আইন না থাকলে ডিজিটাল সুবিধা নিয়ে অরাজকতা তৈরি করা হবে

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২১
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের নৌ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, নদী দখলমুক্তকরণ প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন জাগো নিউজের। সরকার নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে এবং নৌপথ যুগোপযোগী করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে দাবি তার।

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রসঙ্গেও নানা বক্তব্য দিয়েছেন খালিদ মাহমুদ। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ। এমন সময়ে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’কে পরাধীনতার শিকল বলছেন অনেকেই। বিশেষ করে ওই আইনে গ্রেফতার লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর পর এটির প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সরকার কী মনে করছে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: প্রত্যেক আইনেরই অপপ্রয়োগ হয় এবং এটি বহুকাল থেকেই হয়ে আসছে। যেটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নতুন হওয়ার কারণে অনেকেই বিষয়টিতে ভিন্নমত পোষণ করছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ৫৪ ধারার অপপ্রয়োগ আছে। এ অপপ্রয়োগ কমে যাচ্ছে। সব কিছুই প্রযুক্তির আওতায় চলে এসেছে। একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও তার নিরাপত্তার দরকার আছে। চাইলেই মানুষ আর ডিজিটাল সিস্টেমের বাইরে রেখে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারবে না। এ কারণেই মানুষের নিরাপত্তার জন্য একটি আইন জরুরি ছিল। আইন না থাকলে ডিজিটাল সুবিধা নিয়ে অরাজকতা তৈরি করবে। ইউরোপ-আমোরিকার মতো রাষ্ট্রেও আইন দিয়েই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।jagonews24ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান লেখক মুশতাক আহমেদ

জাগো নিউজ: ইউরোপ-আমেরিকায় বাংলাদেশের মতো আইনের অপপ্রয়োগ হয়?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: না। তা হয় না। কারণ আমাদের মতো ওইসব দেশে আইনের অপপ্রয়োগকারী নেই। আমরা থাকি আমেরিকায়। মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। ইংল্যান্ডে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। কিছু রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাবেক সেনাকর্তা মিলে দেশের বাইরে গিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা রটাচ্ছেন। ডিজিটাল আইন না থাকলে আপনি এসব রুখবেন কী করে?

বিশেষ ক্ষমতা আইন খালেদা জিয়া, (প্রয়াত) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (তাদের ক্ষমতাকালে) বাতিল করেননি কেন? কারণ যতই এখন সমালোচনা করুন, তারাও এই আইনের ওপর আস্থা রেখেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ক্ষমতা আইন অবশ্যই দরকার আছে।

জাগো নিউজ: তার মানে নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে আইনই একমাত্র ভরসা সরকারগুলোর?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: আইন ছাড়া আপনি সভ্য সমাজ কল্পনা করতে পারবেন? আইন নিয়ে রাজনীতি হয়। আজকে যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করছেন, তারা নিজেরাও জানেন এই আইনের দরকার আছে। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থেই তারা এর বিরোধিতা করছেন।

জাগো নিউজ: কিন্তু আইনের ব্যবহারও তো রাজনৈতিকভাবেই হচ্ছে? আগের সরকারও তাই করেছে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: আমরা কখনো রাজনৈতিকভাবে আইনের ব্যবহার করিনি।

জাগো নিউজ: শুরু থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি ছিল। এখনো একই দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। সরকার কী ভাবছে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: গুটিকয়েক মানুষ এই আইন বাতিলের দাবি করে আসছে। এরা কারা, সে ব্যাপারে আপনাকে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায়, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে? বিএনপির মধ্যে কোনো দেশপ্রেম আছে? তারা চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ একটি দল।jagonews24ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে সম্প্রতি রাজধানীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়

জাগো নিউজ: বিএনপির বাইরের মানুষও এই আইনের সমালোচনা করছে...

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: আমি তা মনে করি না। মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক চরিত্র দেখেন। তিনি কতগুলো দল পরিবর্তন করলেন? তার সঙ্গে সব জামায়াত-শিবিরের লোকজন আন্দোলন করছে। জামায়াত নিষিদ্ধ বলেই তারা মান্নাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে। যেটি স্বাধীনতার পর সুযোগ দিয়েছিল জাসদ। এখনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ৫০ বছরে যে ভূমি দখল করেছেন, তা বাঁচাতেই রাজনীতিতে নামছেন। তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে ডিজিটাল আইনের সমালোচনা করছেন।

জাগো নিউজ: আওয়ামী লীগবিরোধী দলে গেলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কী অবস্থান নেবে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা যা করি দেশ এবং মানুষের স্বার্থে করি। ডিজিটাল ব্যবস্থাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই এ আইন করা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার যেন অপব্যবহার না হয়, তার জন্যই আইনের প্রয়োগ। আইনের অপপ্রয়োগ ঠেকাতেও আমরা বদ্ধপরিকর। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে ছিল। কিন্তু কখনোই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কখনো কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে? মন্দির ভেঙেছে? গুজব রটিয়েছে? না। আমরা যা করি মানুষের কল্যাণে পরিষ্কারভাবে করি।

জাগো নিউজ: এরপরও এ আইন সংশোধনের দাবি রাখে কি-না?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: যে কোনো আইনই সংশোধন হতে পারে। মানুষের জন্যই আইন। সংবিধানও তো বহুবার সংশোধন হলো।jagonews24খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

জাগো নিউজ: আপনারা সংশোধনের প্রয়োজন মনে করছেন কি-না?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এখনো বিধি আকারে আসেনি। বিধি তৈরি হলে সংশোধন হতেই পারে। বিরোধী শক্তি এখন সব হারিয়েছে। খড়কুটো ধরে বাঁচতে চাইছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করছে এমন জায়গা থেকেই।

জাগো নিউজ: লেখক মুশতাকের মৃত্যুতে সরকার বিব্রত কি-না?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: মুশতাকের মৃত্যু ডিজিটাল আইনের কারণে হয়নি। মৃত্যু সবারই হবে। তবে কারাগারে এভাবে একজন প্রতিভাবান মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তিনি এতো মেধাবী ছিলেন, তা আগে জানা ছিল না। কেন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেননি, তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। একজন নাগরিক হিসেবে লেখক মুশতাক অবশ্যই জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।

এএসএস/এইচএ/জেআইএম

কিছু রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাবেক সেনাকর্তা মিলে দেশের বাইরে গিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা রটাচ্ছেন। ডিজিটাল আইন না থাকলে আপনি এসব রুখবেন কী করে?

বিশেষ ক্ষমতা আইন খালেদা জিয়া, (প্রয়াত) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (তাদের ক্ষমতাকালে) বাতিল করেননি কেন? কারণ যতই এখন সমালোচনা করুন, তারাও এই আইনের ওপর আস্থা রেখেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন

মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক চরিত্র দেখেন। তিনি কতগুলো দল পরিবর্তন করলেন? তার সঙ্গে সব জামায়াত-শিবিরের লোকজন আন্দোলন করছে। জামায়াত নিষিদ্ধ বলেই তারা মান্নাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে

কেন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেনি, তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। একজন নাগরিক হিসেবে লেখক মুশতাক অবশ্যই জামিন পাওয়ার অধিকার রাখে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]