বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব মহলের আগ্রহের কমতি নেই

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৩ এএম, ২৮ মার্চ ২০২১

মো. শাহরিয়ার আলম। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে।

তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো নীতি অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে সক্ষম হয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে এবং সরকার সতর্কতার সঙ্গে এর মূল্যায়ন করছে বলেও জানান তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে কোথায় যেতে পারল বাংলাদেশ?

শাহরিয়ার আলম: পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপ্তি ব্যাপক। বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে বলেছেন, ‘১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশদের কাছ থেকে মুক্তি লাভ করে দু’টি স্বাধীন দেশের পক্ষে যে মতামত দিলাম, সেখানে পাকিস্তানের অংশ হয়ে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।’ এই সংশয়ের কথা তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন। ১৯৪৭-১৯৪৮ সালের দিকে জেলখানায় বসে বঙ্গবন্ধু এমন উপলব্ধি করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে ৯ মাস কারান্তরীণ থাকার পর লন্ডনে গিয়ে যখন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেন, তখন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে তার ব্যাখ্যা দেন। ঢাকায় এসেও একই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গেই বৈরিতা নয়’।

এটি একটি নীতি বা স্লোগান। কিন্তু এর বাস্তবায়ন যে সহজ নয়, তা গত সাড়ে সাত বছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছি। পররাষ্ট্রনীতি সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি।

জাগো নিউজ: চ্যালেঞ্জ প্রশ্নে কোন বিষয়টি সামনে আনবেন?

শাহরিয়ার আলম: আমি মনে করি, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গেই বৈরিতা নয়’—বঙ্গবন্ধুর এই নীতি প্রতিটি রাষ্ট্রের অবলম্বন করা দরকার। কারণ হিংসা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্তির কোনো পথ হতে পারে না। অথচ, রাষ্ট্রগুলো শান্তির এই পথ থেকে সরে এসেছে, যা মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ। বৈরিতা আপনাকে যুদ্ধের মধ্যে, সংঘাতের মধ্যে ফেলে দেয়।

আমাদের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনেক ভালো রাষ্ট্রও যুদ্ধে জড়াতে গিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ ব্যয় করছে। অথচ এই অর্থ দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে পারতো তারা।

দক্ষিণ এশিয়ারও এমন রাষ্ট্র আছে, যারা যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে।

Sea.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি জোটনিরপেক্ষ ধাঁচের। দেশটি এমনটাই প্র্যাক্টিস করেছে। সুইজারল্যান্ডের কোনো সেনাবাহিনী নেই। কোনো সামারিক জোটেও নেই দেশটি।

আবার দেখবেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই সুইজারল্যান্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমন নীতি গ্রহণ করলে বন্ধুত্ব বাড়ানো যায়। আর বৈরিতার পথ গ্রহণ করলে বন্ধুত্ব থাকে না।

জাগো নিউজ: বাংলাদেশ কোন পথে যেতে পারল?

শাহরিয়ার আলম: বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরে (শাসনামল) তার নীতির প্রমাণ দিয়েছেন পাকিস্তান সফরের মধ্য দিয়ে। এটিই বাংলাদেশের পথ। পাকিস্তানে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে সংস্থাভুক্ত দেশগুলো বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি পাকিস্তানের মাটিতে পা দেয়ার আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে হবে’।

পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক কিছুই পর্দার অন্তরালে হয়। বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় তাই আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। নয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আরও ভালো করে তার নীতির প্রয়োগ করতে পারছেন বলে মনে করি। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলে ভারত অন্য রকম মনে করতে পারে, আবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলে চীন অন্যরকম মনে করতে পারে, এই বিরাগভাজনের রাজনীতিতে বাংলাদেশ নেই।

আমরা প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাই এবং সেই ভালো থাকা তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়।

জাগো নিউজ: ‘বাঙালি বাঙালিকে শাসন করতে জানে না’—বলে সমালোচকরা বলে থাকেন। এর বিপরীতে কী বলবেন?

শাহরিয়ার আলম: ঐতিহাসিকভাবে এই কথার আংশিক সত্যতা আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হলেন এমন একজন বাঙালি যিনি নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন এবং বাঙালির নেতৃত্ব দেয়ার ভিত্তি রচনা করে দিয়ে গেছেন।

নবাব সিরাজউদ্দৌলাও কিন্তু বাঙালি ছিলেন না। ১৯৭১ সালের আগে বাঙালি নিজেদের শাসন করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাঙালি নিজেদের শাসন করার স্বপ্ন দেখেছিল এবং ২৪ বছরের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়।

কিন্তু ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেই স্বপ্নযাত্রায় ভাটা পড়ে। এই সময়ে সামরিক এবং স্বৈরশাসকেরা একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশবিরোধী শক্তিগুলো ফিরে আসে।

jagonews24

ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়ছে বাংলাদেশের

বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর এবং তার কন্যা শেখ হাসিনার ১৭ বছরের বাইরে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিগুলোই দেশ পরিচালনা করে, যেখানে বাঙালি মননের প্রতিনিধিত্ব ছিল না।

জাগো নিউজ: শেখ হাসিনার সরকার টানা ১২ বছর থেকে ক্ষমতায় আছে। আগেও ছিল। এই সময়-ও তো কম নয়...

শাহরিয়ার আলম: স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই সময় অর্ধেকও নয়। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে আরও সময় দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি ৩০ বছরও ক্ষমতায় থাকত, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় যেত, একবার ভাবুন!

২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ে যাবে, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন। ওই ইশতেহারের সবই কিন্তু সময় এবং সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একেবারে বৈজ্ঞানিক এবং পদ্ধতিগতভাবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বাঙালি যদি অনেক আগেই একজন এমন রাষ্ট্রনায়ক পেত, তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম।

যারা বন্দুকের নলে ক্ষমতায় এসেছেন, তারা অধিকাংশ সময়ই বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট রেখেছেন। তাদের পায়ের তলার মাটি শক্ত ছিল না, জনসম্পৃক্ততা ছিল না। আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিল বলেই বৈদেশিক চাপে নতজানু হয়ে তাঁবেদারি করেছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চক্রান্ত, বিশ্ব ব্যাংকের চক্রান্ত বা বাংলাদেশ নিয়ে অন্য শক্তির মাথা ঘামানোর যে নীতি, তা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নির্মূল করতে সক্ষম হচ্ছে। আগামীতেও নির্মূল করার সক্ষমতা রাখে সরকার।

জাগো নিউজ: এই ‘নতজানু’ সম্পর্কের অভিযোগ এ সরকারের বিরুদ্ধেও আছে। বিশেষ একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকার টিকে আছে বলে কোনো কোনো সমালোচক মনে করেন...

শাহরিয়ার আলম: এটি একটি মিথ্যা অভিযোগ। আপনি তো দেশটির নাম উল্লেখ করলেন না। আমি বলছি। ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট নিয়ে আলোচনা হলেই কিছু মানুষ আস্ফালন শুরু করে দিতেন।

দুই সপ্তাহ আগে বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া শাখার একটি গবেষণাপত্রে দেখিয়েছে, ট্রানজিট কানেক্টিভিটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১৮ শতাংশ আর ভারতের বাড়বে ৭ শতাংশ।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সব সময় সমানতালে লাভবান হওয়া যায় না। ট্রানজিটের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে দ্বিগুণ লাভবান হবে, এটি অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বারবার ওঠে এসেছে।

jagonews24

ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের এক রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পায়

এখন সস্তা রাজনীতির জন্য পল্টন বা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে অথবা টকশোতে এসে চটকদার কথা বলে দিলেন আর হয়ে গেল, মানুষ তর্ক শুরু করে দিল। উদ্দেশ্য যদি এমন হয়, তাহলে কোনো কথা নেই।

জাগো নিউজ: সীমান্তহত্যা, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, ভারতের নাগরিকত্ব বিল (এনআরসি) নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তো অস্বস্তি আছে...

শাহরিয়ার আলম: নাগরিকত্ব বিল ভারতের একেবারেই নিজস্ব বিষয়। আমরা এমন কোনো আইন করলে অবশ্যই ভারতের নাক গলানো পছন্দ করব না। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আইন নিয়ে হস্তক্ষেপ করলে আমরা অবশ্যই মানব না। একইভাবে ভারত তার নিজস্ব বিষয়ও অন্যের নাক গলানো পছন্দ করবে না।

ভারতের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এজন্য বাংলাদেশ কোনো বিপদে পড়ছে না। এটি একদম তাদের নিজস্ব বিষয়।

আরেকটি প্রসঙ্গ তুলেছেন সীমান্ত হত্যা নিয়ে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কয়টি সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং ২০০৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার তুলনা করেন। গেল দু’বছর আগে সীমান্ত হত্যা এক বছরে সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছিল। গত ১২ বছরে সীমান্তহত্যা হয়েছে তার পূর্বের ১২ বছরের অর্ধেকেরও কম।

জাগো নিউজ: সীমান্তহত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার এবং আওয়ামী লীগের কাছে মানুষ এমনটিই প্রত্যাশা করেন...

শাহরিয়ার আলম: প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই বেদনাদায়ক। কিন্তু বাস্তবতাও আপনাকে দেখতে হবে। সীমান্তহত্যা আওয়ামী লীগের সময় অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে।

তিস্তা নিয়ে ফের আলোচনা হচ্ছে। আমরা শেষবার যখন ভারতে গেছি, তখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমরা তিস্তার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিস্তা ছাড়াও দু’টি প্রদেশের মধ্যে পানি প্রবাহ নিয়ে মামলা হয়েছে ভারতে। পানির বিষয়টি একটি জটিল ইস্যু। ভারত তার অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিস্তার পানি সমস্যার সমাধান করবে বলে বিশ্বাস করি।

জাগো নিউজ: ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে সমুদ্রসম্পদ (ব্লু-ইকোনোমি) নিয়ে নানা পক্ষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। পরাশক্তিগুলোও তৎপর এখানে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে কী বলবেন?

শাহরিয়ার আলম: ব্লু ইকোনোমি টোটালি অর্থনৈতিক টার্ম। এর সঙ্গে রাজনীতি বা পরাশক্তির সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না। পরাশক্তি শব্দটির সঙ্গে কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত আছে।

জাগো নিউজ: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা চীনের আগ্রহ থাকলে কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টিও আসে...

শাহরিয়ার আলম: সমুদ্রসীমা নিয়ে কিন্তু জটিলতা ছিল। পাশের দেশের সঙ্গেই এই জটিলতা। জননেত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু এক প্রকার নীরবেই এর সমাধান করেছেন। এটি শেখ হাসিনা সরকারের বড় অর্জন

ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে এর সমাধান হবে না জেনেই আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে এর সমাধান করা হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক আদালত কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে।

jagonews24

ট্রানজিট কানেক্টিভিটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১৮ শতাংশ, বলেছে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া শাখা

নদী-নালা, খাল-বিলের বাংলাদেশ। কৃষকের বাংলাদেশ। এখানে সমুদ্রসম্পদ আহরণের দীর্ঘ কোনো ইতিহাস নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করছে। যারা সমুদ্রসম্পদ আহরণে দক্ষ এবং অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেছে, তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই আমাদের বেশ কিছু চুক্তি হয়েছে। এটি নিয়ে আমাদের আরও কাজ করতে হবে।

তবে খনিজসম্পদ আহরণে সরকারের রোডম্যাপ আছে। খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ব্লু ইকোনমি নিয়ে একটি সেলও গঠন করা হয়েছে। সমুদ্রের মধ্যকার সম্পদ কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে আহরণ করা যায়, তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মৎস্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাছ আহরণের জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ এ দেশে প্রচুর সম্পদ দিয়েছেন। এখানকার মাটি উর্বর। কৃষিতেই সবাই অভ্যস্ত। আবার উপকূলের ২০ থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই এত পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় যে, জেলেরা আর গভীর সমুদ্রে যাওয়ার প্রয়োজনবোধ করেন না। ৫০ কোটি টাকা দিয়ে জাহাজ কিনে গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরবেন, এই বিনিয়োগ করতে চান না।

জাগো নিউজ: কিন্তু এই বিনিয়োগ সময়ের দাবি কি-না?

শাহরিয়ার আলম: অবশ্যই। সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুমোদন দিয়েছেন সমুদ্রসীমা এবং এখানকার সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার। জরিপ করতে আমরা বিদেশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করেছি। আশা করছি, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ আমরা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাবো। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আমরা বিভিন্ন পক্ষকে এখানে যুক্ত করতে পারব বলে আশা করছি।

জাগো নিউজ: আর নিরাপত্তার প্রশ্নে কী বলবেন?

শাহরিয়ার আলম: বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব মহলের আগ্রহের কমতি নেই। এই আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য যেমন সুখকর, তেমনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য সজাগ থাকারও ব্যাপার বটে। এটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। এক্ষেত্রে আমরা যেন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেই। আমরা যেন বিশেষ কোনো দেশ বা জোটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে না পড়ি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট সজাগ আছেন। আমরাও সজাগ।

সমুদ্রের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব সরকার শুরু থেকেই উপলব্ধি করে আসছে। আমাদের নৌ-বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে আসছে। নিরাপত্তা বিধানেও কাজ করে আসছে। আমরা বিভিন্ন জোট এবং দেশের কার্যক্রমগুলো কাছে থেকে মনিটরিং করব। বাংলাদেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য যেটা ভালো, শুধু সেটাই করব।

জাগো নিউজ: সরকার চীনের দিকে ঝুঁকছে বলে একটা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। চীনে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যম বিষয়টিকে ‘খয়রাতির সম্পর্ক’ও বলেছিল। এর জবাবে কী বলা যেতে পারে?

শাহরিয়ার আলম: ভারতেও আমাদের শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবেশ করে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে এই সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের অধিকার।

যারা এটি জানেন না তারা হয়ত লেখা-পড়া করেন না, নতুবা ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। আমরা কিন্তু এসব দেশকে আর দাতা বলি না। উন্নয়ন সহযোগী বলি। আমরা অবশ্যই ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিমভাবে সহযোগিতা করেছে। দুই কোটি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর অনেক দেশ আমাদের সাহায্য পাঠিয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশও এখন অন্য দেশকে সাহায্য করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই সক্ষমতা আরও বাড়ুক, মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই শক্তি দেন। দুর্বল দেশগুলোতে বাংলাদেশও বিনিয়োগ করবে নিঃশর্তভাবে। আমাদের অনেকেই সাহায্য করেছেন অনেক কঠিন শর্তে। আমরা এমন শর্তে সাহায্য করতে চাই না।

জাগো নিউজ: চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ভারতের যারা সমালোচনা করে লিখছেন তারা কী চাইছেন, সম্পর্কটা ভারতেই আটকে থাকুক?

শাহরিয়ার আলম: পত্রিকার লেখা দিয়ে দু’টি দেশের সম্পর্ক মূল্যায়ন করা যায় না। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা পত্রিকার শিরোনাম দেখে সম্পর্ক স্থাপন করেন না। আমরা সবই বুঝি। আমরা জানি, কারা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কখন কী লিখছেন।

সরকারপ্রধানরা সেটাই গ্রহণ করেন যেটা দেশ, দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর। পত্রিকার লেখা আমলে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই দেশ পরিচালনা করবেন না।

এএসএস/এইচএ/এমএস

দুই সপ্তাহ আগে বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া শাখার একটি গবেষণাপত্রে দেখিয়েছে, ট্রানজিট কানেক্টিভিটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১৮ শতাংশ আর ভারতের বাড়বে ৭ শতাংশ

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই বেদনাদায়ক। কিন্তু বাস্তবতাও আপনাকে দেখতে হবে। সীমান্তহত্যা আওয়ামী লীগের সময় অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে।

স্বাধীনতার পর অনেক দেশ আমাদের সাহায্য পাঠিয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশও এখন অন্য দেশকে সাহায্য করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই সক্ষমতা আরও বাড়ুক, মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই শক্তি দেন। দুর্বল দেশগুলোতে বাংলাদেশও বিনিয়োগ করবে নিঃশর্তভাবে

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলে ভারত অন্য রকম মনে করতে পারে, আবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলে চীন অন্যরকম মনে করতে পারে, এই বিরাগভাজনের রাজনীতিতে বাংলাদেশ নেই

পত্রিকার লেখা দিয়ে দু’টি দেশের সম্পর্ক মূল্যায়ন করা যায় না। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা পত্রিকার শিরোনাম দেখে সম্পর্ক স্থাপন করেন না। আমরা সবই বুঝি। আমরা জানি, কারা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কখন কী লিখছেন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]