অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে সুনীল অর্থনীতি

ইসমাইল হোসাইন রাসেল
ইসমাইল হোসাইন রাসেল ইসমাইল হোসাইন রাসেল
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ এএম, ৩০ মার্চ ২০২১

শ ম রেজাউল করিম। মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে মৎস্যখাতের অর্জন, করোনাকালে মৎস্যখাতের কার্যক্রম, ইলিশ উৎপাদন, সুনীল অর্থনীতি ও বিলুপ্ত মাছ পাতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাইল হোসাইন রাসেল।

জাগো নিউজ: স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের কোন অর্জনকে বড় করে দেখেন? মৎস্যখাতের অর্জন কতটুকু?

শ ম রেজাউল করিম: বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র যে একটা অপবাদের ভেতরে ছিল, দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছিল, খাবারের অভাবে লঙ্গরখানা খুলতে হতো, বিবস্ত্র মানুষকে দেখতে হতো, টাকার অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারতো না শিশুরা, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কোনো সুযোগ-সুবিধা পেতো না, বিদ্যুতের সুবিধা ছিল না, রাস্তার সুবিধা ছিল না, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো উন্নয়ন ছিল না, তার একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে এখন। বাংলাদেশ এখন উন্নত-সমৃদ্ধ আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। যেখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব নাগরিক সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়িত হচ্ছে। দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, এই পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজার মানুষকে ঘর এবং জায়গার মালিকানা দেয়া হয়েছে, ৯ লাখ লোককে এটি দেয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ফলে বলা যেতে পারে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ আধুনিক বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

জাগো নিউজ: করোনার পেক্ষাপটে মৎস্যখাতের কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন?

শ ম রেজাউল করিম: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যেসব কাজ, তার মধ্যে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম জাতীয় বিষয়গুলো সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি যে, প্রাণিসম্পদ অর্থাৎ গবাদি পশুর উৎপাদন বাড়াতে হবে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, ডিমের উৎপাদন বাড়াতে হবে, দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে। একটা সময় হাহাকার ছিল, মাছের আকাল বলা হতো। একসময় কোরবানি এলে ভারত বা মিয়ানমারের গরুর জন্য অপেক্ষা করতে হতো। সপ্তাহে একটা দিন ডিম খাওয়া অনেকে কল্পনাও করতে পারতো না।

গত দুটি কোরবানির ঈদে একটি পশুও বাইরে থেকে আসেনি বাংলাদেশে। বাজারে যে পশু এসেছিল বিক্রির জন্য, তার এক-দশমাংশ বিক্রিও হয়নি। এতো বেশি উৎপাদিত হচ্ছে। আমাদের পোল্ট্রি সেক্টরে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন গ্রাম থেকে শহরে প্রতিটি পরিবারে, আমার মনে হয় প্রতি বেলায় তারা মুরগির মাংস, খাসির মাংস, গরুর মাংস বা ভেড়ার মাংস খাচ্ছে।

ডিমের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আজ ডিমের ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন এতো পরিমাণ ডিম উৎপাদন হচ্ছে যে অধিকাংশ মানুষ কিন্তু দিনে দুইটি ডিম খেতে পারছে এবং অপেক্ষাকৃতভাবে কম মূল্যে তারা খেতে পারছে। দুধের উৎপাদন এতোটা বেড়েছে যে দুধ উৎপাদনকারীদের সহায়তা করার জন্য আমরা মিল্ক সেপারেটিং মেশিন দিচ্ছি, যা ভেতর থেকে সে দুধের ক্রিম আলাদা করে নিতে পারবে। প্রতিটি জেলায় আমরা কুলিং সেন্টার করছি। এই যে সেক্টরটা রয়েছে- গবাদি পশু, মুরগি-হাঁস ইত্যাদি, এর চিকিৎসার জন্য আমরা মোবাইল ক্লিনিকের ব্যবস্থা শুরু করে দিয়েছি। অর্থাৎ ক্লিনিক তার বাড়িতে চলে যাবে। একটা গরু, খাসি, ভেড়া নিয়ে আমার কাছে আসতে হবে না, আমার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। একটা ফোনে ডাক্তার তার বাড়িতে সরাসরি মোবাইল ক্লিনিক নিয়ে চলে যাবে। এখানে লাভটা হচ্ছে মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা যেমন মিটছে, তেমনি যারা বেকার তারা উদ্যোক্তা হচ্ছেন, তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসছে। অন্যদিকে যে মানুষগুলো কল্পনা করতে পারেনি চাকরি না পেলে কী হবে? সেই মানুষগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছলতার জায়গায় আসছে এবং উদ্যোক্তা হচ্ছে। আর গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। ফলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা যেমন পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছি, তেমনি উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি করার মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আনছি। দূর করছি বেকারত্ব, মানুষের গড় আয়ু বাড়ানোর মতো আমিষ সরবরাহও করছি।

এর বাইরেও একটা সমৃদ্ধি আছে, আমাদের প্রায় ১২৪ প্রকার মাছ হারিয়ে গিয়েছিল। সেই মাছ কিন্তু আমরা ফিরিয়ে এনেছি। আমরা মাছের লাইভ জিন ব্যাংক করেছি, ময়মনসিংহ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে। যে অঞ্চলের যে মাছগুলো পাওয়া যাচ্ছে না, আমরা সেই অঞ্চলে আমাদের ব্যাংক থেকে মাছের পোনা, চারা বা ডিম সেখানে ছেড়ে দেবো। সারাদেশে বাঙালির নিজস্ব স্বাদের যে মাছগুলো, সেগুলো তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। আমরা ইলিশের উৎপাদন সর্বোচ্চ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। দেশীয় মাছের উৎপাদন বেড়েছে, মিষ্টি পানির মাছের উৎপাদন বেড়েছে। এখন আমরা সমুদ্রের ভেতর থেকে টুনা ফিশসহ অপ্রচলিত মাছ এবং শৈবাল সংগ্রহ করার প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা নিয়েছি।

জাগো নিউজ: বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, মাছ হবে দ্বিতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সেক্ষেত্রে মাছ রফতানি নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?

শ ম রেজাউল করিম: মাছের ব্যাপক রফতানি বাংলাদেশ থেকে হয়, প্রধানত চিংড়ি মাছ। আমরা এখন সাদা মাছসহ দেশীয় মাছ রফতানির প্রক্রিয়ায় আছি। কানাডা, আমেরিকা, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে দেখবেন, দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা আছে বাংলাদেশের মিষ্টি পানির দেশীয় মাছ এখানে পাওয়া যায়। অর্থাৎ মাছের উৎপাদন আমরা এমন পর্যায়ে নিয়ে এসেছি যে, এই জাতীয় মাছ এখন আমরা বিদেশে রফতানি করছি এবং সেখান থেকে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। বঙ্গবন্ধু যে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করেছিলেন, সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি আশা করছি যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিপুল পরিমাণে ইলিশ মাছসহ সাদা পানির মাছ রফতানি করবো। পোশাকশিল্প থেকে যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, আমরা সেরকম একটি বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো মাছ রফতানি করে।

জাগো নিউজ: অনেক দেশই ইলিশ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, ইলিশ রফতানির বিষয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

শ ম রেজাউল করিম: ইলিশের বিষয়টাকে আমি এভাবে রেখেছি যে, ইলিশ উৎপাদন আগে বাড়াতে হবে। আমার দেশের সকল মানুষকে ইলিশের যে স্বাদটা, তাদের নিতে দেবো। আমরা এখনো বাণিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ ইলিশ রফতানি করছি না। তবে ইলিশ উৎপাদনের জন্য যেখানে ইলিশ ডিম পাড়ে, সেখানে একটা অভয়াশ্রম করেছি। যারা জাটকা নিধন করতো, তাদের বিরত করার জন্য কঠিন ব্যবস্থা নিয়েছি। মা ইলিশ যেন নিধন করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলে এ বছর গোটা বিশ্বে যে ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে, তার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের। আমি আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের ৯০ শতাংশ ইলিশের উৎপাদন বাংলাদেশে হবে। তখন আমরা ব্যাপক আকারে বিদেশে ইলিশ রফতানি করতে পারব।

jagonews24দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে ময়মনসিংহে গড়ে উঠেছে লাইভ জিন ব্যাংক

জাগো নিউজ: ৪ থেকে ১০ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ। এ বছর ইলিশ উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইলিশ উৎপাদন আগের চেয়ে বাড়ানোর বিষয়ে আপনাদের যে পরিকল্পনা, সেটি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন মনে করছেন?

শ ম রেজাউল করিম: জাটকা নিধন বন্ধ করার জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছি। নদীতে আমি নিজে অপারেশনে যাই। কোথায় জাটকা ধরা হচ্ছে, কারেন্ট জাল, বিন্দি জাল তৈরি হচ্ছে, এসব দেখছি। এমনকি যেসব জায়গায় জাল তৈরি হচ্ছে, আমরা সেসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে সেই জাল পুড়িয়ে দিচ্ছি, জরিমানার ব্যবস্থা করছি এবং সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করছি। আমরা একেবারে গভীরভাবে এটাকে পর্যবেক্ষণ করছি কঠোরভাবে। ন্যূনতম ছাড়ও কাউকে দিচ্ছি না। গতবার জাটকা নিধনে আমাদের সাফল্য ছিল, এবারে তার চেয়ে আরও অনেক বেশি সাফল্য আসবে।

jagonews24প্রায় ২২ প্রকারের হারিয়ে যাওয়া মাছ পাতে ফিরিয়েছে মৎস্য মন্ত্রণালয়

জাগো নিউজ: করোনাকালে বিভিন্ন ফার্মের পণ্য ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে বিষয়ে যদি কিছু বলেন?

শ ম রেজাউল করিম: করোনাকালে আমরা লক্ষ্য করলাম মাছ, মাংস, দুধ, ডিম যারা উৎপাদন করছেন বা বিপণন করছেন, তারা বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ করোনার প্রথমদিকে কিন্তু গাড়ি বা কিছুই চলত না। দোকানপাট বন্ধ ছিল, মানুষ তার বাসার গেটটাও বন্ধ করে রাখতো। ফলে উৎপাদনকারীদের ভয়াবহ বিপন্ন অবস্থায় পড়তে হলো। অপরদিকে যারা মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খেতে চাইত, খাবারের একটি অংশ তো এটি এবং আমিষ ও পুষ্টির সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত; দেখলাম তারাও পাচ্ছে না। অর্থাৎ উপকারভোগী এবং বিপণনকারী দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তখন আমরা একটা কন্ট্রোল রুম করলাম, এবং পরিকল্পনা নিলাম ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র চালু করব। তখন আমরা বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র চালু করি। এতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি হয়েছে। সেটির ফলে মানুষ যেমন পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটাতে পেরেছে তেমনি করোনা প্রতিরোধের জন্য তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে পুষ্টি সেটা সরবরাহ করতে পেরেছে। একইসঙ্গে যারা উৎপাদনকারী খামারের মানুষ, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যারা বিক্রেতা তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীও এই পরিকল্পনাটার ভীষণ প্রশংসা করেছেন যে, এটা অভিনব হলেও সময়োপযোগী ছিল।

jagonews24এক দশকে ইলিশ উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। ছবি : সংগৃহীত

জাগো নিউজ: মৎস্যখাতের কোন বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন এবং সেগুলো উত্তরণে আপনার ভাবনা কী?

শ ম রেজাউল করিম: মৎস্যখাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের দেশের বিভিন্ন নদী, হাওর-বাওরে কৃত্রিম ওষুধের ব্যবহার। চাষাবাদের নামে নদীগুলোতে বিভিন্ন যানবাহন থেকে পচনধরা এবং ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল ঢেলে দেয়া হয়। পাশাপাশি ইরি-বোরো চাষের ক্ষেত্রে যে কেমিক্যাল জাতীয় সার দেয়া হয় সেই সারের ফলে পানির ভেতরে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছ এবং মাছের ডিমগুলো থাকে, সেগুলো ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য জলাশয়গুলোতে, যেসব এলাকায় অভয়াশ্রম, যেখানে মাছ ডিম দেবে, বা মাছের বাচ্চাগুলো বেড়ে উঠবে, সেসব এলাকাগুলোকে সংরক্ষণ করা এবং পানি রক্ষা করা—এটা এখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

jagonews24মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

জাগো নিউজ: সাগরকেন্দ্রিক ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এটি নিয়ে শুরু থেকেই আপনি ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চাই?

শ ম রেজাউল করিম: সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আমরা সমুদ্রে অপ্রচলিত মাছ, শৈবাল, যে শৈবালগুলো খুবই মূল্যবান। শুধু তাই নয়, এগুলি খুবই স্বাদের এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ। সেগুলোকে সংগ্রহ করে বিদেশে রফতানি করতে পারি এবং দেশের চাহিদা মেটাতে পারি। সমুদ্রের গভীরে আমাদের অনেক অনেক খনিজদ্রব্য রয়েছে। আমাদের অনেক দামি মাছ যেমন টুনা মাছ, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে টুনা মাছ ধরা হয়নি। আমরা সরকারিভাবে একটা প্রকল্প নিয়েছি যে, আমাদের টুনা ধরার দেখাদেখি অন্যরাও চলে আসবে। আমরা শ্রীলঙ্কার যারা টুনা মাছ ধরতে অভ্যস্ত তাদের নিয়ে আসছি। ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশ থেকে যারা এক্সপার্ট সেখান থেকে তাদের যে নৌযান দিয়ে এটা ধরা হয় এবং এক্সপার্ট লোক যারা, তাদের নিয়ে আসছি। আমরা একটা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি যে, সমুদ্রে যেসব সম্পদ এখনো আহরণ করতে আমরা যেতেই পারিনি, সেসব সম্পদ আহরণ করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক সম্পদ রয়েছে। যার বিশাল একটি আধার আমাদের সমুদ্র এলাকায়।

jagonews24সাগরের টুনা মাছ ভীষণ স্বাদের

জাগো নিউজ: বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে আপনাদের উদ্যোগ কী?

শ ম রেজাউল করিম: দেশীয় প্রজাতির প্রায় ১২৪ প্রকার মাছ অধিকাংশ এলাকা থেকে হারিয়ে গেছে। চুসরা মাছ, নন্দি মাছ, ভেনি মাছ, টাকি মাছ, খলিসা মাছ—বিভিন্ন এলাকায় এমন ছোট ছোট মাছ ছিল, সে মাছগুলি হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, মাঠে যেখানে মাছ বড় হতো সেখানে চাষাবাদ করতে গিয়ে মাঠটাকে একেবারে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করে ফেলেছি। সেখানে দেখা গেলো চৈত্র মাসে কোনো পানি আর থাকে না। ফলে দেখা যায় মাছের ডিমগুলি থাকার জায়গা থাকে না। অনেকে পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। অনেক এলাকায় কীটনাশকের ব্যবহার হয়েছে ব্যাপক। কৃত্রিম রাসায়নিক সার ব্যবহার হয়েছে, এভাবে ওই অঞ্চলের মাছগুলো নষ্ট হয়েছে। আমরা এখন একটি লাইভ জিন ব্যাংক করেছি মাছের। সেখানে আমরা বিভিন্ন গবেষণার ভেতর থেকে বৈজ্ঞানিক প্রজনন পদ্ধতিতে হারিয়ে যাওয়া মাছগুলোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে প্রায় ২২ প্রকারের হারিয়ে যাওয়া মাছকে আমরা ফিরিয়ে এনেছি। তাদের বাচ্চা, ডিম আমরা ভালোভাবে উৎপাদন করতে পেরেছি। ক্রমান্বয়ে আমরা আরও এগিয়ে যাবো।

যেসব মাছ এখন পাওয়া যায় না, সে মাছ আমরা দেশের সব এলাকায় ছড়িয়ে দেব। আবার সেই মাছে ভাতে বাঙালি এবং বাঙালির নিজস্ব চরিত্র, বাংলাদেশের চরিত্র আবার ফিরে আসবে।

আইএইচআর/এইচএ/জেআইএম

গত দুটি কোরবানির ঈদে একটি পশুও বাইরে থেকে আসেনি বাংলাদেশে। বাজারে যে পশু এসেছিল বিক্রির জন্য, তার এক-দশমাংশও বিক্রি হয়নি। এতো বেশি উৎপাদিত হচ্ছে

এ বছর গোটা বিশ্বে যে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে, তার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের। আমি আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের ৯০ শতাংশ ইলিশ উৎপাদন বাংলাদেশে হবে

মৎস্যখাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের দেশের বিভিন্ন নদী, হাওর-বাঁওড়ে কৃত্রিম ওষুধের ব্যবহার

পোশাকশিল্প থেকে যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, আমরা সেরকম একটি বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো মাছ রফতানি করে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]