সুপারিশ কতদিনে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে, তা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।

২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়রকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কথা ছিল, এই কমিটি উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক গণপরিবহন নিয়ে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। সে অনুযায়ী তখন বাস্তবতা সমীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেয় এই কমিটি।

দীর্ঘ দুই বছর সমীক্ষা করে পরামর্শকরা গত বছরের ১০ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন। এই প্রতিবেদনে ২২টি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা, ৪২টি রুটে ছয় রঙের বাস, আন্তঃজেলা বাসগুলো রাজধানীতে প্রবেশ বন্ধ, বিদ্যমান বাস ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট ব্যবস্থাপনা, রাজধানীর বাইরে ১০টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ, কোন রঙের (নীল, মেরুন, কমলা, সবুজ, বেগুনি) বাস কোন রুটে চলবে তার নির্দেশনা দেয়া হয়।

jagonews24

গত ১৯ জানুয়ারি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে সভা করে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। সভায় আগামী এপ্রিলের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সভায় জানানো হয়, এই রুটে প্রায় ৩৪টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জায়গায় বাস বে হবে এবং কিছু কিছু জায়গায় বাস স্টপেজ হবে। তবে কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে সেটি বলা হয়নি।

বর্তমানে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সভা শেষে শেখ তাপস সাংবাদিকদের বলেন, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল করার জন্য চিহ্নিত ১০টি জায়গার কয়েকটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সরেজমিন পরিদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিরুলিয়ার বাটুলিয়ায় একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি। সেখানে আন্তঃজেলা একটি টার্মিনাল হবে। মূলত উত্তরাঞ্চলের যে বাসগুলো আছে, সেখানে এসব বাস থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সাভারের হেমায়েতপুরে একটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি এবং আরেকটি জায়গা কাঁচপুরে। এই চারটি জায়গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপন করলে ঢাকা শহরের ওপর থেকে চাপ কমবে। তখন সায়েদাবাদ, গাবতলী এবং মহাখালী টার্মিনালকে আমরা সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারব। প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির সিদ্ধান্তের বিষয়টি সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব।

jagonews24

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান। খসড়া নীতিমালার বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘যে গতিতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি কাজ করছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই-তিন বছরেও ঢাকা শহরে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে না। প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এই কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কাজের গতি বহুগুণ বাড়াতে হবে।’

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির আরেক সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে নগরে যানজট কমবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে কাজের গতি আরও বাড়াতে ওই কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হবে।’

এমএমএ/এমএইচআর/এসএইচএস/এইচএ/জেআইএম

যে গতিতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি কাজ করছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই-তিন বছরেও ঢাকা শহরে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে না

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]