চুক্তিতে ফিরল ডিএসই’র বড় তিন পদ, বঞ্চিত কর্মীরা

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ১৩ জুন ২০২১ | আপডেট: ১২:৪৮ পিএম, ১৩ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সি লেভেল, অর্থাৎ প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) পদ তিনটি আবারও চুক্তিভিত্তিক করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই তিনটি পদে দায়িত্বপালনকারীরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আওতায় চলে আসবেন।

সি লেভেলকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আওতায় আনার পাশাপাশি ১১ জনকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক (স্বেচ্ছা অবসর) দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এই ১১ জন টেলিফোন অপারেটর, কুক, ক্লিনার, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর পাশাপাশি স্থায়ী কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট, প্রোফিট বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস, দুপুরের খাবারের ভাতা, আর্ন লিভ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এর ভেতরেও কাউকে কাউকে বড় সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একজন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও একজন উপ-মহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) বেতন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া একজন ডিজিএমকে ৮ লাখ টাকা ইনসেনটিভ দেয়া হয়েছে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজারের অভ্যন্তরে এমন অবস্থা বিরাজ করায় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ চাকরি হারানোর শঙ্কাতেও ভুগছেন। তবে সিএফও, সিওও এবং সিটিও পদ তিনটি চুক্তিভিত্তিকে ফিরিয়ে আনায় বেশিরভাগ কর্মী খুশি হয়েছেন।

ডিএসই’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ৩৬০ জন। যা প্রয়োজনের থেকে ৭০-৮০ জন অতিরিক্ত বলে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কর্মীদের পেছনে প্রতিষ্ঠানটির বছরে ব্যয় হচ্ছে ৩৮ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এই অর্থের বড় শতাংশই নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর মধ্যে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা। অবশ্য বর্তমানে এমডি পদ খালি রয়েছে।

এদের মধ্যে সিএফও, সিটিও এবং সিআরও পদ তিনটি প্রথমে চুক্তিভিত্তিক পদ ছিল এবং সিএফও এবং সিটিও পদে দু’জন চুক্তিভিত্তিকে যোগদান করেন। তবে পরবর্তীতে তারা তাদের পদ স্থায়ী করে নেন। পদ স্থায়ী করা হলেও তাদের বেতন কাঠামো নতুন করে পুনঃনির্ধারণ করা হয়নি। উল্টো চুক্তিভিত্তিক উচ্চ বেতনের সঙ্গে তারা নিয়মিত কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ দিন ধরে। এনিয়ে ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভও সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতেই ডিএসইর সি লেভেলের পদ তিনটি আবার চুক্তিভিত্তিকে ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

সি লেভেল চুক্তিভিত্তিকে ফিরিয়ে নেয়ায় ডিএসইর কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করছেন। তবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আটকে রাখায় এবং ১১ জনকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ায় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

jagonews24

এ বিষয়ে ডিএসইর কর্মীরা অভিযোগ করেন, সি লেভেল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে, এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু তিন বছর ধরে আমাদের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রয়েছে। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ প্রোফিট বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস, দুপুরের খাবারের ভাতা, আর্ন লিভের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে নিচের পদে চাকরি করা ১১ জনকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়া হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, যারা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করছেন তারা বছরের পর বছর বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। অথচ প্রভাবশালীদের পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ডিএসইর আইটি বিভাগ সব থেকে বেশি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইটি সমস্যার কারণে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপসহ লেনদেনও সমস্যার মধ্যে পড়েছে। অথচ একজন সচিবের আত্মীয় হওয়ায় আইটি বিভাগের ডিজিএমকে ৮ লাখ টাকা ইনসেনটিভ দেয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ডিএসই’র সি লেভেল প্রকৃত পক্ষেই চুক্তিভিত্তিক ছিল। কিন্তু একটা সময় তারা তা স্থায়ী করে নেয়। আমরা মনে করি এটা চুক্তিভিত্তিকই হওয়া উচিত। এ কারণে এখন আবার চুক্তিভিত্তিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে তাদের পারফরমেন্স মূল্যায়ন করা যাবে।

jagonews24

১১ জন কর্মীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আগে ডিএসইতে বিভিন্নভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। যে ১১ জনকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়া হয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে এখন ডিএসইর কোনো কাজে লাগে না। এ কারণে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সম্মানের সঙ্গে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়া হয়েছে। আরও কিছু তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আটকে থাকার বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাজার পরিস্থিতি ভালো না থাকার কারণে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত ডিএসইকে নিতে হয়েছিল। তবে এখন বাজার পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। আমি মনে করি কর্মীদের তাদের যোগ্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিত। আশা করছি আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কর্মীদের স্থগিত থাকা সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

একজন সচিবের আত্মীয় হওয়ায় আইটি বিভাগের ডিজিএমকে ৮ লাখ টাকা ইনসেনটিভ দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান বলেন, তিনি কারও আত্মীয় কি-না সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ডিএসইর আইটিতে সমস্যা থাকলেও কিছু কর্মী আছেন যারা খুব ভালো কাজ করছেন। এরা ডিএসই ছেড়ে চলে গেলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর যাকে ৮ লাখ টাকা ইনসেনটিভ দেয়া হয়েছে তিনি খুব ভালো কাজ করেছেন বলে আমাদের কাছে প্রতিবেদন এসেছে। এই কাজ বাইরের কোনো মাধ্যম দিয়ে করতে গেলে ৫০ লাখ টাকার ওপরে খরচ হতো।

এমএএস/জেডএইচ/এসএইচএস/জেআইএম

সম্প্রতি ডিএসইর আইটি বিভাগ সব থেকে বেশি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইটি সমস্যার কারণে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপসহ লেনদেনও সমস্যার মধ্যে পড়েছে। অথচ একজন সচিবের আত্মীয় হওয়ায় আইটি বিভাগের ডিজিএমকে ৮ লাখ টাকা ইনসেনটিভ দেয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]