রোগীর বয়স যত বেশি ছাড়ও তত বেশি

ইয়াসির আরাফাত রিপন
ইয়াসির আরাফাত রিপন ইয়াসির আরাফাত রিপন
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ১৬ মে ২০২১ | আপডেট: ১২:২৬ পিএম, ২০ মে ২০২১

দেশে প্রায় দেড় কোটি প্রবীণ মানুষের বসবাস। আগামী ২০ বছরে এ সংখ্যা চার কোটিতে দাঁড়াবে। বিপুল সংখ্যক এ জনগোষ্ঠীর সেবার মান নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন থেকে গেছে। প্রবীণদের সেবায় কাজ করছে রাজধানীর বারিধারার আট নম্বর রোডের সিনিয়র সিটিজেন হাসপাতাল। সেখানে একজন প্রবীণের বয়স অনুপাতে চিকিৎসা ব্যয়ে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। প্রবীণের বয়স যত বেশি তার চিকিৎসার খরচে তত বেশি ডিসকাউন্ট বা ছাড় দিচ্ছে হাসপাতালটি।

তাছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিনিয়র নাগরিকদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারও খুলতে যাচ্ছে এ হাসপাতাল। সেখানে দিনের বেলায় সমবয়সী একাধিক প্রবীণ শরীর চর্চা, গল্প, আড্ডা, খেলাধুলার সুযোগ পাবেন। দিন শেষে যে যার মতো নিজ বাসায় ফিরে যাবেন, খোশ মেজাজে।

সিনিয়র সিটিজেন হাসপাতাল পরিচালনা, তাদের নানা উদ্যোগসহ সার্বিক বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালটির মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সামনুন এফ তাহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত রিপন-

জাগো নিউজ: দেশের মধ্যে এ ধরনের হাসপাতাল চালুর ধারণা কীভাবে এলো?

ডা. সামনুন এফ তাহা: দেশে এমবিবিএস শেষ করে জুনিয়র চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছি বেশকিছু দিন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যাই। প্রথমে মেডিসিনের ওপর এমআরসিপি (স্নাতকোত্তর মেডিকেল ডিপ্লোমা) করি। সেখানে প্রবীণদের হাসপাতালে আমার পোস্টিং হয়েছিল। তখন প্রবীণ মেডিসিন সাবজেক্টটা অতটা তৈরি হয়নি ইংল্যান্ডে। ২০০৬-২০০৭ সালে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান অব লন্ডন ডিগ্রি চালু করে ‘প্রবীণ মেডিসিন বা জেনেটিক মেডিসিন’। সেটাই প্রথম ডিগ্রি, এ ডিগ্রি করতে শর্ত ছিল আগে মেডিসিন ডিগ্রি থাকতে হবে।

আমি সেটার ওপর ডিগ্রি সম্পন্ন করতে দ্বিতীয়বারের মতো লন্ডন যাই। ওই সময় অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করলাম যে, হাসপাতালগুলোতে ৭০-৮০ শতাংশ রোগী প্রবীণ। নবীনরা সহজে অসুস্থ হচ্ছেন না, মেডিসিনের যেসব কোর্স ছিল সব জেনেটিক মেডিসিনের ওপর। ব্রিটেনে স্বাস্থ্য চালায় সরকার। সরকার প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করবে, এজন্য বিশেষায়িত লোকবল প্রয়োজন।

ডিগ্রি শেষ করে দেশে আসি এবং জেনেটিক মেডিসিনের প্রসারের লক্ষ্যে কাজ শুরু করি। আমাদের নারীদের গড় আয়ু ৭৩.৫ বছর আর পুরুষের ৭০ বছর, যেটা ১৯৭১ সালে ছিল ৪৭ বছর। আয়-উন্নতি, খাদ্যাভাসসহ নানা কারণে গড় আয়ু বাড়ছে। ইংল্যান্ডে ২০০৭ সালে জেনেটিক মেডিসিন শুরু হওয়ার আগে গড় আয়ু কম ছিল, এখন তা ৮০ বছর। সেখানকার জনগোষ্ঠীর ২৩ শতাংশ মানুষ প্রবীণ, তাদের সংখ্যা এক কোটি। আমাদের দেশে প্রবীণের হার ৮-৯ শতাংশ হলে সংখ্যার বিচারে সেটা দেড় কোটির মতো। যুক্তরাজ্যে এক কোটি মানুষের জন্য ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে, আমাদের দেশে তা সম্ভব নয়। আমাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন দরকার। যুক্তরাজ্যের কর্মকাণ্ড দেখে প্রবল ইচ্ছা জাগে দেশে এরকমই একটা কিছু করার।

jagonews24

জাগো নিউজ: আমাদের দেশে প্রবীণদের চিকিৎসার সঙ্গে পশ্চিমা চিকিৎসা ব্যবস্থার পার্থক্যটা কী?

ডা. সামনুন এফ তাহা: দেশের হাসপাতালের নিউরোলজি ওয়ার্ড বা অন্য ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর বেশিরভাগই প্রবীণ, যাদের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে। এখন প্রবীণবিষয়ক জ্ঞানটা আরও ডেভেলপ করা প্রয়োজন আমাদের। অনেক সময় চিকিৎসক নিজেই বলেন, ‘বয়স অনেক হয়েছে এখন বাসায় নিয়ে ভালো মতো খাবার খেতে দিন, আর বাঁচবে না।’ এ কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন প্রবীণ বাড়ছে উন্নয়নশীল দেশে। প্রবীণ ও তরুণদের চিকিৎসা আলাদা। কোভিড-১৯ রোগে প্রবীণরাই বেশি আক্রান্ত, আবার মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশ প্রবীণদের। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নানা সমস্যা—ডায়াবেটিস, কিডনি, হার্টের সমস্যা, ব্যথা যোগ হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতেও রোগ আছে। সেখানে কেয়ারটা (সেবা) অনেক ভালো, যেটা আমাদের এখানে সচরাচর নেই।

জাগো নিউজ: নবীন ও প্রবীণের হাসপাতাল চিকিৎসার ধরন কেমন?

ডা. সামনুন এফ তাহা: হাসপাতালে তরুণ নিউমোনিয়া রোগী এলে তাকে ওষুধ দিলাম, সে সুস্থ হয়ে চলে গেল। কিন্তু প্রবীণের নিউমোনিয়া হলে জীবনটাই তছনছ হয়ে যায়। তরুণ যত দ্রুত সেরে ওঠে, প্রবীণ সেভাবে পারেন না। তরুণ সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোসল, দাঁত ব্রাশ, কাপড় পরা, বাসে ওঠা বা হেঁটে যাওয়াসহ সব কাজ করতে পারে, প্রবীণের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। প্রবীণের নিউমোনিয়া হলে তার শরীরে বিভিন্ন ব্যথা থাকে, এতে সাধারণ কাজ করতে পারেন না। ধনী-গরিব যেই হোন, প্রবীণের প্রোটিনের অভাব থাকে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভাস পরিবর্তন হয়, এতে শরীরের আচরণেও পরিবর্তন হয়। প্রবীণরা একটু ঝাল কম খান, লবণ বেশি প্রয়োজন ইত্যাদি কারণে পরিবারের খাবারে স্বাদ পান না, কম খান।

প্রবীণ একটি রোগ নিয়ে হাসপাতালে এলে ভিন্ন আরেকটি রোগ তাকে আক্রান্ত করে বসে। হাসপাতালে বেশিদিন রাখা মানেই ভিন্ন একটা ইনফেকশন তাকে আক্রমণ করবে। জেনেটিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের কাজ কীভাবে তাকে দ্রুত হাসপাতাল থেকে সুস্থ করে বাসায় নেয়া যায়। কীভাবে তার ২০ প্রকারের ওষুধ কমিয়ে অল্প সংখ্যক ওষুধ দিয়ে সুস্থ করা যায়। এটা নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি এখানে।

জাগো নিউজ: উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশের প্রবীণদের ভিন্নতা কেন?

ডা. সামনুন এফ তাহা: আমাদের দেশে এখন দেড় কোটি প্রবীণ, যা আগামী ২০ বছরের মধ্যে চার কোটি হবে। আমাদের চলার পথ প্রবীণবান্ধব নয়, বাথরুমগুলোর অবস্থাও একই। উন্নত দেশে বৃদ্ধদের কাজের সুযোগ করে দেয়া হয়, উৎসাহ দেয়া হয়। জাপানে ৭০ বছর বয়সেও তাকে তরুণ বলা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে তিনি বৃদ্ধ। যখন কেউ নিজেকে নিজেই বৃদ্ধ ভাববেন, বাস্তবে তিনি বৃদ্ধ হবেন। আবার তরুণরাও প্রবীণদের কাছে টানে না। কোনো একটা দোকানে আড্ডা দেবেন, দোকানি প্রবীণদের বলেন, চাচা চলে যান পোলাপান বসবে। এতে তাকে ভিন্ন করে দেয়া হলো, তাকে সঙ্গে নিয়ে করলে আনন্দ বেড়ে যেত প্রবীণের। এ কারণে প্রবীণরা অনেক দিন পর্যন্ত বাঁচেন সেখানে। অথচ এখানে শেষ ১০-১৫ বছর বিছানায় কাটে। কিন্তু বিছানায় কাটলে বেঁচে থাকার আনন্দ থাকে না। এটা উপভোগ করতে প্রবীণবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে বিশ্বে।

jagonews24

তরুণরা আড্ডা দেন, প্রবীণদের তারা চান না, রেস্টুরেন্টে যেতে পারেন না প্রবীণরা। আমরা প্রবীণবান্ধব হতে পারিনি, তাদের জায়গা করে দিতে পারিনি। বাচ্চাদের এই ধারণা দিতে হবে। তারা একা হয়ে যাচ্ছেন। তবে সামাজিক ব্যবস্থার একটা পরিবর্তন আসছে। সিঙ্গাপুর-কোরিয়ায় বাবা-মা একসঙ্গে থাকেন। দিনের বেলায় তাদের ডে-কেয়ারে রাখা হয় আবার দিনশেষে তারা বাড়িতে চলে আসেন। সবাই উৎফুল্লভাবে ফিরে আসেন। এখন লিমিটেড হয়ে গেছে সমাজ। তাদের সময় দিতে পারছে না পরিবার। এতে তাদের (প্রবীণ) শরীর খারাপ থাকলে মন খারাপ থাকে। আপনি (তরুণ) স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু তাদের স্বপ্ন নেই।

আবার প্রবীণদের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে হেলথ ইন্স্যুরেন্স দ্রুত সবার জন্য বাস্তবায়ন জরুরি, যেটা আমাদের দেশে ১ শতাংশের কম। অথচ রুয়ান্ডার মতো দেশে ৯৫ শতাংশ ইন্স্যুরেন্সের আওতায়। এটা সরকারের সদিচ্ছায় হয়, আমি-আপনি ট্যাক্স দিচ্ছি, কেন হবে না। উন্নত দেশে প্রবীণ রোগী হাসপাতালে এলে আগে ঠিক করতে হয় কবে তাকে ছাড়পত্র দেব। তার আরও কোনো সমস্যা আছে কি-না, ব্যায়াম রেগুলার হবে কি-না, এটা নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজে লেগে যায়।

জাগো নিউজ: প্রবীণদের চিকিৎসায় আপনাদের কী ধরনের উদ্যোগ রয়েছে?

ডা. সামনুন এফ তাহা: প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সচরাচর নেই, আমরা সব ধরনের চিকিৎসা নিয়ে এসেছি। প্রবীণদের স্ট্রোক সমস্যা খুব বেশি। তাদের ব্রেনের একটা অংশ নষ্ট হলে অন্যটি সচল করার চেষ্টা করি, যেন রিকভার করতে পারেন তিনি। এজন্য রোবোটিক ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন, যেটা আমাদের কাছে আছে। স্ট্রোক করা রোগী খেতে পারেন না, কথা বলার সমস্যা, সবই দূর করার চেষ্টা করি। আমাদের দেশে প্রবীণদের মাথা ঘোরানো বড় সমস্যার একটি। তাদের কেন মাথা ঘুরছে এটা বের করতে পারি। এজন্য নিউরোটলজি বিভাগ আছে আমাদের এখানে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা আছে।

আবার নারীদের ক্ষেত্রে ইউরিনে সমস্যা থাকে। হাঁচি-কাশি দিলেই এ সমস্যাটা আছে। এটা ঠিক হতে ওষুধ সব সময় কাজ করে না। এটার জন্য বায়োফিডব্যাক মেশিন ইনস্ট্রুমেন্ট দেয়া হয়। তাছাড়া প্রবীণদের বড় সমস্যা পিঠের সমস্যা, পায়ে ব্যথা, বসতে পারেন না, হাঁটতে পারেন না। নরমালি সার্জারি করতে ২-৩ ঘণ্টা অজ্ঞান রাখতে হয়। কিন্তু আমরা অ্যান্ডোসকপি সার্জারি শুরু করেছি, এতে অজ্ঞান করা লাগে না। শুধু দুটো ফুটা করে ব্যথার সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি।

jagonews24

তাদের বয়স যত বাড়ে অসুখ ততো বাড়বে। হার্ট, ব্লাড প্রেসার, হাঁটুর ব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা। এটার ট্রিটমেন্ট ভিন্ন, নরমাল ব্যথার ওষুধে সারে না। আমাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা আছে, আমরা ব্যথার নার্ভটাকে ব্লক করে দেই আরএফ (রেডিও ফিজিওসি) মেশিন দিয়ে। যেটা আমাদেরই আছে, আর কোথাও নেই। নার্ভটাকে ব্লক করে দিলে দুই বছরের মধ্যে আর ব্যথা আসে না, এটা একটা বিরাট সময়। এ বিশেষায়িত চিকিৎসা সারাদেশেও ছড়িয়ে দিতে হবে।

জাগো নিউজ: চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই হাসপাতালমুখী হতে ভয় পান, এ বিষয়ে জানতে চাই।

ডা. সামনুন এফ তাহা: আমরা চেষ্টা করছি প্রবীণ চিকিৎসায় কীভাবে খরচ কমানো যায় সে বিষয়ে কিছু করার। আমরা আইসিইউ প্যাকেজ দিচ্ছি। বয়সভিত্তিক ডিসকাউন্ট চালু করেছি। ৬০ বছরের ওপর বয়স যাদের, তাদের ৬০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে, ৭০ বছরের ওপরে ৭০ শতাংশ, ৮০ বছর হলে ৮০ শতাংশ ডিসকাউন্ট। বেস্ট প্রাইস ধরেই ডিসকাউন্ট, এখানে দাম বাড়িয়ে কোনো ডিসকাউন্ট দেয়া হয় না, যে কেউ চাইলে চেক করে দেখতে পারবেন। একজন রোগীকে ৭০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিলে হয়তো হাসপাতালের লাভ থাকে না। ৭০’র ওপর একজন রোগীর অনেক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়, সেটা ব্যয়বহুল। অর্থনৈতিকভাবে সেটা করা হয় না, অনেক টাকা বিল আসে, সেটা বন্ধ করার জন্য এটা করেছি।

jagonews24

জাগো নিউজ: কেন এমন ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা?

ডা. সামনুন এফ তাহা: অনেকেই বলেন আমরা লোকসানে সেবা দিচ্ছি কি-না। তবু একজন বয়স্ক মানুষ আমাদের দেশের জন্য, পরিবারের জন্য ৬০-৭০ বছর ধরে কাজ করে গেলেন, তাদের এটুকু সেবা দেয়া উচিত। এটা না দিলে আমাদের সিনিয়র সিটিজেন হাসপাতালের নাম থাকল কী? এটা প্রবীণদের চিকিৎসার একটা অংশ মাত্র। এর পাশাপাশি আমরা হোমকেয়ার সাপোর্ট দিচ্ছি। এরপর প্রবীণ ডে-কেয়ার সেন্টার দেয়ার ইচ্ছা আছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। এতে তারা ভালো থাকবেন এবং শেষ জীবনটাও তারা উপভোগ করতে পারবেন।

জাগো নিউজ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রবীণবান্ধব সমাজ নিয়ে কিছু বলুন...

ডা. সামনুন এফ তাহা: প্রবীণরা ঘরেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পশ্চিমাবিশ্ব এখন বৃদ্ধাশ্রম থেকে বেরিয়ে আসছে। তারা কমিউনিটি সাপোর্ট দিতে চাচ্ছে। যেখানে একজন প্রবীণের খাবার সমস্যা হলে কেউ রান্না করে দিয়ে আসবেন, গোসলের সমস্যাটা অন্য একজন দেখবেন। আমাদেরও কমিউনিটি বেজড সাপোর্ট তৈরি করতে হবে, আমাদের হসপিটালটা ঠিক সে রকমই। বৃদ্ধাশ্রম কোনো সাপোর্ট নয়, এটা সেকেলে, কষ্টকর জায়গা। যেখানে একজনকে মৃত্যুর প্রহর গোনার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এটা তরুণদের জানাতে হবে, সচেতন করতে হবে। সমাজ এমনভাবেই করতে হবে যেখানে তরুণ-প্রবীণ একসঙ্গে এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসবেন, সবাই আড্ডা দেবেন। একই নেটওয়ার্কের মধ্যে আনতে হবে তরুণ-প্রবীণদের।

ইএআর/এমআরআর/এইচএ/এমএস

প্রবীণ বিষয়ক জ্ঞানটা আরও ডেভেলপ করা প্রয়োজন আমাদের। অনেক সময় চিকিৎসক নিজেই বলেন ‘বয়স অনেক হয়েছে এখন বাসায় নিয়ে ভালো মতো খাবার খেতে দিন, আর বাঁচবে না।’ এ কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

জাপানে ৭০ বছর বয়সেও তাকে তরুণ বলা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে তিনি বৃদ্ধ। যখন কেউ নিজেকে নিজেই বৃদ্ধ ভাববেন, বাস্তবে তিনি বৃদ্ধ হবেন। আবার তরুণরাও প্রবীণদের কাছে টানেন না। কোনো একটা দোকানে আড্ডা দেবেন, দোকানি প্রবীণদের বলেন, চাচা চলে যান পোলাপান বসবে। এতে তাকে ভিন্ন করে দেয়া হলো, তাকে সঙ্গে নিয়ে করলে আনন্দ বেড়ে যেত প্রবীণের

হেলথ ইনস্যুরেন্স দ্রুত সবার জন্য বাস্তবায়ন জরুরি, যেটা আমাদের দেশে ১ শতাংশের কম। অথচ রুয়ান্ডার মতো দেশে ৯৫ শতাংশ ইনস্যুরেন্সের আওতায়। এটা সরকারের সদিচ্ছায় হয়, আমি-আপনি ট্যাক্স দিচ্ছি, কেন হবে না

বৃদ্ধাশ্রম কোনো সাপোর্ট নয়, এটা সেকেলে, কষ্টকর জায়গা, যেখানে একজনকে মৃত্যুর প্রহর গোনার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এটা কখনো চিন্তা না করে তরুণদের জানাতে হবে, সচেতন করতে হবে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]